ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

 রমজানের বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রভাব

​​​​​​​ড. মিহির কুমার রায়

প্রকাশিত: ২০:২৮, ২৬ মার্চ ২০২৩

 রমজানের বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রভাব

.

২৪ মার্চ, ২০২৩ সাল থেকে শুরু হয়েছে রজমান। এই পবিত্র মাসের পরিসমাপ্তি ঘটবে ঠিক এক মাস পর। প্রতি বছরই একটি তিথিতে এই মাসটি আসে যেখানে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায় সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মাসটিকে বরণ করে নেয় সৃষ্টিকর্তার (আল্লাহ্র) নৈকট্য লাভের আশায়। এই মাসের প্রধান উদ্দেশ্য শরীয়তের নির্দেশিত পন্থায় রোজা আদায়ের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করা। রোজাই একজন প্রকৃত রোজাদারকে তাকওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতি ভালোবাসা রোজার মাসের প্রকৃত শিক্ষা। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর সফল বাস্তবায়ন কতটুকু হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে বিশেষত ব্যবসায়ী শ্রেণি এই মাসে বিশেষভাবে ভোগ্যপণ্যের ওপর মূল্যের বিশেষ ছাড় দিয়ে থাকে, কিন্তু বাংলাদেশে তার উল্টোটা পরিলক্ষিত হয়, যা অমানবিক। যদিও মূল্যবৃদ্ধি অনেক দিন যাবৎ দেশের বাজার ব্যবস্থায় আসন দখল করে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দরিদ্র মধ্যবিত্ত সবাইকে সমানভাবে ভাবিত করে এবং তাদের জীবনমান প্রভাবিত করে। মূল্যস্ফীতির হার যখন বেড়ে যায় বাড়তে থাকে তখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সঙ্কটে পড়ে। এতে নানাভাবে নানা পর্যায়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়। সেজন্যই বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি সামষ্টিক অর্থনীতির মনোযোগের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। গত বছরের বাজেট বক্তৃতায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সমসাময়িক বিবরণীগুলোতে যেসব তথ্য পাওয়া যায় সেগুলো একত্রে এনে পর্যালোচনা করলে বুঝতে অসুবিধা হবে না যে, মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকার যেসব তথ্য দিচ্ছে, কথা বলছে বক্তব্য দিচ্ছে এবং যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল কতটুকু রয়েছে। মূল্যস্ফীতি বাড়ার যে প্রক্রিয়া তাতে তিনটি বিষয় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে প্রতীয়মান। প্রথমত- চাহিদাগত, চাহিদার সঙ্গে স্বল্পমেয়াদে দ্রব্য, পণ্যের সরবরাহে ঘাটতি। দ্বিতীয়তÑ পণ্যমূল্যের ওপর হঠাৎ করে বহিরাগত ধাক্কা। তৃতীয়তÑ স্বল্পমেয়াদে আমদানিকৃত পণ্য কাঁচামালের ঘাটতি। অর্থাৎ, একই সঙ্গে আকস্মিক উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া সরবরাহ কমে যাওয়া। চাহিদা বেড়ে গেলে তার প্রভাব-প্রতিক্রিয়ায় পণ্যের চাহিদা, সরবরাহ পণ্যমূল্যের অন্তরালে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়। চাহিদা সরবরাহের মূল কেন্দ্রে মূল্যস্ফীতির সঙ্কেত সৃষ্টি করে। পরে যদি সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হয় বা ভ্রান্তনীতি প্রণয়ন অনুসরণ করা হয় তাহলে মূল্যস্ফীতি তার নিজস্ব গতি অনুসরণ করে, স্থায়ী রূপ লাভ করে। যা পরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির আকারে রূপ নেয়।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দরের চাপ নিয়েই এবার দেশের জনগণ রোজা শুরু করেছেও। চাল থেকে ডাল, আটা, ময়দা, তেল, চিনি, মাংস, সবজি, ফলসহ এমন কোনো পণ্য নেই যে, দাম বাড়েনি। গত এক বছরের ব্যবধানে কোনো কোনো পণ্যের দাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। আবার রসুন, শুকনা মরিচের মতো পণ্যের দাম বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, করোনা মহামারির ধাক্কা না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলারের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। বিশ্ব বাজারেও এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। তবে কথা মানতে নারাজ ভোক্তারা। তাদের দাবি সিন্ডিকেট করে একটি চক্র পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। তা না হলে দাম এত বাড়বে কেন? গত কিছুদিন ধরে যে পণ্যটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সেই ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে। অথচ এক বছর আগেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা। গত বছর প্রতি হালি ফার্মের ডিমের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা। যা বছর বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৭ টাকা হালি। গত বছর প্রতি কেজি গরুর মাংস ছিল ৬৫০ টাকা, যা এবার ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। খাসির মাংস এক বছরের ব্যবধানে কেজিতে ২৫০ টাকা বেড়ে হাজার ১০০ টাকায় উঠে গেছে।

রোজায় সাধারণত যে পণ্যগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে এর মধ্যে রয়েছে চিনি, ডাল, আটা, ময়দা, তেল দুধ। এসব পণ্যের প্রত্যেকটির দাম বেড়েছে লাগামহীনভাবে। যেমন- প্রতি কেজি চিনির দাম গত বছর ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। সেই চিনি এবার বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। বিভিন্ন ধরনের ডালের মধ্যে অ্যাঙ্কর কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, ছোলা কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা।

যা গত বছর সময় ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। প্যাকেট ময়দার কেজি গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা। বছর বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা। গত এক বছরের হিসেবে ভোজ্যতেলের দামটা তুলনামূলক কম বেড়েছে, তাও ১০ শতাংশের বেশি। বাজারে লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ৮৭০ থেকে ৮৮০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা। এছাড়া এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা। রোজায় দুগ্ধজাত বিভিন্ন খাবার তৈরির জন্য দুধের চাহিদা বাড়ে। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্যাকেটজাত বিভিন্ন দুধের দামও। যেমনÑ গত বছর বিভিন্ন প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধের কেজি ছিল ৫৮০ থেকে ৬৯০ টাকা, যা বছর বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়া-কমা নিয়ে বাজারদরের প্রতিবেদন তৈরি করে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সেই প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত এক বছরের ব্যবধানে কোনো কোনো পণ্যের দাম ১০ থেকে ১১৬ দশমিক ২২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যার মধ্যে প্রতি কেজি প্যাকেট আটা ৫৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ, প্যাকেট ময়দা ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ, অ্যাঙ্কর ডালের দাম ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ, সয়াবিন তেল ১২.৩১ শতাংশ, ছোলা ১৭.২৪ শতাংশ, দেশী রসুন ১২০ শতাংশ, শুকনা মরিচ ১১৬.২২ শতাংশ, মানভেদে আদা ৮২.৬১ শতাংশ, জিরা ৬২.৩৪ শতাংশ, ব্রয়লার মুরগি ৬২.৫০ শতাংশ, চিনি ৫১.৬১ শতাংশ, ডিম ২৬.০৩ শতাংশ, খেজুরের দাম ২৬ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, টানা পাঁচ মাস কমার পরে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে মূল্যস্ফীতি আবার বেড়েছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও। বিবিএসের হিসাব অনুসারে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে .৭৮ শতাংশে। এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

মূল্যস্ফীতির হার ছিল গত ১১ বছর মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশের বাজারে চিনির দাম কমানোর জন্য গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চিনির আমদানি শুল্ক শতাংশ কমানো হয়। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। ১৯ মার্চ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর একটি প্রতিবেদনে জানায়, দেশে ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ খামারভেদে প্রতি কেজি ১৩৫ থেকে ১৬০ টাকা। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লারের দাম সর্বোচ্চ ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া উচিত। কিন্তু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২৮০ টাকায়। ভোক্তারা অভিযোগ করে বলেন, তাহলে এখানে কি সিন্ডিকেট কাজ করছে না? ব্রয়লার মুরগিরঅযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে মুরগি উৎপাদনকারী চার প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মস লিমিটেড, আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিমিটেড, সিপি বাংলাদেশ প্যারাগন পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডকে তলবও করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এদিকে চিনি, ডাল, তেলের পাশাপাশি রোজা উপলক্ষে বাজারে সবজি, ফলের দাম আরও এক দফা বেড়েছে। যেমনÑ বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি পটোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ১০০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। লেবুর দাম বেড়েছে লাগামহীনভাবে।

প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বেড়েছে মাছের দামও। বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে প্রতি কেজি রুই ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, চাষের কই ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৮০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাবদা ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, শোল ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের খেজুর প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা, কমলা ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা, তরমুজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, আপেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, মালটা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, আঙ্গুর ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও এসব ফল কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে।

প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদদের মতামত হলো, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। এতে স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি যারা কম বেতনের চাকরিজীবী তাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে দেশে খাদ্যপণ্যের যে মূল্যস্ফীতি তা অনেক বেশি। পণ্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের দোষ দিলে হবে না। এটা ঠিক, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীও পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য দায়ী। ব্যাপারে সরকারের ভাষ্য হলো দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। কেউ কৃত্রিম উপায়ে কোনো পণ্যের অবৈধ মজুত করে মূল্য বৃদ্ধির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর ব্যবস্থা নজরদারির অভাব হলেই দায়সারা মনিটরিং হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেবে। ভোক্তা অধিকার সংস্থা, টিসিবি, পণ্য বিপণন ব্যবস্থাপনা, চাহিদা সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং সর্বোপরি আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিরাপত্তা শৃঙ্খলা আনয়নপূর্বক সমস্যা সমাধানে তৎপর হতে হবে। অধিকন্তু, বিভিন্ন বাজার কমিটি, দ্রব্যসামগ্রীর গুণাগুণ যাচাই কমিটি, মালামাল সংরক্ষণ গুদামজাত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং সর্বোপরি মহানগর পৌর এলাকাস্থিত বাজারগুলোতে তাদের নিজস্ব পরিদর্শন টিমের আন্তরিকতার সঙ্গে তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। সকলের সমন্বিত কার্যক্রমে দূরবস্থার নিরসন সম্ভব হবে।

গ্রামনির্ভর বাংলাদেশের গ্রামের মানুষের আয়ের উৎস শহরবাসীর তুলনায় অনেক কম। ফলে শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতির উচ্চহার উদ্বেগের বিষয়। সমস্যা মোকাবিলায় যা প্রয়োজন তা হলো গ্রামের মানুষের আয় বাড়ানো। যার অংশ হিসেবে বর্ধিত সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করে তুলতে হবে। গ্রামের মানুষের, বিশেষ করে শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাদের মধ্যে সব ধরনের ব্যবসার উদ্যোগ সৃষ্টিতে সরকারকে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। গ্রামাঞ্চলে সেবা খাতের কার্যক্রম, বিশেষ করে ব্যবসা, পরিবহন, টেলিকম, রিয়াল এস্টেট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, হোটেল, রেস্তোরাঁ ইত্যাদির ব্যাপক প্রসারের ব্যবস্থা নিতে হবে। রেমিটেন্সের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাহলেই দেশ মূল্যস্ফীতির অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে। রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের আরও সংবেদনশীল হতে হবে, যাতে রোজাদাররা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্তের শিকার না হন।

লেখক : অধ্যাপক (অর্থনীতি), ডিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ সিন্ডিকেট সদস্য, সিটি ইউনিভার্সিটি

×