ঢাকা, বাংলাদেশ   বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯

পাকিস্তানে বন্যাদুর্গতদের পাশে এ্যাঞ্জেলিনা জোলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:২৯, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

পাকিস্তানে বন্যাদুর্গতদের পাশে এ্যাঞ্জেলিনা জোলি

এ্যাঞ্জেলিনা জোলি

পাকিস্তানে দীর্ঘ সময় ধরে চলা ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ। পর্যাপ্ত সুষম খাবার, পানি ও চিকিৎসা পাচ্ছে না দেশটির মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করতে পাকিস্তান সফরে গেছেন বিখ্যাত হলিউড তারকা এ্যাঞ্জেলিনা জোলি। মঙ্গলবার পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচিতে পৌঁছান তিনি। এরপরই ব্যস্ততা শুরু হয় তার। বুধবারও প্রদেশটির বিভিন্ন জায়গায় বন্যাদুর্গতদের দেখতে যান তিনি। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউন অনলাইনের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সল্ট’ সিনেমার এই অভিনেত্রী মঙ্গলবার পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের দাদু শহরে পৌঁছান। সেখানে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের কাছ থেকে সরাসরি তাদের চাহিদা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ভোগ প্রতিরোধের পদক্ষেপ সম্পর্কে শোনেন। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী এ্যাঞ্জেলিনা জোলি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করার জন্য পাকিস্তান সফর করছেন। পাকিস্তানে প্রবল বর্ষণ এবং বন্যায় ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশের এক-তৃতীয়াংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চাহিদা সরাসরি শুনতে পাকিস্তান সফর করছেন তিনি।’

আইআরসি’র বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইতিপূর্বে ২০১০ সালের বন্যা এবং ২০০৫ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে পাকিস্তান সফর করেছিলেন জোলি। সফরে তিনি আইআরসি’র জরুরী কার্যক্রম এবং আফগান শরণার্থীসহ বাস্তুচ্যুত লোকদের সহায়তাকারী স্থানীয় সংস্থাগুলোও পরিদর্শন করবেন। এ সময় অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তাদের জন্য জরুরী সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন।’ এক টিভি ফুটেজে এ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় সিন্ধু প্রদেশের রাজধানী করাচির একটি বিমানবন্দরে পৌঁছাতে দেখা যায়।
গত জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে সেখানে বন্যায় ৬৯২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বন্যায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পাঁচ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
এদিকে পাকিস্তানে বন্যার পানি নামতে শুরু করার পর পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগে হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন বলে সরকারী তথ্যে জানা গেছে।
এ সব রোগে ভুগে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্যাবাহিত রোগে মৃতের সংখ্যা ৩১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
দেশটির দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থা জানিয়েছে, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে ৫৫১ শিশু ও ৩১৮ জন নারী রয়েছেন। এই সংখ্যার সঙ্গে বন্যাবাহিত রোগে মৃতদের যুক্ত করা হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি নামতে দুই থেকে ছয় মাসের মতো লেগে যেতে পারে।
পানি নামতে শুরু করার পর বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে এবং প্রধানত সিন্ধু প্রদেশে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু জ্বর, ডায়রিয়া ও চর্ম রোগের প্রকোপ শুরু হয়েছে।