ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

জাকিয়া সুলতানা টিভি উপস্থাপক 

অপরাজিতা প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৩৪, ৮ ডিসেম্বর ২০২৩

জাকিয়া সুলতানা টিভি উপস্থাপক 

জাকিয়া সুলতানা

বাংলাদেশে সমসংখ্যক নারীর বহুল ও ব্যতিক্রমী পেশা আজ নজরকাড়াই শুধু নয় সময়ের দাবি মেটানোরও অপরিহার্যতা। গণমাধ্যমের হরেক আঙিনায় নারীদের সদর্প বিচরণ শুধু সময়কে প্রতিনিধিত্ব নয় নিজেদের প্রমাণ করারও সুবর্ণ সুয়োগ। দেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়ন মহাযজ্ঞের অনন্য পরিকল্পনায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লাগাতার  ১৫ বছরের শাসনের ধারাবাহিকতায় নারীবান্ধক ব্যাপক কর্মযোগে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অস্বীকার করার কোনো উপায়ই নেই।

জাকিয়া সুলতানা এমন এক অনন্য সফল নারী যিনি তথ্যপ্রযুক্তির বলয়ে নিজেকে প্রমাণ করার চাইতেও অন্য অনেক নারীকে আলোকিত পথ নির্দেশ করে যাচ্ছেন। সফল-অসফল সব নারীই সুযোগ পাচ্ছেন শুধু নয় বরং তাদের জীবনের গল্পও নতুন মোড়কে চমৎকৃত করার মতোই। নেক্সাস টেলিভিশনের নান্দনিক উপস্থাপক জাকিয়া সুলতানা। নারীদের বহুমুখী পদচারণায় তথ্যপ্রযুক্তির সমৃদ্ধ আঙিনা আজ দৃষ্টিনন্দন। তাছাড়া সমসংখ্যক নারীর বৈচিত্র্যিক ও ব্যতিক্রমী পেশায় অনন্য অভিযোজন এক অনুপম নজির। যে কোনো ব্যক্তির জীবন শুরু হয় পারিবারিক সমৃদ্ধ আলয়ের মুক্ত স্বাচ্ছন্দ্য পরিবেশে। সেখানে পিতা-মাতার যুগান্তকারী ভূমিকায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এগিয়ে যাওয়া আজ কল্পকথা নয় মোটেও। তবে গত শতাব্দীর শেষলগ্নেও এমন অবারিত দ্বার নারীদের জন্য সেভাবে অবারিত ছিলই না সকলেরই জানা।

বলছিলাম একজন টিভির উপস্থাপক জাকিয়া সুলতানার গল্প। পাবনার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর অঞ্চল। দেশের এক অনন্য সমৃদ্ধ স্থান হিসেবে আজও বহুল খ্যাত। শাহজাদপুর মানেই রবীন্দ্রধন্য  এক বাংলাদেশের অনন্য পীঠস্থান। যা জন্ম থেকে দেখে দেখে বড় হয়েছেন জাকিয়া। অতি শৈশব থেকেই সঙ্গত কারণে রাবীন্দ্রিক সুর মূর্ছনা অন্তরের গভীরতম স্থানে চিরস্থায়ী শৌর্যে জিইয়ে থাকা আজও আধুনিক বলয়েরও নির্মাল্য বলে অকুণ্ঠচিত্তে জানালেন। পিতা এ এম আহমদ। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা। মাতা ফিরোজা আহমেদ। একজন সুদক্ষ গৃহিণী। সন্তানদের তৈরি করেছেন অনন্য জীবন বোধে। ৮ ভাই বোনের মধ্যে ৬ জনই কন্যা। ২ পুত্রের সঙ্গে কখনো বৈষম্য পীড়িত আচরণ দৃশ্যমান হয়নি।

জাকিয়া দর্পভরে বললেন বরং আমরা ৬ বোনই ভীষণভাবে আদরে, আবদারে স্বাধীনতায় নিজেদের গড়ে তুলতে পেছনের দিকে তাকাতেই হয়নি। পিতা সরকারি অফিসার হওয়ার সুবাদে সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকায় শৈশব কৈশোর অতিক্রম জীবনের এক অনন্য সময়। পারিবারিক নির্মল আবহে শুধু সাংস্কৃতিক দ্যোতনাই নয় বরং সাঙ্গিতিক পরিবেশ ও তাদেরকে মুক্ত স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত করে তোলে। যে জীবন সুর আর সাহিত্যে ভরপুরই শুধু নয় নিয়মিত চর্চা, অনুশীলনও উপভোগ্য ছিল। পাবনা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং পাবনা অ্যাডওয়ার্ড মহাবিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক করে জীবনের একটি বিশেষ পর্ব সম্পন্ন করাও অবিস্মরণীয় এক যাত্রাপথ।

তারপর ভর্তিযুদ্ধে নেমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট্যতত্ত্ব বিভাগে স্নাতক স্নাতকোত্তর করে উচ্চশিক্ষায় নিজেকে অনন্য করে তোলেন। বাংলাদেশের স্বনামধন্য নাট্যজন ড. সেলিম আলদিনের সমৃদ্ধ ছায়ায় নিজের শিক্ষাজীবনকে পরিপূর্ণ করে আজও মনে হয় ধন্য হলাম একজন পাহাড়সম ব্যক্তিত্বকে শিক্ষক হিসেবে পেয়ে। আর রবীন্দ্রনাথ তো জীবনে, মননে, আচার নিষ্ঠতায় কেমন যেন অনুষঙ্গ হয়েই থাকলেন। বাণী আর সুরের অনবদ্য ঝংকারই শুধু নয় বরং কবিতা, নাটক, ছোটগল্প, উপন্যাস আর প্রবন্ধ সাহিত্যেও নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়ে আজও তৃষ্ণা মেটেনি। 
পরবর্তীতে যুক্ত হলেন নেক্সাস টেলিভিশনের প্রযোজক ও উপস্থাপক হিসেবে। তবে সচেষ্ট থাকলেন অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া নারীদের অনন্য আর ন্যূনতম সফলতা ও দর্শক-শ্রোতার সামনে তুলে ধরা। সেখানে শুধু সফলতা-বিফলতা নয় লড়াকু নারীরাও স্থান করে নিতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা অবারিত করে যাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে বহু নারীবান্ধব অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় নিজেকে সমৃদ্ধ করতে চাওয়াও এক আবশ্যক কর্মদ্যোতনা। তার নিজের করা হরেক সর্মসূচি উল্লেখ না করলে এমন উদার মানবিক মানুষটিকে চেনাই দুঃসাধ্য হবে। লেডিস ক্লাবের মাধ্যমে সকল শ্রেণি পেশা নারীদের নিয়ে নিয়মিত আলাপ আলোচনায় শরিক হয়ে সংশ্লিষ্টদের সুপ্ত অনুভবকে জাগিয়ে তোলেন।

‘তুমিই প্রথম’ শিরোনামে বিভিন্ন আঙিনার সফল নারীদের উপস্থাপন করাও তার নিয়মিত কর্মযোগের অনন্য অনুষঙ্গ। ‘স্টারমম’ কৃতী মাদের নিয়ে অভাবনীয় এক কর্মদ্যোতনা। যে মা শত কাঠখড় পুরিয়েও সন্তান গড়ে তোলার অনন্য এক মহীয়সী নারী। শুধু লেখাপড়া নয়, চারিত্রিক গঠন প্রণালি, মানবিকতা, চেতনার বিকাশ চারিত্রিক গঠন প্রণালি, মানবিকতা, চেতনার বিকাশ সবই একজন দক্ষ মায়ের অনন্য কর্মসাধনা। জাকিয়া তাদের সসম্মানে তার টিভির চ্যানেলে এনে অনুষ্ঠান আয়োজনে বিভিন্ন সফলতাকে আনন্দের সাগরে ভাসিয়ে দেন। তারুণ্যের প্রতীক নারীদের নিয়েও তার প্রতিদিনের কার্যক্রম রয়েছে প্রযুক্তির এই সমৃদ্ধ আঙিনায়। যা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দৃশ্যমান হয়ে সফল ও কৃতী নারীদের অভাবনীয় কর্মসাধনা সকলকে উৎসাহ উদ্দীপনায় ভরে তোলে।

এমন দৃষ্টান্ত অন্যদের জন্য শুধু উপভোগ্য নয় উৎসাহ, অনুপ্রেরণার নিয়ামক হতেও সময় নেয় না। নিজে উপস্থাপনা করেন ঠিকই তবে অংশ নেওয়া নারীদের সুযোগই বেশি থাকে তাদের গড়ে ওঠা, সন্তান মানুষ করার জীবন নিয়ে অভিমত দেওয়ার। জাকিয়া সুলতানা নিজে এক সফল নারীই শুধু নন বরং অন্য রমণীরও অনেকের সামনে তুলে ধরার কর্মযোগে আপন সত্তাকে সমর্পণ করেন। তাই মনে হয় নিজ দক্ষতা আর সফল কর্মযোগে জাকিয়া সুলতানাই যথার্থ অপরাজিতা নারী। 
অপরাজিতা প্রতিবেদক

×