ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১

রমজানে জীবন যাপন

শিউলী আহমেদ

প্রকাশিত: ২২:১২, ২৬ মার্চ ২০২৩

রমজানে জীবন যাপন

.

শুরু হয়েছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ইবাদতের মাস রমজান। বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় মাসে ইবাদত বন্দেগির সওয়াব অনেকগুণ বেশি হওয়ায় ধর্মপ্রাণ মুসলমান সময়ে ইবাদতে মশগুল হতে চায়। আবার রোজায় প্রতিদিনের জীবনযাপনের রুটিনে ঘটে বিশাল পরিবর্তন। তাই অনেকে এই সময়ের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হিমশিমও খায়। ফলে কেউ আফসোসও করে ধর্মকর্মে মন দিতে পারছে না বলে। বিশেষ করে চাকরিজীবীদের সব কিছুতে খাপ খাওয়ানো একটু কষ্টকরই হয়ে যায়। সারাদিন অফিস করে এসে ইফতার বানানো, রাতের রান্না রীতিমতো যুদ্ধের মতো। তাই আগে থেকেই কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে সবকিছু অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

পূর্ব প্রস্তুতি : রোজার বাজার, ঘর গোছানো, ইফতারের কিছু আইটেম আগেই তৈরি করে ফ্রিজআপ করে রাখা ইত্যাদি কাজগুলো যারা আগে থেকে করেননি বা এখনো কিছুটা বাকি আছে, তারা এখনই একটা ছুটির দিনে করে নিন। আগে থেকে একটু গুছিয়ে রাখলে আর নিত্যদিনের কাজগুলোর একটু পরিবর্তন করলে অনেক সহজেই সবকিছু সামলে নিতে পারবেন। আর যাদের এই কাজগুলো হয়ে গেছে তারা খেয়াল করুন আর কিছু বাকি পড়ল কিনা। রোজার শেষের দিকে কিছুটা ক্লান্তি অনুভূত হয়। তাই এখনই ছুটির দিনে কাজগুলো গুছিয়ে নিন। তা হলে রোজ রোজ এগুলো নিয়ে আর বাড়তি কষ্ট করতে হবে না।

ইফতার রান্না : রোজায় অফিসের সময় পরিবর্তিত হয়। কিন্তু রাস্তায় জ্যামের কারণে অল্প সময়ে বাসায় পৌঁছানোটা কঠিন হয়ে যায়। তাই আগের রাতেই ভেবে রাখুন পরদিন ইফতার আর রাতের রান্নায় কি কি করবেন। অফিস থেকে এসেই মাছ বা মাংস ফ্রিজ থেকে বের করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ইফতারের প্রস্তুতি নিন। বাইরের ইফতার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। ভাজাপোড়াও এড়িয়ে চলুন। ইফতারের পর নামাজ পড়ে একটু রেস্ট নিয়ে রাতের রান্না বসিয়ে দিন। অথবা যদি ইফতারের আগে কিছুটা সময় হাতে থাকে তখন মাছ বা মাংস অল্প আঁচে চুলায় বসিয়ে দিতে পারেন। এতে কষানোর কাজটা হয়ে যাবে।

মিলেমিশে কাজ করুন : দুজনেই চাকরিজীবী হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মেয়েরা ঘরে এসেই কাজে লেগে পড়ে। আর ছেলেরা আরাম করে। তা না করে ছেলেরাও ঘরের কাজে সহায়তা করলে কাজগুলো যেমন দ্রুত শেষ হয়, তেমনি মেয়েদেরও কষ্ট কমে যায়। আর এতে একজনের ওপর কাজের চাপ যেমন কমবে, তেমনি কাজগুলোও দ্রুত হবে, আর দুজনের মাঝে শ্রদ্ধা-ভালোবাসাও বাড়বে।

নিয়ম মেনে চলুন

রোজায় সেহরি, ইফতার, নামাজের জন্য খাদ্যাভ্যাস জীবনযাত্রায় বেশ পরিবর্তন আসে। তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চললে হুট করে শারীরিক বা মানসিক সমস্যায় পড়তে হবে না-

ইফতার : রোজা মানেই চোখে ভাসে ইফতারে পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, সবজি পাকোড়া, ছোলা, গুগনি ইত্যাদি মুখরোচক ভাজাপোড়া খাবার। আমাদের দেশে রোজার সঙ্গে এসব খাবার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এক কথায় বলতে গেলে এগুলো আমাদের রমজান মাসের ঐতিহ্য। কিন্তু এগুলো কোনোভাবেই স্বাস্থ্যকর নয়। এসব তেল-মসলাজাতীয় ভাজাপোড়া খাবার বুক জ্বালা বদহজমের কারণ হতে পারে। তাই / দিন এই ঐতিহ্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বিদায় জানান। রোজায় সুস্থ থাকুন। শরীর সুস্থ রাখতে সারাদিনের দুর্বলতা দূর করতে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করুন। আর খেজুর খেয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নতও। তারপর পরিমাণমতো পানি বা পানীয় (বিভিন্ন রকম ফলের জুস বা রস) পান করুন। আমরা অনেকেই ইফতারের শুরুতেই একবারে অনেক পানি শরবত পান করে নেই। আবার ইফতারও অনেক খেয়ে ফেলি। যা মোটেও ঠিক নয়। সবকিছুই অল্প অল্প করে পরিমাণমতো খাবেন। খেজুর, শরবত, পানি আর অল্প ইফতার করে নামাজ পড়ে এসে আবার অল্প অল্প করে খান। ঘরে তৈরি বিভিন্ন রকম স্যুপ খেতে পারেন। এটি পানির অভাব পূরণ করবে, পাকস্থলীও সুস্থ রাখবে। বেশি করে সালাদ খেতে পারেন। ছাড়া দই, চিড়া, কলা বা পাকা মিষ্টি ফল একসঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন। এটি পেট ঠান্ডা রাখবে। ইফতারের পর ক্লান্তি দূর করার জন্য আমরা চা, কফি পান করি। এটিও যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

রাতের খাবার ঘুম : অনেকেই আছেন যাদের ইফতারের পর রাতে আবার একটু ভাত না হলে চলে না। আবার রোজায় ভোরে উঠে সেহরি করতে হয় বলে তাড়াতাড়ি ঘুমাতেও হয়। সঙ্গে রয়েছে তারাবি নামাজ। সব মিলিয়ে সময় অনেক কমে যায়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। চাকরিজীবীদের জন্য এটি কিছুটা সমস্যাই হয়ে যায়। তাই এই একটা মাস মোবাইল, ইন্টারনেট, টিভি দেখা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। আজানের সঙ্গে সঙ্গে তারাবি নামাজ পড়ে খেয়ে নিন। এরপর একটু বিশ্রাম নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন, যাতে ঘুমটা পূর্ণ হয়, আর ভোরেও তাড়াতাড়ি ওঠা যায়।

সেহরি : সেহরিতে সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করুন। এগুলোর মধ্যে আছে আঁশযুক্ত, প্রোটিনসমৃদ্ধ, সুষম খাবার। যেমন- শাক-সবজি, ফলমূল, রুটি, বাদাম, কম চর্বিযুক্ত মাংস, মাছ, দুধ দুগ্ধজাত খাবার, ডিম ইত্যাদি। যারা ডায়েট মেনে চলতে চান তারা সময় ১টি সিদ্ধ ডিম, ১টি কলা বা কমলা, ২টি রুটি বা কাপ ভাত খেতে পারেন। সঙ্গে সবজি খাবেন বেশি করে আর লো ফ্যাট সমৃদ্ধ গ্লাস দুধ।

সারা বছর অপেক্ষা করে থাকা রোজার মাসটা মুসলিমদের কাছে একটা উৎসব ভাব নিয়ে আসে। মাসের শেষে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। উৎসবমুখর এই মাসটা যেন থাকে প্রাণবন্ত সুখকর। ইবাদত বন্দেগিতে সবাই শরিক হোন তৃপ্তি সহকারে।

 

×