ঢাকা, বাংলাদেশ   সোমবার ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

হাতিরঝিলের নিরাপত্তা

-

প্রকাশিত: ২০:৩৫, ২২ এপ্রিল ২০২৪

হাতিরঝিলের নিরাপত্তা

সম্পাদকীয়

রাজধানীর পৃথক স্থানে শনিবার তিনটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গোলাপ শাহ মাজার সংলগ্ন ফুটপাত থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। হাজারীবাগে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক শ্রমিকের। এ ছাড়াও হাতিরঝিল লেক থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল হাতিরঝিল লেক থেকে আরও এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। ২০১৩ সালে উদ্বোধনের পর প্রকল্পটি যেমন ফিরে পেয়েছে তার প্রাণ, তেমনি রাজধানীবাসী পেয়েছে দৃষ্টিনন্দন একটি বেড়ানোর স্থান।

তবে নানা কারণে এ প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারছে না রাজধানীবাসী। এখানকার বড় সমস্যা হলো নিরাপত্তা ত্রুটি। ছিনতাই, সড়ক দুর্ঘটনা, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত হাতিরঝিল এলাকার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে একের পর এক লাশ পাওয়া। লেকের পানিতে প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে অজ্ঞাত পরিচয় মানুষের লাশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘চেষ্টা’ সত্ত্বেও হাতিরঝিল প্রকল্পের নিরাপত্তায় গলদ থেকেই যাচ্ছে। এছাড়াও লেকের পানিতে দুর্গন্ধ, মশার উৎপাতসহ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। 
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাতিরঝিল এলাকায় রাত ১০টার পর বাড়তে থাকে মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আনাগোনা। বেগুনবাড়ী, কুনিপাড়া, তেজগাঁও, বাড্ডা, উলন, মহানগর ও মধুবাগ এলাকা থেকে অনেক গলি ও সড়ক হাতিরঝিলে এসে মিশেছে। রাতের অন্ধকারে এসব গলি দিয়ে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা হাতিরঝিলে আসে এবং অপরাধ করে পালিয়ে যায়। হাতিরঝিলে অধিকাংশ অপরাধমূলক কার্যক্রম ঘটে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের অনুপস্থিতিতে।

উদ্বোধন হওয়ার পর নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চপ্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায়। প্রথমদিকে কয়েক বছর ভালোভাবে সার্ভিস পাওয়া গেলেও বর্তমানে অধিকাংশ সিসি ক্যামেরাই অচল। ফলে, হত্যা থেকে শুরু করে নানা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলেও পাওয়া যাচ্ছে না সিসিটিভি ফুটেজ। 
যান্ত্রিক ও নাগরিক জীবনের কোলাহল থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকাটি বেশ জনপ্রিয়। এমন একটি স্থান অনিরাপদ হলে তা সত্যিই উদ্বেগজনক।

শুধু নান্দনিক সৌন্দর্যের জন্যই হাতিরঝিল গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। রাজধানীর পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নেও এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। হাতিরঝিলকে কেন্দ্র করে নানা বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। কিন্তু পরিবেশের ওপর এর প্রভাব কী সেটা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। নানাভাবে এর পানি দূষিত হচ্ছে। সেখানে অনেক রেস্তোরাঁ ও দোকান গড়ে ওঠায় দূষণের মাত্রাও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় নিরাপত্তা বিঘœসহ বিনষ্ট হচ্ছে ঝিলের পরিবেশ। হাতিরঝিলকে রক্ষা করতে হলে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। জনগণের জাতীয় সম্পত্তি হাতিরঝিল রক্ষায় সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।

×