ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ, আওয়ামী লীগের শোডাউন

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী

প্রকাশিত: ১৬:২৩, ২ ডিসেম্বর ২০২২

রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ, আওয়ামী লীগের শোডাউন

রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশ

রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে এখন উত্তপ্ত রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের রাজনীতি। বিএনপির পাশাপাশি পাল্টা শোডাউন দিচ্ছে আওয়ামী লীগও। শনিবারের (৩  ডিসেম্বর) সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির সর্বাধিক মানুষের সমাগম করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। 

তবে এরই মধ্যে বড় শোডাউন দিয়ে অবস্থান জানান দিয়েছে রাজশাহী আওয়ামী লীগ। ফলে সামনে জাতীয় নির্বাচন ও বিএনপির গনসমাবেশ ঘিরে সমাবেশ আর বড় শোডাউন করে শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুদলই। এর ফলে চাঙা হয়ে উঠেছে রাজশাহীর তৃণমূলের রাজনীতি। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনঠাসা মৌলবাদী সংগঠন জামায়াত-শিবিরের অবস্থান নিয়ে নানা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে তর্ক-বিতর্কে উত্তাল এখন রাজশাহীর গ্রাম-গঞ্জের বাজার ও পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকান।  রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের সক্রিয়তায় উত্তপ্ত হচ্ছে রাজশাহীর রাজনীতির মাঠও। জাতীয় নির্বাচনের এক বছর আগেই প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বড় সমাবেশ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শনিবার রাজশাহীতে গণসমাবেশ করছে বিএনপি। 

ইতোমধ্যে সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে তাদের। সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা পৌচেছেন রাজশাহীতে। বিএনপি সমাবেশকে কেন্দ্র করে দুদিন আগে থেকেই নেতাকর্মীদের জমায়েত শুরু হয়েছে রাজশাহীতে। এক যুগের বেশী সময় ধরে ক্ষমাতার বাইরে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা রাজশাহীর গণসমাবেশে সরকারকে হলুদ কার্ড দেখানোর হুমকি দিয়েছেন। 

তবে বসে নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিএনপির সমাবেশের পাল্টা জবাব হিসেবে আওয়ামী লীগের সা¤প্রতিক কর্মসূচিগুলোতেও ব্যাপক লোকসমাগম হচ্ছে। চলমান বিভিন্ন ইউনিটের সম্মেলনগুলোতে শো-ডাউন দিচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। রাজশাহীতে বিএনপির গণসমাবেশের আগে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিশাল শোডাউন দিয়েছে  মহানগর আওয়ামী লীগ।

বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে বড় শো-ডাউনের বিপুল নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষ্যনীয়। এ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপেরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। 

লিটন বলেন, বিজয়ের মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগর বিশাল মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করলো। এই মানুষগুলোকে মাদ্রাসা মাঠে ঢোকালে মাদ্রাসা মাঠ ভরপুর হয়ে যাবে। যেইটার জন্য বিএনপি কয়েকদিন ধরে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে রাজশাহীর আটটি জেলার লোক ভাড়া করে নিয়ে এসে মাঠে ভর্তি করে দেখাতে চায়। 

লিটন বলেন, আওয়ামী লীগ মানেই জনগণের সংগঠন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিল তিল করে তাঁর যৌবনের সমস্ত উত্তাপ দিয়ে  দলটিকে সুসংগঠিত করেছিলেন। সেই দল আওয়ামী লীগকে দুর্বল ভাবেন না, শেখ হাসিনাকে দুর্বল ভাবেন না। 

খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, লন্ডনে বসে ক্যাসেট বাজায় তারেক জিয়া। আর সেই তারেক জিয়ার ক্যাসেট শুনে এরা এখানে আওয়াজ দেয়। আমরা বলতে চাই আপনাদের হাওয়া ভবন, চম্পা ভবন, খোয়াব ভবন ছিল। খোয়াব ভবনের মতো খোয়াব আর দেখেন না। 

খায়রুজ্জামান লিটন বিএনপি সমাবেশ করছে, আমরা জানি কেন করছে। নির্বাচনও করবেন। এখন বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করবেন না, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন করবেন না। আপনাদের জন্য নির্বাচন থেমে থাকবে না। 

লিটন বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিএনপি-জামায়াত যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব জনগণকে নিয়ে রাজপথে থেকে আমরা এই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করবো। 

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এ কর্মসূচি বিএনপির কর্মসূচির পাল্টাপাল্টি নয়। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত। সমাবেশের নামে কোন নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তা প্রতিহত করা হবে। 

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মীসূচিতে তাদের গণসমাবেশে তাদের কোন প্রভাব পড়বে না। এছাড়াও বাধা দিয়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের আটকানো যাবে না। রাজশাহীতে আজ তারা ১০ থেকে ১২ লাখ লোকের জমায়েত করবে। 

এদিকে বিএনপির গণসমাবেশ ঘিরে রাজশাহীতে আজ মৌলবাদী সংগঠন জামায়াত শিবিরও বিএনপির সঙ্গে মিলে শোডাউন দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজশাহীর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জায়ায়াত-বিএনপি জোট একসময় রাজশাহীতে শক্ত ঘাটি গেড়েছিলো। এখন বিএনপি জামাতের সঙ্গে নাই এটা মুখে বললেও ভেতরে ভেতরে জামায়াত শিবির সক্রিয় হচ্ছে। বিএনপির সমাবেশে তাদের একটি বড় অংশও অংশ নিয়ে শোডাউন দেখাতে পারে। 

রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রমানিক দেবু মনে করেন, রাজশাহীতে এখনও বিএনপির ভেতরের শক্তি জামায়াত শিবির। কার্যত জামায়াত শিবির অন্তরালে থাকলেও বিএনপির সঙ্গে একটি আতাত রয়েছে। সেই থেকে বিএনপি সমাবেশে মিশে জামায়াত শিবির শোডউন কিংবা নাশকতার চেষ্টা চালাতে পারে। 

রাজশাহী মহানগর পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বিএনপির সমাবেশ ঘিরে পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। সবকিছু নীবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করছে পুলিশ।

এসআর

সম্পর্কিত বিষয়:

monarchmart
monarchmart