ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

নিরাপদ আকাশ-সমুদ্র

-

প্রকাশিত: ২০:২৫, ১৯ জুন ২০২৪

নিরাপদ আকাশ-সমুদ্র

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশ বিমানের জনপ্রিয় থিম হলো আকাশে শান্তির নীড়। এর মাধ্যমে আকাশ ভ্রমণে শুধু আরামদায়ক সুব্যবস্থাই বোঝায় না, একই সঙ্গে বরং সার্বিকভাবে সর্বোচ্চমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বোঝায়। এবারে বাংলাদেশ বিমান আক্ষরিক অর্থে বাংলাদেশের আকাশ বাতাস ও সুবিস্তৃত বঙ্গোপসাগরে  সর্বতোভাবে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছে। বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্সের সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন ৪৫ মিটার উঁচু অত্যাধুনিক টাওয়ার ও রাডার সিস্টেম নির্মাণের পথে অগ্রসর হয়েছে। এটি নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে, যা পুরোপুরি কার্যকর হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের  মধ্যে। তবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এর মাধ্যমে আকাশের ওপর নজরদারি করছে। ফলে, উড়োজাহাজ চলাচল আরও সহজ সাবলীল ও নিরাপদ হয়েছে। 
ফ্রান্স থেকে রাডারের ইস্পাতের কাঠামো এনে দাঁড় করানো হয়েছে, যা দৃশ্যমান। এটিসি টাওয়ার ও অপারেশন বিল্ডিংয়ের কাজও শেষের পথে। প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে সর্বাধুনিক এই রাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের আকাশ ও সাগর সারাক্ষণ পাহারা দেওয়ার কাজটি সুসম্পন্ন হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানের বহুল ব্যবহৃত ৪৪ বছরের পুরোনো রাডার ও নেভিকেশন বাতিল হয়ে গেছে তিন মাস আগে। বেবিচকের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৭৩০ কোটি টাকার সুবিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ফ্রান্সের রাডার প্রস্তুতকারী কোম্পানি থ্যালেস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের সূত্র ধরে সরকার টু সরকার পদ্ধতিতে জোর কদমে এগিয়ে চলেছে প্রকল্পের কাজ। এর ফলে কমপক্ষে দেড় হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় হয়েছে। এটি পুরোপুরি কাজ শুরু করলে যে সব বিমান বাংলাদেশের বিমানবন্দর ব্যবহার না করে শুধু আকাশ পথ ব্যবহার করে থাকে, সেগুলোর কাছ থেকেও আদায় করা যাবে আকাশ ব্যবহারের জন্য ফ্লাইং ওভার ফি, যার পরিমাণ ৫০০ ডলার। ফলে, লাভবান হবে বাংলাদেশ বিমান। 
ইতোপূর্বে যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের সহযোগিতায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ঢাকায় প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে বাংলাদেশ এ্যাভিয়েশন সামিট-২০২৩, যা অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও তাৎপর্যপূর্ণ। মনে রাখতে হবে যে, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য দুটোই বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী পরাশক্তি। এ্যাভিয়েশন খাতে দেশ দুটির রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতাসহ অত্যাধুনিক বিমান নির্মাণ, যাত্রী ও মালামাল পরিবহনের অতুলনীয় রেকর্ড। সেসব থেকে প্রভূত উপকৃত হতে পারে বাংলাদেশ। তদুপরি ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান এবং সুবিধা বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থানও স্বভাবতই হতে পারে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের এ্যাভিয়েশন হাব গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১০ বছরে বিমানবন্দর, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং হয়েছে উন্নত। সর্বোপরি বহুজাতিক কোম্পানি এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। তবে এ্যাভিয়েশন খাতে আরও অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম এ ক্ষেত্রে যোগ করল নতুন মাত্রা, যার মাধ্যমে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ বিমান।

×