ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কোনো ষড়যন্ত্রই টিকতে পারেনি

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া

প্রকাশিত: ২০:৪১, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

কোনো ষড়যন্ত্রই টিকতে পারেনি

উপমহাদেশের অন্যতম পুরনো রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

উপমহাদেশের অন্যতম পুরনো রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাঙালি জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারক বাহক এবং গণমানুষের দল হিসেবে তিল তিল করে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের শক্তি জনগণ, কোনো পরাশক্তি নয়। কোনো পরাশক্তি মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেনি। আওয়ামী লীগের হাত ধরেই রচিত হয়েছে পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও অগ্রযাত্রার ইতিহাস আর আওয়ামী লীগের ইতিহাস একই। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলটির যাত্রা শুরু হয়। পরে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক আদর্শের অধিকতর প্রতিফলন ঘটাতে এর নাম করা হয় ‘আওয়ামী লীগ’। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে টানা ৭৪ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের ইতিহাস সংগ্রাম, সৃষ্টি, অর্জন ও উন্নয়নের ইতিহাস। আওয়ামী লীগের ইতিহাস মূলত স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির ইতিহাস। স্বাধীনতা অর্জনের পরপরেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে উল্লিখিত দেশটির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ পথচলা মূলত আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে। দীর্ঘ সময়ে নানা উত্থান-পতন, সংঘাত ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলটি বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। দল প্রতিষ্ঠার সময় তরুণ শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।

প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা হিসেবে শুরু থেকেই দেশজুড়ে নেতা-কর্মীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হন তিনি। রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র কা-ারী হয়ে ওঠেন দ্রুততম সময়ে। পরবর্তীতে দলের সাধারণ সম্পাদক অসুস্থ হয়ে গেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। সেই দায়িত্ব থেকে আর কখনোই মুক্ত হতে পারেননি। আমৃত্যু দেশসেবার কাজে রত ছিলেন তিনি।

স্বাধীন বাংলাদেশ যেমন বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের হাতে তৈরি, তেমনি আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার অদম্য নেতৃত্বের কারণেই আমরা পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু যে দলের ভিত্তি গড়ে দিয়ে গেছেন, সেই দলকে এখনো সফল নেতৃত্ব দিয়ে বহন করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। একাধিকবার ঘাতকের বুলেট-বোমার সামনে নিজের জীবনকে বিপন্ন করতে হয়েছে। তবু দলের রক্ষাকবচ হয়ে থেকেছেন তিনি।

এ কারণেই বলা হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি আবেগের নাম। স্বাধীনতার পর থেকে ৫৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের ২৬ বছর দেশশাসন করার সুযোগ পেয়েছে ঐতিহাসিক দলটি। সংগ্রাম ও অর্জনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একাকার হয়ে জেগে আছে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগ হয়। এরপরেই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানে পাকিস্তানিরা। কিন্তু তাদের অপচেষ্টা রুখে দিতে শুরু থেকেই মাঠে নামেন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। দেশভাগের আগে প্রভাবশালী ছাত্রনেতা হিসেবে পুরো ভারতবর্ষ চষে বেড়িয়েছেন তিনি। সেই তারই একান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন বিকালে ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে গঠিত হয় নতুন একটি রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি এবং শামসুল হককে করা হয় সাধারণ সম্পাদক। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে এই দল ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করায় দলের নামকরণ হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ।’ মুক্তিযুদ্ধের পরে পাকিস্তান শব্দটি বাদ গিয়ে দলটি ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ নামে কার্যক্রম শুরু করে।
আওয়ামী লীগের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে বাংলার জনগণকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে স্বাধিকার আদায়ের জন্য ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণা করেন। সেই ৬ দফা আন্দোলনের পথ বেয়েই ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ ও ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সফল নায়ক ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন রাজনৈতিক দলটিকে অনেক চড়াই-উতরাই পেরোতে হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর অনেকটা অস্তিত্ব সংকটেই পড়ে আওয়ামী লীগ। দলের ভেতরেও শুরু হয় ভাঙন।

এর মধ্যে আবদুল মালেক উকিল-জোহরা তাজউদ্দীনের দৃঢ়তায় সংকট কাটিয়ে উঠতে শুরু করে দলটি। ১৯৮১ সালে দলের সভাপতি নির্বাচিত হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে এক দশক ধরে সারা দেশ ঘুরে দলকে সংগঠিত করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করে দলটি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হয়। এরপর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। 
আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও প্রায় একটা শূন্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ছিল না কোনো সংগঠিত সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী। এমনকি বেসামরিক প্রশাসন চালানোর মতো উপযুক্ত অবকাঠামো ছিল না। ছিল না সুসংগঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক, নিজস্ব মুদ্রা ব্যবস্থা। এর বিপরীতে ছিল ক্ষুধার্ত কোটি মানুষ আর  দেশজুড়ে ঘরবাড়ি সম্পদ হারা সর্বস্বান্ত, দুস্থ, বাস্তুহারা মানুষের হাহাকার।

যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত থাকায় বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত কোনো সাহায্য আসছিল না। এরকম একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের হাল ধরেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শক্ত হাতে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সূচিত হয়েছিল, তার সুফল বাংলাদেশ পেতে শুরু করেছিল মাত্র দু-আড়াই বছরের মধ্যে।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ প্রায় সাড়ে তিন বছর সময়কালে বঙ্গবন্ধু চষে বেড়িয়েছেন সমগ্র বাংলাদেশ। বাংলার জনপদে ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করেছেন এ দেশের মানুষের জীবনযাপন। অনুভব-উপলব্ধি করতে চেয়েছেন তাদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার অনুভূতি। কিভাবে দেশটিকে ক্রমেই এগিয়ে নেওয়া যায় সমৃদ্ধির দিকে, তার পরিকল্পনা করেছেন। খুব দ্রুতই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে জোর দিয়েছেন।

সারাদেশের সুষম উন্নয়নের দিকে তার ছিল বিশেষ নজর। কোনো অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদ ও এলাকার উন্নয়নে কী করা প্রয়োজন তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। নতুন নতুন চিন্তাভাবনা, ধারণার উন্মেষ হয়েছে এভাবে। জনসভায় বক্তৃতা দিয়ে নয়, উন্নয়নের নতুন জোয়ার সৃষ্টির পেছনেই বঙ্গবন্ধুর সময় কেটেছে তখন।

দৃঢ়তার সঙ্গে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে পথ অতিক্রম করতে করতে এ দেশের বুভুক্ষু মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। ভেঙে পড়া প্রশাসনিক কাঠামোকে পুনর্গঠন করে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। বিধ্বস্ত রাস্তঘাট, ব্রিজ, পুল, কালভার্ট তৈরির জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিয়ে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছিলেন।

৪০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনসহ সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু সে সময়ে। বিধ্বস্ত ব্যবসাবাণিজ্য চাঙা করে তুলেছিলেন তিনি অসাধারণ কৌশল প্রয়োগে। দুর্ভাগ্যজনক জাতির পিতার নৃশংস হত্যার মধ্য দিয়ে দেশটি আবারও গহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। 
আজকের বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মহাসোপানে যে অভিযাত্রা, তার সূচনা করেছিলেন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরে এগিয়ে চলেছেন তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অসাধারণ বিচক্ষণতা, দেশকে ক্রমেই আরও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়, দৃপ্ত সাহসী পদক্ষেপ, সর্বোপরি দেশের মানুষের জনগণের প্রতি অপরিসীম মায়া ও ভালোবাসা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

আজ বলতে দ্বিধা নেই, জাতির পিতার দেখানো পথ ধরে এগিয়ে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ। ৫৩ বছর আগেই বঙ্গবন্ধু উন্নয়নের যে নতুন চিন্তাধারার সূচনা করেছিলেন তা এখনো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তার অসাধারণ প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আকুলতা প্রতিটি পদক্ষেপ ও কর্মকাণ্ডে বারবার ফুটে উঠেছে।

বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরাও বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন ভাবনার অসাধারণত্ব অকপটে স্বীকার করছেন। উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই স্বপ্ন পূরণের পথ ধরে তিনি এগিয়ে যাচ্ছিলেন। নির্মম ঘাতকের বুলেট সেই পথ চলাকে রুদ্ধ করে দিলেও বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেই পথ ধরেই এগোচ্ছে। সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে।
১৫ বছরের আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ আজ সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্য আর উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়েই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর যারা বলেছিলÑ বাংলাদেশ হবে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’, আজ তারাসহ গোটা বিশ্বই বলছে- মাত্র এক দশকেই বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময়।

পৃথিবীর কাছে উন্নয়নের রোলমডেল আজ বাংলাদেশ। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদী দেশের কলঙ্ক ঘুচিয়ে বাংলাদেশ আজ পরিচয় পেয়েছে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক-শান্তির সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পতাকা উড়ছে আজ বাংলার ঘরে ঘরে। এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা গত পনের বছরের বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার ক্লান্তিহীন পরিশ্রম, দেশপ্রেম, সততা-নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে দেশ পরিচালনার কারণেই সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উত্থান।

পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ ধরেই তার কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নয়নের মহাসোপানে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ এবং আওয়ামী লীগ এক ও অভিন্ন সত্তা। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের কাছে কোনো ষড়যন্ত্রই টিকতে পারেনি শেষ পর্যন্ত।

লেখক : অধ্যাপক, উপাচার্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

×