ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২২ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১

গণপূর্তের গাইডলাইন

প্রকাশিত: ২১:০০, ২৫ জুন ২০২৪

গণপূর্তের গাইডলাইন

সম্পাদকীয়

বিলম্বে হলেও বোধোদয় ঘটেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের। ‘ক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে ভেরিয়েশন সংক্রান্ত গাইডলাইন-২০২৪’ জারি করেছে সরকারি সংস্থাটি। এতে বলা হয়েছে, প্রকল্প অনুমোদনের পর সময় ও ব্যয় আর বাড়ানো যাবে না। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বত্র স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রকল্পের জন্য জমি নির্ধারণ ও নকশা প্রণয়ন, ব্যয় প্রাক্কলন প্রস্তুত ও অনুমোদন, দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ ও চুক্তি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে দেওয়া হয়েছে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা।

তদুপরি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন নিজস্ব প্রকল্প ছাড়াও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এ গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে নির্মাণ কাজের চুক্তি বহির্ভূত ব্যয় বৃদ্ধিসহ সময়ক্ষেপণ প্রতিরোধ বা সহনশীল পর্যায়ে রাখতে প্রণয়ন করা হয়েছে এ গাইডলাইন। এর ব্যত্যয় ঘটলে উদ্ভূত জটিলতার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সরকারের প্রচলিত আইন ও বিধি বিধানের আওতায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এ গাইডলাইন যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে। 
সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার সতর্ক করে দেওয়ার পরেও দেখা যায়, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং বারবার সংশোধনের নামে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। উদাহরণত, বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের জন্য ১৯৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৫ সালে। প্রকল্পটি ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঐ বছরই আনা হয় প্রথম সংশোধনী। এতে ব্যয় ধরা হয় ১০৪ কোটি টাকা এবং মেয়াদ বাড়ানো হয় ১ বছর। ২০২০ সালে ব্যয় আরও ১৬১ কোটি টাকা বাড়িয়ে আনা হয় দ্বিতীয় সংশোধনী। বিষয়টি শেষ হয়নি এখানেই।

এবার তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে মূল প্রকল্পের চেয়ে বেশি ২৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে, ব্যয় ১১৬ শতাংশ বেড়ে ৭১৫ কোটি টাকা এবং ৫ বছরের প্রকল্প গিয়ে ঠেকেছে ১০ বছরে। এভাবেই সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর অপতৎপরতা-অপচেষ্টা চলছেই। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক ও সংগত যে, বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্প একটি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কিনা! 
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে রীতিমতো চাপে পড়েছে ছোট-বড় প্রায় সব দেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে যথাসময়ে সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে। দুঃখজনক হলো, এর পরেও প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ানো এবং ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। প্রকল্প সংশোধনীসহ সার্বিক বিষয়ে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এতে প্রকল্পের সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।

বারবার প্রকল্প সংশোধনীসহ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারি পরিপত্রে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এর লাগাম টেনে ধরতে না পারলে সরকারের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত ও ব্যাহত হতে পারে। এ অবস্থা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা জরুরি ও অপরিহার্য। অবশ্য সরকার ব্যয় সংকোচনে অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে ইতোমধ্যে। যেমন- গত অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দকৃত এক হাজার ৪৮৭টি প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ বি ও সি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় সীমিত অথবা স্থগিত করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানির দাম বাড়ানোসহ বিভিন্ন খাতে কমানো হয়েছে ভর্তুকির পরিমাণ। ফলে, সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমে আসবে, মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে এবং নিত্যপণ্যের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত।

×