ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ৩১ মে ২০২৩, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে আমাদের দিন বদল

মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ২৫ মার্চ ২০২৩

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে আমাদের দিন বদল

বাঙালি জাতির জন্ম হয়েছে ছাব্বিশে মার্চ; আর এর জনক হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

আমাদের স্বপ্ন- এদেশে সেই অর্থনৈতিক ভিত রচিত হবে, যা প্রতিটি মানুষকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের পথ খুঁজে দেবে; এদেশে সেই শান্তির বাতাস ছড়িয়ে পড়বে, যা শুধু ঘৃণা-বিদ্বেষ-উগ্রবাদ দূর করবে না, আত্মবিশ^াসের সিংহদ্বারও উন্মোচন করবে প্রতিনিয়ত; আমাদের সেই ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, যা বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জন-প্রাপ্তিতে প্রান্তিকায়িত তো বটেই, অন্য সব শ্রেণি-পেশাজীবী মানুষও হবে উচ্ছ্বসিত-ধ্বনিময়। পাঁচ দশক পেরিয়ে ৫২’র স্বাধীনতা দিবসে এই হলো আমাদের প্রত্যয়

বাঙালি জাতির জন্ম হয়েছে ছাব্বিশে মার্চ; আর এর জনক হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের  ইতিহাসে যে দু’তিনটি দিবস সবচেয়ে বেশি অর্থবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ; এর একটি হলো ২৬ মার্চের স্বাধীনতা দিবস। এটি হঠাৎ পাওয়া কোনো দিবস নয়। পাকিস্তানের শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও প্রজ্ঞার ফসল হলো এই স্বাধীনতা। যার পুরোভাগ জুড়ে ছিলেন পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

একদিকে ছাত্রনেতা হয়ে ’৫২-র ভাষা আন্দোলনে লড়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন থেকে ’৬৩ ও ’৬৪ পরবর্তী ছাত্র আন্দোলনে; অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতা হয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ও স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন, ৬-দফা, গণঅভ্যুত্থান এবং সত্তরের নির্বাচনে। সর্বশেষ ঠিক উপযুক্ত মুহূর্তে সর্বাধিনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় অস্তিত্বের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছেন। 
স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে কেমন ছিল বঙ্গবন্ধুর নেপথ্যের সেই সংগ্রাম? ১৯৭৪-এ বাঙালি কবি ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান/ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান’-এর লেখক শ্রী অন্নদাশঙ্কর রায় একবার বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘বাংলাদেশের আইডিয়াটা প্রথম কবে আপনার মাথায় এলো?’ বঙ্গবন্ধু মুচকি হেসে বলছিলেনÑ ‘শুনবেন? সেটা ১৯৪৭ সাল। তখন আমি সোহরাওয়ার্দী সাহেবের দলে।...এরই মধ্যে দিল্লি থেকে খালি হাতে ফিরে এলেন সোহরাওয়ার্দী ও শরৎ বোস। কংগ্রেস বা মুসলিম লীগ কেউ রাজি নয় তাদের প্রস্তাবে। তারা হাল ছেড়ে দেন। আমিও দেখি যে আর কোনো উপায় নেই। ঢাকায় চলে এসে নতুন করে আরম্ভ করি। তখনকার মতো পাকিস্তান মেনে নিই। আমার সূত্র কেমন করে পূর্ণ হবে এই আমার চিন্তা। হবার কোনো সম্ভাবনাও ছিল না। লোকগুলো যা কমিউনাল! বাংলাদেশ চাই বললে সন্দেহ করত। হঠাৎ একদিন রব উঠল, আমরা চাই বাংলা ভাষা। আমিও ভিড়ে যাই ভাষা আন্দোলনে।

ভাষাভিত্তিক আন্দোলনকেই একটু একটু করে রূপ দিই দেশভিত্তিক আন্দোলনে। পরে এমন একদিন আসে যেদিন আমি আমার দলের লোকদের জিজ্ঞাসা করি, আমাদের দেশের নাম কী হবে? কেউ বলে পাক-বাংলা। কেউ বলে পূর্ব বাংলা। আমি বলি, না, বাংলাদেশ। তারপর আমি স্লোগান দিই, জয় বাংলা।’ 
উক্তিটি থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, একাত্তরের বহু আগ থেকেই স্বাধীনতা দিবসের প্রেক্ষিত রচনা হয়ে আসছিল এবং এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার জীবনের মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিজয় অর্জন করা। এর বাইরে যা কিছু করেছেন, সবকিছু ছিল এই দুটোকে ঘিরে। বঙ্গবন্ধু নিজেও সে কথা বহুবার বলেছেন। যেমন- ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর পূর্ব-পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রধান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনি এই যে ৬ দফা দিলেন, তার মূল কথাটি কী?’ আঞ্চলিক ভাষায় এর উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আরে মিয়া বুঝলা না, দফা তো একটাই। একটু ঘুরাইয়া কইলাম।’

বঙ্গবন্ধুর ভাষায়, ‘আমার দফা আসলে তিনটা। কতো নেছো (নিয়েছ), কতো দেবা (দিবে), কবে যাবা?’ সহজ ভাষায় পাকিস্তানিরা বাংলার কী পরিমাণ সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, সেখান থেকে কত ফেরত দেবে; তারপর কবে বাংলা ছেড়ে চলে যাবে। বঙ্গবন্ধু এখানেও ঘুরেফিরে ওই এক দফার কথাই বলেছেন। যার নাম বাঙালির স্বাধীনতা। ‘জয় হবে জয় হবে, জয় হবে হবে জয়/মানবের তরে মাটির পৃথিবী দানবের তরে নয়’ যার জীবনের অতি প্রিয় একটি গান, তার জীবন-সংগ্রাম তো এমনই হওয়ার কথা।
বঙ্গবন্ধু যে সবসময় স্বাধীনতা ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন; তা বুঝতে স্বাধীনতার ২১ বছর আগের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করতে চাই। যা ছাপা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষে ১৯৭৫ সালের ১৭ মার্চের দৈনিক বাংলা সংখ্যায়। সাল ১৯৫৪। বঙ্গবন্ধু তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। পল্টন এলাকার সাধারণ এক শ্রোতা বলেছিলেন, ‘আমরা শেখ মুজিবের কথা বুঝি। কারণ, তিনি আমাদের ভাষায় কথা বলেন।

আমরা তাঁর কথা শুনতে আসি। কারণ, এমন সহজে এত জোর দিয়ে আমাদের দুঃখের কথা আর কেউ বলতে পারেন না। আমরা তাঁকে ভালোবাসি। তিনিও ভালোবাসেন আমাদের। সুখে-দুঃখে আমরা তাঁর সঙ্গে আছি। এবং থাকব। কারণ তিনি আমাদের আপন মানুষ।’ আমি পুনঃউল্লেখ করছি, ‘এত জোর দিয়ে আমাদের দুঃখের কথা আর কেউ বলতে পারেন না’। জাতির জনক সম্পর্কে খেটে খাওয়া মানুষের সাধারণ মন্তব্য এটাই প্রমাণ করে, আপামর জনগণের মাঝে তখনো কতটা প্রাসঙ্গিক ও দূরদর্শী নেতা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু ছিলেন মেহনতি মানুষের স্তর থেকে উঠে আসা নেতৃত্ব। তিনি কখনো ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করেননি, তিনি ছিলেন বাংলার দুঃখী মানুষের নেতা। 


 ॥ দুই ॥

এ বছর আমরা ৫৩তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছি। উন্নত এমনকি উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাধীন হওয়ার বয়স হিসেব করলে ৫৩ বছর খুব বেশি নয়। মহাকালের বিচারেও এই সময় খুব বড় নয়। দীর্ঘ এ সময়ে রাজনৈতিক উত্থান-পতন, সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকলেও জাতি হিসেবে আমাদের কৃতী ও অর্জন কম নয়, বরং অগণিত। উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকগুলোও রীতিমতো আশাসঞ্চারী। প্রশ্ন উঠতেই পারে, পাঁচ দশক পেরোনো বাংলাদেশে আমরা কতটা এগিয়েছি; কী ছিল আমাদের লক্ষ্য ও প্রত্যাশা, পূরণ হয়েছে কতটা? 
প্রত্যাশা পূরণের প্রশ্ন আসলে বাংলাদেশের শুরুটা জানা দরকার। স্বাধীনতা পরবর্তী নবীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো ছিল পুরোপুরি ভঙ্গুর। কতটা ভঙ্গুর, তা কিছুটা অনুমান করা যায় ১৯৭৫-এর ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থেকে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, পাকিস্তানিরা নিশ্চয়ই দুঃখিত হবে, আমাদের সম্পদ ফেরত দেবে।

আমি ওয়াদা করেছিলাম, তাদের বিচার করব। এই ওয়াদা আমি খেলাপ করেছি, তাদের বিচার করিনি।...কিন্তু তারপরও তারা আমার সম্পদ এক পয়সাও দিল না, বৈদেশিক মুদ্রার কোনো অংশ আমাকে দিল না। গোল্ড রিজার্ভের কোনো অংশ দিল না। একখানা জাহাজও আমাকে দিল না। একখানা প্লেনও আমাকে দিল না এবং যাবার বেলায় পোর্ট ধ্বংস করল, রাস্তা ধ্বংস করল, রেলওয়ে ধ্বংস করল এবং জাহাজ ডুবিয়ে দিল।

শেষ পর্যন্ত কারেন্সি নোট জ্বালিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।’ যুদ্ধের ক্ষতি ছাড়াও ওই সময় সামুদ্রিক এক জলোচ্ছ্বাসে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ, যার পরিমাণ ছিল অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় ৩.৮ ভাগ%। অন্যদিকে এই জলোচ্ছ্বাসের কারণে প্রাণ হারান প্রায় ৫ লাখ মানুষ। চার লাখের মতো বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বঙ্গবন্ধু তবুও ভেঙে পড়েননি। উন্নয়ন লক্ষ্যের ধ্রুবতায় অবিচল থেকেছেন সব সময়। ব্যর্থতা ও নৈরাশ্যকে পেছনে ফেলে সব সময় দেশকে নিয়ে গেছেন ইতিবাচক গন্তব্যের পথে। একটা একটা পদক্ষেপের মাধ্যমে গোটা বাংলাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন। স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ এনে দিতে একাত্তরের পরপরই একটি প্রাদেশিক সরকারকে জাতীয় সরকারে রূপ দেওয়া, এক কোটি শরণার্থী ও দেড় কোটি গৃহচ্যুত মানুষকে পুনর্বাসন করা, দুই কোটির বেশি মানুষকে প্রায় এক বছর সরকারি অনুদানে ভরণ-পোষণ করা, রেল-রাস্তা-ব্রিজ-বন্দর চালু করা, মাত্র এক বছরের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি আদায়, জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ, বহির্বাণিজ্য শুরু করা, শিল্প-কারখানা ও ব্যাংক-বীমা স্বাভাবিক অবস্থায় চালু করা এবং সর্বোপরি একটা সংবিধান প্রণয়ন ও সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করা- এসবই ছিল ক্যারিশম্যাটিক লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাত্র সাড়ে তিন বছরের কৃতিত্ব।
১৯৭১-এ বাংলাদেশ ছিল পৃথিবীর অন্যতম দারিদ্র্যপীড়িত রাষ্ট্র। মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ ছিল দারিদ্র্যসীমার নিচে। এই ৫২ বছরে সেই দারিদ্র্যতা নেমে এসেছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে এবং অতিদারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটাই আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুফল। আর এভাবেই পিতা শেখ মুজিবের ‘অন ট্র্যাকে’ উঠিয়ে দেওয়া লাইনে বাংলাদেশের এগিয়ে চলা। 

॥ তিন ॥
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা নির্বাচনী বক্তৃতায় তত্ত্ব দিয়েছিলেন ঈযধহমব বি পধহ নবষরবাব রহ. আর আমরা শুনছি দিন বদলের গান। যার স্বরলিপিতে রয়েছে ১৯৭১-এ হেনরি কিসিঞ্জারের বলা সেই তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা থেকে বেরিয়ে অকুতোভয় হয়ে ওঠার গল্প। এই গল্প নিহায়ত কোনো রূপকথা নয়। এই গল্প স্বপ্ন পূরণের আশা জাগানিয়ার গল্প। শেকড় থেকে শিখরে উড্ডয়নের গল্প। সব মিলিয়েই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের বিস্ময়। পৃথিবীর কাছে অনন্য এক উদাহরণ।

এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- এ তিন সূচকের যে কোনো দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ আজ তিন সূচকেই তার মানদ- উন্নীত করেছে। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে মানবসম্পদ সূচকে অবস্থান ১২৯তম। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দুই প্রধান দেশ ভারত এবং পাকিস্তানের অবস্থান ১৩২ ও ১৬১তম। 
গড় আয়ুতে আমরা পাকিস্তান ও ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছি। দক্ষিণবঙ্গে জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু; নাগরিক জীবনে স্বস্তি এনে দিয়েছে মেট্রোরেলের দুর্বার গতি। মুজিববর্ষকে ঘিরে দেশের প্রত্যেকটি ঘরে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১-এর পর প্রস্তুতি চলছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের। উন্নয়নের রোড প্ল্যান ধরে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ৯৬ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বঙ্গবন্ধু টানেলের। উদ্বোধন হয়েছে প্রায় ৬ হাজার একর জায়গাজুড়ে নির্মিত পায়রা সমুদ্রবন্দরের। ঢাকা-চট্টগ্রামের যোগাযোগ চিত্র বদলে দিয়েছে চার লেনের প্রশস্ত মহাসড়ক, ফ্লাইওভার ও ব্রিজ। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গতি যোগ করতে গড়ে উঠছে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল। শিক্ষা, নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, রফতানিমুখী শিল্পায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, পোশাকশিল্প, ওষুধশিল্প, রফতানি আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচকে দেশ যেভাবে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে; তাতে সহজেই অনুমেয়- আগামীর বাংলাদেশ ২০৪১ সালের আগেই উন্নত দেশের সারিতে কাঁধ মেলাতে সক্ষম হবে।  

আমাদের লক্ষ্য এখন (ক) ২০৩১ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের অবসান এবং উচ্চ-মধ্য আয়ের সোপানে উত্তরণ;  (খ) ২০৩১ সালে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উচ্চ-আয়ের দেশে পরিণত হওয়া; (গ) ২০৪১ সাল অবধি ৯% জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা; (ঘ) রপ্তানি বৃদ্ধি ও মানব সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং বিনিয়োগের প্রসারকে উৎসাহ দেওয়া; (ঙ)  সেবা খাতকে গ্রামীণ অর্থনীতির রূপান্তরের সেতু হিসেবে গড়ে তোলা; (চ) দ্রুত ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সুচারুরূপে জ্বালানি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা এবং (ছ) দক্ষতাভিত্তিক সমাজ গঠনে বাংলাদেশকে জ্ঞানকেন্দ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা।
শেষ করব, তার আগে ছোট্ট একটি বিষয়। স্বাধীনতার পরেও আরও একটি স্বাধীনতা থেকে যায়। সেই স্বাধীনতা হচ্ছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে একটি পরিবারতুল্য উন্নত ও সুখি-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলা। আগামীর বাংলাদেশ হবে উন্নত ও উন্নয়নের বাংলাদেশ। আমাদের স্বপ্ন- এদেশে সেই অর্থনৈতিক ভিত রচিত হবে, যা প্রতিটি মানুষকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের পথ খুঁজে দেবে; এদেশে সেই শান্তির বাতাস ছড়িয়ে পড়বে, যা শুধু ঘৃণা-বিদ্বেষ-উগ্রবাদ দূর করবে না আত্মবিশ্বাসের সিংহদ্বারও উন্মোচন করবে প্রতিনিয়ত; আমাদের সেই ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, যা বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জন-প্রাপ্তিতে প্রান্তিকায়িত তো বটেই, অন্য সব শ্রেণি-পেশাজীবী মানুষও হবে উচ্ছ্বসিত-ধ্বনিময়। পাঁচ দশক পেরিয়ে ৫২তম স্বাধীনতা দিবসে এই হলো আমাদের প্রত্যয়, এই হোক আমাদের আকুলতা।

লেখক : রাষ্ট্রপতি (Elect)