ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১

আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে

অসাধারণ সাহসী পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিক

ওবায়দুল কবির

প্রকাশিত: ২০:০৬, ১৫ জুন ২০২৪

অসাধারণ সাহসী পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিক

.

তাঁর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। দেখেছি একজন মেধাবী মানুষ কঠোর পরিশ্রম, অসাধারণ সাহসী ভূমিকা এবং আনুগত্যের মাধ্যমে কিভাবে হয়ে উঠেছিলেন জাতীয় নেতা। শুধু গুণী পিতার সন্তান হিসেবেই নয়, নিজের যোগ্যতা এবং একাগ্রতায় গঠন করেছিলেন নিজস্ব সত্তা, হয়ে উঠেছিলেন পরিপূর্ণ রাজনীতিক। সাংবাদিকতার সুবাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পর তাঁর খুব কাছে ছিলাম দীর্ঘ সময়। তিনি প্রয়াত সাবেক সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী চার জাতীয় নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর পুত্র এবং মেধাবী, তরুণ উদীয়মান নেতা তানভীর শাকিল জয়ের পিতা। গত ১৩ জুন ছিল তাঁর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। করোনা মহামারি ছোবলে অনেকের সঙ্গে তিনিও চলে গিয়েছিলেন কোটি কোটি অনুগামী, ভক্তকে ছেড়ে। দিনটি স্মরণ করে স্মৃতির পাতা থেকে কিছু অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরতে চাই। প্রত্যক্ষদর্শীর এই বিবরণ হয়তো কোনো দিন সমাজ পরিবর্তন নিয়ে গবেষকদের কাজে লাগতে পারে।  

স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র বামপন্থি বিপ্লবীদের তৎপরতা শুরু হয়েছিল। প্রথমদিকে চীনপন্থি বাম রাজনৈতিক দলগুলো এর নেতৃত্ব দেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল দুটি। মুক্তিযুদ্ধে এরা সরাসরি বিরোধিতা করেছিলেন। অনেক জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এরাই যুদ্ধ করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তারা মেনে নিতে পারেননি। স্বাধীনতার পরও প্রতিবিপ্লবের প্রত্যাশায় এরা সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। নকশালপন্থি এই বিপ্লবীদের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলা। শ্রেণিশত্রু খতমের নামে তারা কখনো রাতের অন্ধকারে আবার কখনো প্রকাশ্য দিবালোকে সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, ধনী, ব্যবসায়ী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের খুন করা শুরু করেন। আমি তখন খুব ছোট, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। রাজনীতি খুব একটা মাথায় নেই। আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হিসেবে বাড়িতে একটি রাজনৈতিক আবহ প্রত্যক্ষ করেছি সবসময়। চারদিকে তখন সর্বহারা নামে নকশালপন্থিদের জোর তৎপরতা। শুনেছি, এক সময় আমাদের পাশের থানার বাসিন্দা বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান ভুইয়াও এই বিপ্লবী রাজনৈতিক দলের নেতা ছিলেন। তখন সর্বহারাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সশস্ত্র বিভাগগণবাহিনী তারাও অস্ত্র হাতে নেমেছিলেন শ্রেণিশত্রু খতমের কাজে। ১৯৭৪ সালের ১৯ মার্চ এমনই এক গোষ্ঠীর হাতে প্রকাশ্যে ঈদের জামাতে খুন হয়েছিলেন আমাদের এলাকার সংসদ সদস্য গাজী ফজলুর রহমান। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ঢাকা-২২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বামপন্থি সর্বহারাদের শ্রেণিশত্রু খতমের প্রক্রিয়ায় এই জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার প্রাণ হারানো আমার কোমল হৃদয়ে দাগ কেটেছিল। একটি ভুল রাজনীতির কারণে সেই সময় এমন আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল।

তখন সদ্য স্বাধীন দেশে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন দেশ পুনর্গঠনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ তখনো নতুন সরকারের প্রতি বৈরী আচরণ করছিল। মার্কিন বলয়ের এই বৈরিতা কাটিয়ে উঠতে প্রাণান্ত চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সময় ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশের সকল রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট মেরামত করতে হচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থাও নড়বড়ে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। শ্রেণিশত্রু খতমের নামে তারা এক সময় শুরু করে বিত্তবানদের বাড়ি-ঘর লুট, রাতে ডাকাতি, রাহাজানি, ধর্ষণের মতো অপরাধমূলক কর্মকা- অবস্থা সামাল দিতে প্রশাসনকে সহায়তার জন্য বঙ্গবন্ধুকে গড়ে তুলতে হয় রক্ষী বাহিনী। আধা সামরিক এই বাহিনীর কঠোর তৎপরতায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি শান্ত হতে থাকে। এর মধ্যেই হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরও সর্বহারাদের তৎপরতা চলতে থাকে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আমাদের অঞ্চলে আশির দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকার নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্যও এই শক্তিকে কাজে লাগিয়েছে। বিশেষ করে এইচএম এরশাদের নয় বছরের শাসনামলে দেশের অনেক স্থানে নানা ধরনের সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় ছিল। এরশাদের পতনের পর খালেদা জিয়ার সরকারও এদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছে।অপারেশন ক্লিন হার্টছিল এমন একটি উদ্দেশ্যে পরিচালিত। এই অপারেশনটির বিরুদ্ধে অবশ্য পরে রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল।৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশের খুলনা বিভাগের দশ জেলায় সশস্ত্র বাহিনীর তৎপতা ছিল চরমে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও মানুষ হত্যার খবর পাওয়া যেত। লুটপাট এবং ডাকাতি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। সন্ধ্যার পর কেউ আর ঘর থেকে বের হতে সাহস পেতেন না। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য মোহাম্মদ নাসিমকে পূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণ করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

ছোটবেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুতে সর্বহারা নামে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে এক ধরনের বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছিল। এখনো স্পষ্ট মনে আছে, তখন খুলনা মহানগরীর পুলিশের কমিশনার ছিলেন আনোয়ারুল ইকবাল। পরে তিনি আইজিপি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হয়েছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে সৎ এবং দেশপ্রেমিক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন মোহাম্মদ নাসিম। দৈনিক জনকণ্ঠও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। প্রতিদিন এই অঞ্চলের নানা সন্ত্রাসী বাহিনীর তৎপরতার সংবাদ প্রকাশিত হতো জনকণ্ঠের পাতায়। পরদিনই শুরু হতো চিরুনি অভিযান। খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সেই সময় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাফিয়া ডন এরশাদ সিকদারকে। মোহাম্মদ নাসিম প্রায় প্রতিদিন দশ জেলার কোথাও না কোথাও সফর করতেন। প্রথমে গাড়িতে এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরে হেলিকপ্টারে করে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যন্ত চষে বেড়াতেন। তার এই তৎপরতায় প্রশাসন সাহসী হয়ে ওঠে। পাশাপাশি তিনি জনসভায় জ্বালাময়ী বক্তৃতায় উজ্জীবিত করেন সাধারণ মানুষকে। এক পর্যায়ে সাধারণ মানুষও সাহসী হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ নাসিমের জনসভায় ক্রমশ উপস্থিতি বাড়তে থাকে। শেষের দিকে প্রতিটি জনসভায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হতো।

দশ জেলার প্রতিটি উপজেলা এবং প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকের পাশাপাশি জনসভায় তৎপরতার মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের কোণঠাসা করে ফেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চিরুনি অভিযান চালিয়ে অনেক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করা হয়। লোক মারফত সন্ত্রাসীরা আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে মোহাম্মদ নাসিম সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। একেক এলাকায় আত্মসমর্পণের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অনেক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ঢাকায় এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আত্মসমর্পণ করে। জনকণ্ঠের রিপোর্টার হিসেবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোটা অভিযানটি দেখেছি খুব কাছ থেকে। শুধু সংবাদকর্মী হিসেবেই নয়, সন্ত্রাসী এই গোষ্ঠীর প্রতি বিরূপ মনোভাবের কারণে এই অভিযানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গী হয়ে গিয়েছিলাম। প্রতিটা সফরে তাঁর সঙ্গে থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেছি। চোখের সামনে দেখেছি একজন যোগ্য মানুষের সৎ তৎপরতায় কিভাবে রাষ্ট্রের একটি বড় সমস্যার সমাধান হতে পরে। 

খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাগুরা, নড়াইল চুয়াডাঙ্গা প্রভৃতি জেলায় লাখো মানুষের সমাবেশে মোহাম্মদ নাসিম বলতেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে সন্ত্রাসীরা মাটির নিচেও লুকিয়ে থাকতে পারবে না। প্রয়োজনে মাটির নিচ থেকেও তাদের তুলে আনা হবে।এসব বক্তৃতা নিয়ে অনেক রাজনৈতিক নেতা ব্যক্তিট্রলকরলেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। মোহাম্মদ নাসিমের বজ্রকণ্ঠের সেই হুঁশিয়ারিতে সন্ত্রাসীদের বুক কেঁপে উঠেছিল। কারণে এসব এলাকায় নির্ধারিত সময় শত শত সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। প্রায় প্রতিদিন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকতেন। অপরাধ গুরুতর না হলে অপরাধীদের পুনর্বাসনেরও নির্দেশ দিতেন। লাখো মানুষের জনসভাগুলোতে উপস্থিত থেকে নিজে শুনেছি কিভাবে মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এক ধরনের বন্দি জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের জন্য হাত তুলে দোয়া করতেন। প্রায় দুই যুগ পর নতুন প্রজন্ম কল্পনাও করতে পারবে না, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই দশটি জেলার মানুষ সেই সময় কী দুঃসহ জীবন কাটিয়েছিলেন। তাদের মুক্তিদাতা হিসেবে এখনো এই অঞ্চলের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মোহাম্মদ নাসিমকে স্মরণ করেন।

৮১ সালে দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের হাল ধরার পর থেকে বিশ্বস্ততার সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থেকেছেন মোহাম্মদ নাসিম। শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে শেখ হাসিনাও তাকে বিশ্বাস করেছেন, আস্থায় রেখে কাছে টেনে নিয়েছিলেন। তাঁর আস্থা বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। দলের দুর্দিনে, রাজনৈতিক বিভাজনে অন্ধভাবে সমর্থন জানিয়েছেন তার প্রিয় নেত্রীকে। এমনকি দলের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হলেও তিনি পূর্ণ আস্থা রেখেছেন তার নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর। ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। অন্যান্য নেতার মতো তাকেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিবৃতি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার পিতা মনসুর আলী জীবন দিয়েছিলেন তবুও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বেইমানি করেননি। জীবন চলে গেলেও আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না।’ 

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসে প্রথমে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পরে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ নাসিম। চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ১৯৮৬, ১৯৯১, ২০০১ এবং ২০১৪ সালে।৯১ সালের সংসদে তিনি ছিলেন সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ।৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি প্রথমে ডাক টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় একই সঙ্গে গণপূর্ত এবং পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান মোহাম্মদ নাসিম বরাবরই ছিলেন মিডিয়াবান্ধব। নিজে প্রচার খুব পছন্দ করতেন। মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন আজীবন। মিডিয়াও তাকে দিয়েছে অনেক কিছু। চার জাতীয় নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর পুত্র মোহাম্মদ নাসিমকে নেতৃত্বের পূর্ণতা দিয়েছিল মিডিয়া।

করোনা মহামারির ভয়ংকর সময়েও সাহসী এই নেতা ভয় পাননি। নিজের জীবনের কথা না ভেবে ছুটে গিয়েছিলেন সিরাজগঞ্জে তার প্রিয় ভোটারদের কাছে। কেউ যখন ঘর থেকে বের হতে সাহস পেতেন না তখন তিনি দরিদ্র-অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে উদ্বোধন করেছেন করোনা পরীক্ষার আরটিপিসিআর মেশিন। সেদিনই তাঁর সঙ্গে আমার শেষ কথা হয়েছিল। সিরাজগঞ্জ থেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি ঢাকায় ফেরেন। করোনার উপসর্গ নিয়ে তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন পহেলা জুন। তাঁকে রাখা হয় আইসিইউতে। জুন তাঁকে কেবিনে স্থানান্তরের পরিকল্পনা থাকলেও ওই দিন তাঁর ব্রেন স্ট্রোক হয়। জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয় ব্রেনে। এরপর তিনি গভীর কোমায় চলে যান, রাখা হয় লাইফ সাপোর্টে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তাকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলেও সেই সুযোগ আর পাওয়া যায়নি। ১৩ জুন বেলা ১১টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সমাপ্ত হয় মোহাম্মদ নাসিমের একটি গৌরবময় রাজনৈতিক অধ্যায়ের।

লেখকনির্বাহী সম্পাদক, জনকণ্ঠ

×