ঢাকা, বাংলাদেশ   শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ২৯ চৈত্র ১৪৩০

সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

রমজানে কারসাজি করে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা

সংসদ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৩:৩৩, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

রমজানে কারসাজি করে দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য রাখেন

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা আসন্ন পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে কারসাজি করে পণ্যমূল্য বাড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, পণ্যমূল্য নিয়ে কেউ (জনগণ) গুজবে কান দেবেন না। এতে কেউ গুজব ছড়িয়ে মানুষের খাদ্য নিয়ে খেলতে পারবে না। পবিত্র রমজানে কেউ যাতে বাজার নিয়ে খেলতে না পারে সে ব্যাপারে সরকার সচেতন আছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বা কারসাজি করে কেউ দাম বাড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আলী আজমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকবে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে লাগাম টানা সম্ভব হবে।
বিরোধীদলের চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নুর অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজ শুধু একা সরকারের নয়, এক্ষেত্রে সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদেরও ভূমিকা আছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হচ্ছে এবং দায়ীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। সবাই সহযোগিতা করলে, আর জনগণও সচেতন দৃষ্টি রাখলে কেউ মানুষের খাদ্য নিয়ে কারসাজি বা খেলার কোনো সাহস পাবে না।

সংসদ সদস্যসহ জনপ্রতিনিধিদেরও সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা সংসদ সদস্য আছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন, শুধু সরকারই দেখবে তা তো না, আপনাদেরও একটা দায়িত্ব আছে। বাজার মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে আপনারা সকলে সহযোগিতা করেন তাহলে কেউ আর এই অসাধু ব্যবসায়ী তারা এভাবে অসদুপায়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে পারবে না।

আর সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্যই আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি, কঠোর পদক্ষেপ নেব। এমনকি মোবাইল কোর্ট বসিয়েও আমরা শাস্তি দিচ্ছি, গ্রেপ্তার করছি, মামলা করছি। কাজেই  যথাসাধ্য আমরা করে যাচ্ছি। 
তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরস্থিতির কারণে পণ্য আমদানি করতে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জাহাজ ভাড়াও বেড়ে গেছে অনেক। আমি একটা কথা বলি, জানি না, রমজান তো হচ্ছে কৃচ্ছ্র সাধনের মাস। সে সময় কেন, কারণ যেন মানুষ কম খাবার গ্রহণ করে, কিছু খাদ্য সংরক্ষণ করে এই উদ্দেশ্যে নেওয়া। আমাদের অনেকটা দেখি রমজানের সময় যেন খাবারটা একটু বেড়েই যায়।

আসলে সেই জন্য তো রমজান না, রমজান হচ্ছে সংযমের মাস, সংযম করতে হবে। এখন বিশেষ কোনো একটা জিনিস না খেলেই রমজান আর হবে না, রোজা রাখা যাবে না বা ইফতার খোলা যাবে না-এই মানসিকতাটাও বদলাতে হবে। আমাদের দেশে যা পাওয়া যায় সেটা দিয়েই কিন্তু রোজা করতে পারি। এটা না খেলে চলছেই না এরকম তো কোনো কথা নেই। অন্য সময় মানুষ কী খায় সেভাবেই খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাহলে তো আর এই ধরনের একটা জিনিসের জন্য কান্নাকাটি শোনা যাবে না। 

তিনি বলেন, ইদানীং সবাই দেখেছেন প্রত্যেকটা জিনিসের দাম কিন্তু হ্রাস পেয়েছে, একেবারে কমে নাই তা না। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য এটার যদি দাম বেশি কমে যায় তাহলে কৃষক পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। আবার যদি দাম বেশি বেড়ে যায় তাহলে যারা নির্দিষ্ট আয়ের লোক তাদের জন্য কষ্ট হয়, ভোক্তার জন্য কষ্ট হয়। আমাদের কিন্তু সব সময় কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য পায়, কৃষক যেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে সেদিকে যেমন আমাদের লক্ষ্য রাখতে হয়, উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করলে ভোক্তারাও যেন সহনশীল দামে কিনতে পারে সে ব্যবস্থাটার দিকেও আমাদের দৃষ্টি দিতে হয়।

এ বিষয়ে সরকার যথেষ্ট সচেতন। তাই আমাদের নিজস্ব উৎপাদিত পণ্যে ব্যবহারের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। আর দেশে এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে, সবাই পতিত জায়গায় কিছু খাদ্যসামগ্রী উৎপাদন করলে আমাদের কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে না। 
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবুল কালামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অনেক টাকা খরচ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি, ভর্তুকি দিয়ে কম দামে বিদ্যুৎ দিচ্ছি।

পবিত্র রমজানের সেহরি ও ইফতারের সামনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রচেষ্টা আছে। জ্বালানি ও এলএনজি সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, এক সময় তো দেশের মানুষ বিদ্যুৎই পেত না। দিনে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হতো। এখন তো সে অবস্থা নেই। তবে আমি মনে করি মাঝে মধ্যে লোডশেডিং দেওয়া ভালো, নইলে মানুষ বুঝতে পারবে না আগে কী অবস্থায় ছিল, এখন কেমন অবস্থায় আছে।

মূল প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, বিশ্ববাজারের কারণে দেশে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ অনুভূত হচ্ছে। তবে রোজা উপলক্ষে সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সকল প্রকার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। তাই জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার সবসময় সচেষ্ট। এ লক্ষ্যে সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সকল প্রকার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

ইতোমধ্যে আমরা ভোগ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিকে অনেকাংশে সংযত করতে পেরেছি। তবে, বিশ্ববাজারের কয়েকটি পণ্য যেমন জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল, গম, সারসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের দেশে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতির চাপ অনুভূত হচ্ছে। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য নিয়ন্ত্রণসহ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- মূল্যস্ফীতি কমাতে বিভিন্ন শুল্ক ছাড় প্রদান করা হচ্ছে; অপরিশোধিত সয়াবিন, পরিশোধিত-অপরিশোধিত পাম তেল আমদানিতে আমদানি পর্যায়ে শতকরা ১০ ভাগ এবং উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত সমুদয় ভ্যাট হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র রমজানে খেজুরের চাহিদা বিবেচনায় খেজুর আমদানিতে শুল্কায়নের ক্ষেত্রে যৌক্তিক মূল্যকে ভিত্তি ধরে শুল্কায়ন করা এবং কাস্টমস শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক রহিত করতে গত ৭ ফেব্রুয়ারিতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরোপণীয় আমদানি শুল্ক শতকরা ২৫ ভাগ হতে হ্রাস করে ১৫ ভাগে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংসদ নেতা বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিবেচনায় পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনির আমদানি শুল্কহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল আমদানিতে আরোপণীয় সমুদয় আমদানি শুল্ক হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং রেগুলেটরি ডিউটি ২৫ শতাংশের পরিবর্তে পাঁচ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নীতি (রেপো) সুদহার দফায় দফায় বাড়িয়ে মে ২০২২ এর চার দশমিক ৭৫ শতাংশ হতে সর্বশেষ আট শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

পাশাপাশি, রিভার্স রেপো রেট (এসডিএফ) বৃদ্ধি করে ছয় দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে এবং ঋণের সুদহারের উর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। নীতি সুদহার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি করায় বাজারভিত্তিক গড় সুদ হারে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আশা করা যায় যে, শীঘ্রই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে। 
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ক্রলিং পেগ ভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্ধারিত করিডোরভিত্তিক এ ব্যবস্থা  বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের অস্বাভাবিক উত্থান-পতন রোধ করবে বলে আশা করা যায়। ফলে এটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে।

আগামী রোজায় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার অভিপ্রায়ে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত জোগানের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যতম নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে ভারত সরকারের কাছ থেকে এক লাখ টন চিনি এবং ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ সরবরাহের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
তিনি জানান, কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে  দৈনিকভিত্তিতে কৃষিপণ্যের বাজার দর প্রকাশ করা হচ্ছে। আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে নিম্ন আয়ের মানুষের নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ ও দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরীর ২৫টি স্পটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে দুধ, মাংস ও ডিম বিক্রির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে আমদানি সংশ্লিষ্ট শুল্ক স্টেশনসমূহ ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুর দ্রুত খালাসকরণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, কৃষি পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য আমদানি বন্ধ না রেখে লীন পিরিয়ডে পণ্য সরবরাহ বৃদ্ধিকল্পে প্রয়োজনে মৌসুমভিত্তিক শুল্ক আরোপের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। দেশের দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব প্রশমনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে এবং সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা শহরসমূহে ৩০ টাকা কেজি দরে ওএমএস চাল বিক্রি করা হচ্ছে। কৃষিখাতে প্রদত্ত ভর্তুকি ও প্রণোদনা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে পরোক্ষভাবে কৃষিজাত পণ্যের মূল্য নিম্নমুখী রাখতে সহায়তা করে। 
তিনি জানান, ২০২৩- ২৪ অর্থবছরে কৃষি ভর্তুকি ও প্রণোদনা হিসেবে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে খাদ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে সে লক্ষ্যে প্রতিটি মিলের পাক্ষিক মিলিং ক্ষমতা ধানের ক্ষেত্রে পাঁচগুণ থেকে কমিয়ে তিনগুণ করা হয়েছে।

মজুত রাখার এ বিধান সংশোধন করায় বাজারে ধানের সরবরাহ বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং অবৈধ মজুত রোধ করা সম্ভব হচ্ছে। চালকল মালিক এবং খাদ্যশস্য ব্যবসায়ীদের গুদাম নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। অটো রাইস মিলসমূহ হতে চালের বস্তার গায়ে-ধানের জাতের নাম, প্রস্তুতকারক মিলের নাম ঠিকানা, নিট ওজন, উৎপাদনের তারিখ এবং মিল গেটে চালের মূল্যের তথ্য লিখে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সব পদক্ষেপের ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষ করে দরিদ্র পরিবার, বয়স্ক, বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা মহিলাসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় যেমন স্বস্তি আসবে, তেমনি পবিত্র রমজান মাসে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে থাকবে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে আমি আশা করছি।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের জীবনমানেরও উন্নয়ন ঘটেছে। তাই অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি জ্বালানি, প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদাও ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। ফলে গ্যাস চাহিদার সরবরাহ সামঞ্জস্যপূর্ণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সময় জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার ফিরিস্তি তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

দুর্নীতি দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতি’র কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির কারণে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। কেবল আইন প্রয়োগ ও শাস্তির মাধ্যমে দুর্নীতি রোধ সম্ভব নয়। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দুর্নীতি মূলোৎপাটন করা হবে।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেগুলোতে পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনার স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সিদ্দিকুল আলমের প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, বিহারি ক্যাম্পে বসবাসকারীদের পুনর্বাসনকল্পে ও তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয় চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় উপযোগী প্রতীয়মান হলে সরকারি অর্থায়নে বা অনুদানে পরিকল্পিত বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা যেতে পারে।

×