ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

সকল অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে

ওবায়দুল কবির

প্রকাশিত: ২০:৪৩, ২২ জুন ২০২৪

সকল অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগ। আজ দলটির ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা এনেছে এই দল। আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী দলটিকে ৪৩ বছর ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামে দীর্ঘ নেতৃত্বদানকারী দলটি শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতাই দেয়নি, সকল অর্জন ও কল্যাণে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশকে মাথা তুলে দাঁড় করিয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। বাঙালি জাতি তাই দলটির প্রতি কৃতজ্ঞ।
তখন ভাষা আন্দোলনে উত্তাল পূর্ব পাকিস্তান। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে। এমন আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠা করা হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শামসুল হক ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। জেলে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে করা হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। বঙ্গবন্ধুর গতিশীল নেতৃত্বে তিনিই হয়ে ওঠেন দলটির মূল কাণ্ডারি।

১৯৫২ সালে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ’৫৩ সালের সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠা এবং সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলটির নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দেওয়া হয়। আওয়ামী মুসলিম লীগ হয়ে যায় আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব ও অক্লান্ত পরিশ্রমে খুব অল্প সময়ে সারাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে যায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক বিজয়ই এর প্রমাণ। 
১৯৫৭ সালে আন্তর্জাতিক রাজনীতির দ্বন্দ্বে ভেঙে যায় দলটি। মওলানা ভাসানী দল ভেঙে গঠন করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খান জারি করেন সামরিক শাসন। আওয়ামী লীগের সামনে তখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনীতি সাজাতে হয় নতুন আঙ্গিকে। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দলের মূল নেতৃত্বে থাকেন বঙ্গবন্ধু।

’৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন, ’৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ, ’৬৬ সালের বাঙালির মুক্তি সনদ ছয় দফা, ’৬৯ সালের গণ-আন্দোলন, ’৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় এবং ’৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। ’৫৩ থেকে ’৬৬ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন বঙ্গবন্ধু। ’৬৬ সালের সম্মেলনে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচন করা হয়, ’৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দলের পূর্ণ নাম হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’। 
’৭৪ সালে দেশের সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসাবে বঙ্গবন্ধু গঠন করেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল)। সদ্য স্বাধীন দেশকে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় এর বিকল্প ছিল না। সারাবিশে^ বঙ্গন্ধুর এই ধারণা প্রশংসিত হয়। ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির জনককে হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির নেতিবাচক প্রচার শুরু হয় বাকশালের বিরুদ্ধে। নানা কল্পিত ধারণা যুক্ত করে জনমনে বাকশাল সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়।

এমন একটি প্রেক্ষাপটে বাকশাল বিলুপ্ত করা হয় এবং পুনরুজ্জীবিত হয় আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ক্ষমতা গ্রহণকারীদের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয় আওয়ামী লীগ। শাসকগোষ্ঠী বুঝতে পেরেছিল মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই দলটিই একদিন হয়ে উঠবে তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। শুরু হয় দল ভাঙার ষড়যন্ত্র। জিয়াউর রহমানের সময়ই প্রথম দলের প্রবীণ নেতা মিজানুর রহমানকে দিয়ে দল ভাঙা হয়। এতে খুব একটা সুবিধা হয়নি।

সরকারি আনুকূল্য পেয়েও ’৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে মিজান চৌধুরীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল মাত্র ২টি আসন। নেতাকর্মীদের মধ্যে বার্তা পৌঁছে যায়। বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হলেও মূল ধারার আওয়ামী লীগ ধরে রাখে এর ঐতিহ্য।
উপদলীয় কোন্দল মোকাবিলা ও নেতৃত্বের সংকট উত্তরণে ১৯৮১ সালে অনুষ্ঠিত দলীয় কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। তখন তিনি ছিলেন ভারতে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া তাঁর দুই কন্যা- শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহেনাকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অনেকটা জোর করে শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন। সেদিন বিমানবন্দরে সৃষ্ট গণজোয়ারে ভেসে যায় সরকারের সকল বাধা। ঐতিহ্য ফিরে পায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি। এরপর থেকে ৪৩টি বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনা।
সংবাদকর্মী হিসাবে টানা ১৫ বছর মাঠে থেকে আওয়ামী লীগের সংবাদ সংগ্রহ করেছি। পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক হিসাবে আরও ১৫ বছর এবং নির্বাহী সম্পাদক হিসাবে গত দুই বছর ঘনিষ্ঠভাবেই পর্যবেক্ষণ করছি এই দলটিকে। ৩২ বছর ধরে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে দলটির নীতি, আদর্শ, লক্ষ্য, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণার ভা-ার গড়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুর বাকশালকে তখন যেভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছিল, সেভাবে আমি এর সঙ্গে কোনোমতেই একমত নই।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত বাকশাল নামে প্ল্যাটফর্মটির অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চার পদ্ধতি ছিল অসাধারণ। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া কারও পক্ষেই নেতা হওয়া সম্ভব ছিল না। পরবর্তী সময় কথিত বহুদলীয় গণতান্ত্রিক চর্চার চেয়ে বাকশালের গণতন্ত্র ছিল অনেক উন্নত। এছাড়া দলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চারও যৌক্তিকতা রয়েছে। দলের নিরঙ্কুশ ঐক্য সুরক্ষায় এটি সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ধরে রেখে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিক্রমার জন্য আর বেশি পথ খোলা নেই। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জন্য জাতীয় নির্বাচনে গণতান্ত্রিক চর্চা নিয়ে অনেক বিতর্ক করা যায়। এই আলোচনায় সেদিকে দৃষ্টি দিলে লেখার কলেবর দীর্ঘ হয়ে যাবে।      
বিগত ৭৫ বছরের আওয়ামী লীগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই দলটির নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছাড়াও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অসাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করে গঠন করা হয়েছিল পাকিস্তান। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আবেগ কাজে লাগিয়ে শুরু হয়েছিল মুসলিম লীগের রাজনীতি। অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানি শাসকদের দুরভিসন্ধি ধরা পড়ে। ধর্ম ব্যবসার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গড়া আওয়ামী লীগ। ধর্মের নামে, অধর্মের বিরুদ্ধে এবং অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের জন্য বাঙালির মন জিতে নেয় দলটি।    
আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশে  ফেরার পর শেখ হাসিনাকে প্রথম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয় দলের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনা। বঙ্গবন্ধুকন্যা অল্প সময়ের মধ্যেই সফল হন। অনেক নেতাই ভেবেছিলেন, শেখ হাসিনাকে সামনে রেখে তারা দল পরিচালনা করবেন। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন ভেঙে যায়। রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা অসাধারণ প্রজ্ঞা, চিন্তা এবং কঠোর পরিশ্রমে বঙ্গবন্ধুকন্যা হয়ে ওঠেন দলের নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য। তাঁকে ঘিরেই পরিচালিত হতে শুরু করে দল।

বিক্ষুব্ধ কিছু নেতা ভিন্নপথে হাঁটার চেষ্টা করেও সফল হননি। ধীরে ধীরে তিনিই হয়ে ওঠেন ঐক্যের প্রতীক ও বিকল্পহীন একক নেত্রী। জিয়াউর রহমানের পর এইচএম এরশাদের ৯ বছর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। এখানেই শেষ নয়, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দানের লক্ষ্যে কিছু সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিএনপির শাসনামলেও আওয়ামী লীগকে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হয়।     
১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করে। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে অনেকটা সময় কেটে যায়। এর মধ্যেই দীর্ঘদিনের রক্তাক্ত পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি স্থাপনে স্বাক্ষর করা হয় ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি। পাহাড়ে ফিরে আসে শান্তি। ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত হয় ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তি, কঠোর হাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাস দমন করা হয়। বাড়ানো হয় খাদ্য উৎপাদন। গ্রহণ করা হয় অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা। এই সময় কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের বাধা দূর করা হয়। শুরু হয় এই নির্মম হত্যাকা-ের বিচার প্রক্রিয়া। 
 ২০০১ সালের নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় বসে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি। দক্ষতার অভাব, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নিমজ্জিত বিএনপি সরকার উন্নয়নের পথে হাঁটতে পারেনি। আগের সরকারের আমলে গ্রহণ করা সকল প্রকল্প হয় বাতিল, না হয় হিমাগারে পাঠানো হয়। পরের দুই বছর সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারও তেমন কিছু করে উঠতে পারেনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতা গ্রহণ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ। তখন দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা খুবই নাজুক। ঘোষণা করা হয় ‘দিন বদলের সনদ’।

বিদ্যুৎ সংকট, খাদ্য ঘাটতি, জঙ্গিবাদ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ইত্যাদি নিয়ে পথ চলা শুরু করে নতুন সরকার। এখনো সেই সময়ের ভয়ানক দিনগুলোর কথা মানুষের মনে থাকার কথা। রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরে প্রতিঘণ্টায় লোডশেডিং, গ্রামগঞ্জে মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। বিদ্যুৎ সমস্যা দ্রুত সমাধানে ব্যবসায়ীদের নানা শর্ত মেনে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গ্রহণ করা হয় মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি অনেক প্রকল্প। মাত্র এক বছরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সহনীয় হয়ে ওঠে। 
কৃষি খাতে ভর্তুকিসহ নানা উদ্যোগ দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গ্রহণ করা হয় কঠোর মনোভাব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে দেশ এগোতে থাকে উন্নয়নের দিকে। ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করে বাঙালির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যবস্থা করা হয়।

জঙ্গিবাদ মোকাবিলা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, টানেল, আধুনিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, নারী উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা আজ দেশকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়; নাম লিখিয়েছে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর তালিকায়। শেখ হাসিনার উন্নয়ন প্রক্রিয়া এখন গোটা দুনিয়ায়। বিশ্ব মোড়লরা এখন এই দেশকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে বাধ্য হচ্ছে।

৪৩ বছর ধরে নেতৃত্বে আসীন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্য দিয়ে শেষ করতে চাই। গত বছর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ভূখ-ে প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জন জাতির পিতা ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই হয়েছে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সকল উন্নয়নের মূলেই রয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতির পিতার আদর্শ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আমাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা লড়াই-সংগ্রাম ও মানুষের আস্থা অর্জন করে আওয়ামী লীগকে জনমানুষের সংগঠনে পরিণত করেছে।

নেতাকর্মীদের মেধা, পরিশ্রম, ত্যাগ ও দক্ষতায় আওয়ামী লীগ আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে- এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, জনকণ্ঠ

×