ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

নারী ফুটবলে অশনিসংকেত

-

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ৩১ মে ২০২৩

নারী ফুটবলে অশনিসংকেত

সম্পাদকীয়

সাফ শিরোপা জয়ে কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ফুটবলের গৌরবের পতাকা রয়েছে মেয়েদের হাতেই। অথচ সাফল্য ও খ্যাতির দিক থেকে পুরুষ ফুটবল দলের তুলনায় এগিয়ে থাকা দলটির মাঝে হঠাৎই ভাঙন দেখা দিয়েছে। একে একে দল ছাড়ছেন খেলোয়াড়রা। স্ট্রাইকার সিরাত জাহান স্বপ্না মাত্র ২২ বছর বয়সে অবসর নিয়েছেন। ‘মানসিক অশান্তি’র কথা বলে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন নারী ফুটবলের সাফল্যের কারিগর কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। এর আগে সাফজয়ী দল থেকে বাদ পড়ে খেলা ছাড়েন আনাই মোগিনি ও সাজেদা খাতুন। ক্যাম্প ছেড়ে বাড়ি চলে গেছেন ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনও। মেয়েদের হতাশা-অপ্রাপ্তি ক্রমেই বাড়ছে, ঘুরেফিরে যার দায় বর্তাচ্ছে ফুটবল ফেডারেশন কর্মকর্তাদের ঘাড়েই। নানা কারণে ক্যাম্পে থাকা মেয়েরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, অবসাদে ভুগছেন। খেলাবিহীন আর কত বসে থাকা যায়! 
গত সেপ্টেম্বরে নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর আট মাস খেলাবিহীন কাটিয়েছে জাতীয় দল। টাকা নেই কারণ দেখিয়ে বাফুফে মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাই খেলতে জাতীয় দল পাঠায়নি। মিয়ানমারে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল, সেটাও হয়নি। তড়িঘড়ি ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলতে সিঙ্গাপুরে দল পাঠাতে চেয়েও শেষ পর্যন্ত পারেনি বাফুফে। সাফ জেতার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়েদের মাসিক বেতনও বাড়েনি। অধিনায়ক সাবিনা খাতুন মাসে পান মাত্র ২০ হাজার টাকা। অন্যরা ১০ হাজার টাকার আশপাশে। সেই ‘সামান্য টাকাও’ এপ্রিল থেকে বকেয়া। স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে এসব কারণেই দলটিতে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

গোলাম রব্বানীর বিদায়ের কথা শোনার পর সিনিয়র খেলোয়াড়দের নিয়ে বসেছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। সেখানে তিনি স্পনসর পাওয়া সাপেক্ষে এ বছর তাদের বেতন বাড়ানোর কথা বলেছেন। কিন্তু এই আশ্বাসে মেয়েরা আর আস্থা রাখতে পারছেন না। তবে মেয়েদের এভাবে চলে যাওয়ায় হতাশ নন বাফুফে সভাপতি। ম্যারাডোনা-মেসির সঙ্গে তিনি স্বপ্নাদের বাস্তবতার তুলনা করে বলেন, ‘মেয়েরা যাচ্ছে (অবসরে যাচ্ছে), আসবে, এটাই তো পৃথিবীর নিয়ম। ম্যারাডোনা নাই, মেসি এসেছে। মেসি ক্লাব ছেড়ে চলে যাবে, রোনালদো সৌদি আরবে চলে গেছে। এই তো আসা-যাওয়ার প্রক্রিয়া।’ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের চলে যাওয়া প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘কোচ আসবে, চলে যাবে, আবার সেই কোচ পদত্যাগ করবে বা ছাঁটাই হবে, নতুন কোচ আসবে- এভাবেই চলছে গোটা পৃথিবী। এখানে কেউ স্থায়ী নয়।’
সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নারী ফুটবলের জন্য রীতিমতো উদ্বেগের। একটা সাজানো বাগান তছনছ হতে চলেছে। কিন্তু কেন, সে প্রশ্নই ঘুরেফিরে সবার মনে উঠছে। সাবিনা খাতুনরা তো আরও অনেক কিছু জয়ের প্রতিশ্রুতি জাগিয়েছিলেন। তারা কেন এখন বিমুখ হয়ে পড়েছেন? স্বপ্না-আঁখিদের চলে যাওয়াকে ব্যক্তিগত কারণ হিসেবে দেখানো প্রকৃতপক্ষে বাস্তবতাকে বাফুফের পাশ কাটানো। এত দ্রুত একটা সফল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তির ইঙ্গিত দেশের নারী ফুটবলের জন্য অবশ্যই অশনিসংকেত।

×