ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

নীরব মহাঘাতক

প্রকাশিত: ২০:৩৯, ২২ জুন ২০২৪

নীরব মহাঘাতক

সম্পাদকীয়

শুক্রবার জনকণ্ঠের প্রথম পাতায় খবরটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটির শিরোনামÑ বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রধান কারণ বায়ুদূষণ। করোনাকালে আমাদের সমাজ অতিরিক্ত মৃত্যু সচেতন হয়ে উঠেছিল। মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হয়েছিল কড়াকড়ির ভিত্তিতে। সংক্রামক ব্যাধি, যেমন- নিউমোনিয়া-করোনা নয়, অসংক্রামক ব্যাধি ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, রক্তচাপও নয়; বায়ুদূষণের কারণেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে দেশে। তথ্যটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

কেননা, বায়ুদূষণ রোধে দেশে কোনো কার্যকর ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হচ্ছে না। বায়ুদূষণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নানা সময়ে নানা সুপারিশ এসেছে, যার কোনোটিই বাস্তবায়নের সক্রিয় উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। সম্প্রতি প্রকাশিত স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার রিপোর্টের পঞ্চম সংস্করণে দেখা গেছে, ২০২১ সালে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে অন্তত দুই লাখ ৩৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে উচ্চ রক্তচাপের কারণে দুই লাখ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে এক লাখ ৩০ হাজার ৪০০ এবং তামাকের কারণে এক লাখ ৩০ হাজার ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বায়ুদূষণে এক বছরে দেশে ১৯ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যুর সংবাদ আমাদের বিচলিত করে। প্রতিবেদনটি  তৈরিতে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট (এইচইআই)। বুধবার প্রকাশিত নতুন এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী বাতাসের মানের উদ্বেগজনক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষভাবে বলা প্রয়োজন, বাংলাদেশ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে লোয়ার রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণে পাঁচ বছরের কম বয়সী যত শিশুর মৃত্যু হয়, যার ৪০ শতাংশের জন্যই দায়ী নীরব মহাঘাতক বায়ুদূষণ। 
রাজধানী ঢাকা বায়ুদূষণের জন্য বিশ্বে প্রায়ই শীর্ষস্থান দখল করে থাকে। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ২ থেকে ৪ এর মধ্যে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের জন্য দায়ী প্রধানত নির্মাণ কাজের ধুলা, শিল্পকারখানা-ইটভাঁটি ও যানবাহনের ধোঁয়া। রান্নাবান্না ও শীত নিবারণে কয়লা, লাকড়িসহ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারও কম দায়ী নয়।

এমনকি প্রতিবেশী দেশের সীমান্তের ওপার থেকে ধেয়ে আসা দূষিত বায়ুকেও দায়ী করা হয়েছে। দেশে পরিবেশ অধিদপ্তর ও দুই সিটি করপোরেশনের দায়ও কম নয় কোনো অংশে। বলাবাহুল্য, তাদের কার্যক্রম সীমিত ও অপর্যাপ্ত। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২৯ সদস্যের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বায়ুদূষণসহ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ ও কার্যক্রম দৃশ্যমান নয় এখনো।

ফলে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, সর্দিকাশি, জ্বরসহ রোগব্যাধি বাড়ছেই। বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ ২১ দশমিক ৮ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমানো, স্বাস্থ্য ব্যয় হ্রাস এবং কর্মসংস্থানের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। বায়ুদূষণ প্রতিরোধে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টিতেও গুরুত্বারোপ করতে হবে।

×