ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১

এলিভেটেড প্রকল্পে দুর্ঘটনা

প্রকাশিত: ২১:৩৯, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

এলিভেটেড প্রকল্পে দুর্ঘটনা

.

রাজধানীর ভয়াবহ যানজট নিরসন জনদুর্ভোগ লাঘবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি দেশের সবচেয়ে বড় উড়ালসড়ক প্রকল্প। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন কাওলা থেকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। পথটি ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ হলেও ্যাম্পসহ এর মোট দৈর্ঘ্য ৪৩ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে উড়ালসড়কটির কাওলা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশটি গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কুতুবখালী পর্যন্ত বাকি দশমিক ২৯ কিলোমিটার অংশে নির্মাণকাজ চলমান। প্রকল্পের বেশিরভাগ অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে রাজধানীমুখী তেজগাঁও থেকে মগবাজার হয়ে মালিবাগ পর্যন্ত ব্যস্ততম রেললাইন সড়কের ওপর দিয়ে। এতে সমূহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে ট্রেনসহ যানবাহন চলাচল। খিলগাঁও থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে সড়কের পাশ দিয়ে।  দুঃখজনক হলো, ব্যস্ততম রেলপথ সড়কপথের ওপর দিয়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে প্রায় কোনোরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা ব্যতিরেকেই। ফলে, ইতোমধ্যে ঘটেছে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা। একাধিক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর খবরও যেমন আছে, তেমনি রেললাইনের ওপর বিভিন্ন সময়ে ক্রেনসহ নির্মাণ সামগ্রী পড়ে ব্যাহত হয়েছে রেল চলাচল।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি একটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রকল্প। ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের অন্যতম দায়িত্ব হলো সর্বোচ্চমানের নিরাপত্তার বিষয়টিতে অগ্রাধিকার প্রদান করা। যেমনটি হয়েছে মেট্রোরেল নির্মাণের ক্ষেত্রে। ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা অন্যতম শর্ত। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ক্ষেত্রে এসবের অনেকটাই ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। যে কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। সে অবস্থায় রেলপথ-সড়ক পথের ব্যস্ততাসহ জনঘনত্বের বিষয়টি মাথায় রেখে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও অনেক সতর্ক দায়িত্বশীল হবে বলেই প্রত্যাশা। তা না হলে আগামীতেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ইতোপূর্বেও বিভিন্ন সময়ে নির্মীয়মাণ সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষও নিয়মিত দেখভালে দেখাচ্ছে গাফিলতি। যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের ব্যয়ভার বেড়েছে বহুগুণ। পাশাপাশি স্থানীয় অধিবাসী, ব্যবসায়ী পথচারীদের প্রতিদিনের অসহনীয় যানজটসহ জীবনের ঝুঁকি দুর্ভোগ তো আছেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদৌ কোনো নিয়মকানুন না মেনে বছরের পর বছর ধরে নির্মাণকাজ চালানোর কারণেই বারবার ঘটছে দুর্ঘটনা। হতাহত হচ্ছে মানুষ। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট উড়াল সড়কের গার্ডার ভেঙ্গে মারা যান ১২ জন। দুঃখজনক হলো, এরপরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বিধিমালা দূরে থাক, বাংলাদেশে ১৯৯৩ সালে প্রণীত জাতীয় নির্মাণ বিধিমালাও মান্য করে না। ফলে, এড়ানো যাচ্ছে না দুর্ঘটনা দুর্ভোগ। যে কোনো পরিকল্পনা সুষ্ঠু, সমন্বিত, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট, সর্বোপরি ব্যয়সাশ্রয়ী হওয়া অত্যাবশ্যক। তা না হলে সঙ্গত কারণেই এতে বাড়ে জনদুর্ভোগ, দুর্ঘটনা প্রকল্প ব্যয়। দুর্নীতি-অনিয়মও পায় প্রবেশাধিকার। নিচের খানাখন্দে ভর্তি রাস্তাগুলোর অবস্থাও হয় শোচনীয়। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ যেন আর কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই যথাসময়ে শেষ হয় এবং জনদুর্ভোগ দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া বাঞ্ছনীয়।

×