ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

কবি শঙ্খ ঘোষের স্মৃতিবিজড়িত

সন্ধ্যা নদীর সৌন্দর্য্য

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল

প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ২ জানুয়ারি ২০২৬

সন্ধ্যা নদীর সৌন্দর্য্য

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জীবনানন্দ দাশের পর বাংলা কবিতার তরী যারা বেয়ে নিয়েছেন আগামীর গন্তব্যের পথে। তাদের অগ্রপথিক ছিলেন বরিশালের সন্তান পশ্চিমবঙ্গের পদ্মভূষণ পদকে সম্মানিত কবি শঙ্খ ঘোষ। এ নিয়ে পুরো প্রতিবেদনটি সাজিয়েছেন আমাদের বরিশালের স্টাফ রিপোর্টার খোকন আহম্মেদ হীরা।
ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল। বরিশালের প্রতিটি এলাকায় জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য নদী। তেমনই একটি নদী সন্ধ্যা। আড়িয়াল খাঁ থেকে সন্ধ্যা নদীর উৎপত্তি হয়ে উজিরপুর ও বানারীপাড়া উপজেলা হয়ে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কঁচা নদীতে পতিত হয়েছে।
সন্ধ্যা নদীটি বরিশাল জেলার একটি প্রধান নদী। এটি বানারীপাড়া ও স্বরূপকাঠি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশজুড়ে প্রবাহিত। নদীটি বানারীপাড়া উপজেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে এবং এই অঞ্চলকে যোগাযোগ ও জীবিকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে সাহায্য করে। এই নদীটি স্থানীয় অর্থনীতি, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মৎস্য আহরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


প্রায় ৬১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই নদীটি হাজারো মানুষের জীবন জীবিকার উৎস। সন্ধ্যা নদীর অপরূপ মায়াবী দৃশ্য যে কারো মন কেড়ে নেয়। কবি শঙ্খ ঘোষের স্মৃতিবিজড়িত সন্ধ্যা নদী ছিলো তার শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিতে মাখা একটি স্থান। যা তার জন্মস্থান বরিশালের বানারীপাড়াকে ছুঁয়ে গেছে। তিনি (শঙ্খ ঘোষ) নদীটিকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং প্রায়ই কলকাতায় বসে এই নদীর তীরে ফিরে যাওয়ার কথা বলতেন। 
‘সন্ধ্যানদীর জলে : বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বইয়ে কবি শঙ্খ ঘোষ বাংলাদেশ সম্পর্কিত স্মৃতি, ভ্রমণ ও ভাবনাগুলো সংকলিত লিপিবদ্ধ করেছেন। যা নদীটির সঙ্গে তার গভীর সম্পর্কের প্রতিফলন। নদীর মায়াবী রূপে মুগ্ধ হয়ে কবি লিখেছিলেন ‘সন্ধ্যা নদীর জলে’ নামক বই। একসময় শত শত মাঝির নৌকা ও খেয়া নৌকায় সন্ধ্যা নদী মুখরিত ছিল। কালের বিবর্তনে সেই পালতোলা নৌকা আজ হারিয়ে গেছে।
সন্ধ্যা নদীর রয়েছে মানুষকে মুগ্ধ করার এক অলৌকিক ক্ষমতা। এখনো সন্ধ্যা নদীর তীরে মিনি কুয়াকাটাখ্যাত মনোমুগ্ধকর বাইপাস সড়কে সূর্যাস্ত দেখতে গোধূলি লগ্নে ভিড় করে হাজারো মানুষ। সন্ধ্যা নদীর ইলিশ সারাদেশে খুবই বিখ্যাত। এই অঞ্চলে নদী কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও মৎস্য আহরণের জন্য সন্ধ্যা নদী একমাত্র ভরসা। প্রতি সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার সন্ধ্যা নদীতে ভাসমান ধান ও চালের হাট বসে। সন্ধ্যা নদীকে ঘিরে ধান ও চালের কুঠিয়াল ব্যবসা প্রচলিত রয়েছে। এই নদীতে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি লঞ্চে যোগাযোগ রয়েছে। বাংলার শস্য ভান্ডার বরিশালের পণ্য ঢাকায় পরিবহনের জন্য এই লঞ্চগুলো ব্যবহৃত হয়।
বরিশালের কবি ও সাহিত্যিক শিকদার রেজাউল করিম জানিয়েছেন-সন্ধ্যা নদীর নামের উৎপত্তি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সন্ধ্যা শব্দটি সংস্কৃত ভাষায় ‘গোধূলি’ বোঝায়, যা দিন ও রাতের সন্ধিক্ষণকে নির্দেশ করে এবং এই নামটি নদীর গোধূলিকালীন সৌন্দর্য এবং পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীতে মানতা সম্প্রদায় নৌকায় বসবাস করেন। যেখানে নৌকাই তাদের ঘর, সংসার, জন্ম ও মৃত্যু। তারা প্রজন্ম ধরে নদীতে ভেসে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের নিজস্ব কোনো ভূমি না থাকায় মৃত্যুর পর তাদের দেহ নদীর তীরে মাটি দেয়া হয়। সন্ধ্যা নদীর বুকে তাদের জন্ম, নদীতে বেড়ে ওঠা, নদীতেই তাদের মৃত্যু।
কবি শঙ্খ ঘোষের মন ছুঁয়ে ছিল সন্ধ্যা নদী ॥ সন্ধ্যা নদীর কোল ঘেঁষে ইতিহাস-ঐতিহ্য ও জ্ঞানী-গুনীর চারণ ভূমি বরিশালের বানারীপাড়া। সেই সন্ধ্যা তীরের প্রাণকেন্দ্র পৌর শহরে ছিল ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মবিভূষণে ভূষিত আধুনিক বাংলা কবিতার পুরোধা ব্যক্তিত্ব কবি শঙ্খ ঘোষের পৈত্রিক বাড়ি। ২০২১ সালের ২১ এপ্রিল সকালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কলকাতার নিজ বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৯ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন বানারীপাড়ার আলো-ছায়ায় বেড়ে ওঠা সমকালীন বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান এ কবি। সেই সাথে বাংলার কবিতায় একটি যুগের অবসান ঘটে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জীবনানন্দ দাশের পর বাংলা কবিতার তরী যারা বেয়ে নিয়েছেন আগামীর গন্তব্যের পথে। তাদের অগ্রপথিক পশ্চিমবঙ্গের কবি শঙ্খ ঘোষ। শঙ্খ ঘোষের পারিবারিক নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। বাংলা কাব্য সাহিত্যে তার আর্বিভাব বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। বাংলা কবিতায় স্বতন্ত্র ভাষাভঙ্গির খোঁজে চল্লিশের দশকের যে তরুণ কবিরা কৃত্তিবাস বা শতভিষা পত্রিকাকে কেন্দ্র করে নতুন এক রোমান্টিক জগতের সৃষ্টি করেছিলেন, শঙ্খ ঘোষ তাদের একজন।শক্তি, সুনীল, শঙ্খ, উৎপল, বিনয় এই পাঁচ কবিকে বলা হতো জীবনানন্দ পরবর্তী বাংলা কবিতার পঞ্চপান্ডব।
সর্বশেষ কবি তার পূর্বপুরুষের ভূমিতে ১৯৯৭ সালে এসেছিলেন। আবারও আসার আকুতি ছিল তার। বার্ধক্যের কারণে শরীরে রোগ বাসা বাঁধায় সে আর হয়ে ওঠেনি। অনন্তলোকে পাড়ি জমানোয় শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি ঘেরা বানারীপাড়ার পৈত্রিক ভিটায় এসে প্রিয় সন্ধ্যা নদীর সৌন্দর্য অবগাহনের অভিপ্রায় তার অপূর্ণই থেকে গেল। ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ ও বাবার কর্মস্থল পাবনায় শিক্ষা জীবন কাটলেও শৈশব এবং কৈশোরের অনেকটা সময় তিনি বানারীপাড়ায় কাটিয়েছেন। কবির বংশীয় ভ্রাতুষ্পুত্র বানারীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার তরুণ ঘোষ বলেন, বানারীপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষের বাড়ি কবির পৈত্রিক নিবাস। কবি ১৯৯৭ সালে বানারীপাড়া এসে পৈত্রিক ভিটাসহ তার শৈশবের স্মৃতি জড়ানো স্থানগুলো ঘুরে গেছেন।
তরুণ ঘোষ জানান, শঙ্খ ঘোষ শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি ঘেরা সন্ধ্যা নদীকে খুব ভালোবাসতেন। কলকাতায় গেলে বারবার বলতেন-‘আবার সন্ধ্যা নদীর তীরে যেতে চাই।’ বানারীপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা বলেছেন, আশির দশকেও একবার কবি বানারীপাড়ায় এসেছিলেন। তখন তাদের বাড়িতে মধ্যাহ্ন ভোজ করেন।
১৯৯৭ সালে কবি শঙ্খ ঘোষ বানারীপাড়ায় আসলে তার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলেন তৎকালীন বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও বর্তমানে বিটিভির সাংবাদিক সুজন হালদার। 
তিনি বলেন, কবি নৌকায় করে সন্ধ্যা ও এর শাখা নদীতে ঘুরে বেরিয়েছেন। দেখেছেন পৈত্রিক ভিটা-বাড়ি। যাওয়ার সময় তিনি পৈত্রিক ভিটার মাটি সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন। এরমধ্য দিয়ে পৈত্রিক ভিটের প্রতি তার মমত্ববোধ ও গভীর টান ফুটে ওঠে। তিনি আরও বলেন-২০২০ সালের ৮ মার্চ কলকাতার একটি কফি হাউসে কবির সাথে শেষ দেখা হয়। তখনো কবি বলেছিলেন-‘শেষবারের মতো আবার যেতে চাই বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীর তীরে।’ ১৯৯৭ সালে বানারীপাড়া ঘুরে তিনি লিখেছিলেন স্মৃতিকথা-‘সন্ধ্যা নদীর জলে’ বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে কবির স্মৃতিকথা বই আকারে প্রকাশিত হয়। ওই বইয়ে কবি লিখেছেন, ‘৫০ বছর পর চলেছি নিজ গ্রামে। পাকা রাস্তা ধরে গাড়ি চলছে বানারীপাড়ার পথে। আমাদের ছোট বেলায় বাহন ছিল নৌকা।’ আরও লিখেছেন-‘সকালের রোদে ঝলমল করছে সন্ধ্যা নদীর জল। স্টিমার ঘাট এখন আর নেই। আছে শুধু সারি বাঁধা নৌকা। মাঝিরা আমার কাছে জানতে চায়, আমি কি ওপারে যেতে চাই? সন্ধ্যা নদী ছুঁয়ে আছে আমাদের গ্রাম।’ ২০১৯ সালে বাংলা একাডেমির আমন্ত্রণে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে কবি শঙ্খ ঘোষ ঢাকায় আসলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেবার আর বানারীপাড়ায় ফেরা হয়নি। কলকাতায় থেকেও নিজ গ্রাম বানারীপাড়া ও সন্ধ্যা নদী তার মন ছুঁয়ে ছিল গভীর দেশপ্রেম ও মমত্ববোধে।


কবি শঙ্খ ঘোষের আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। বাবা মণীন্দ্রকুমার ঘোষ, মাতা অমলা ঘোষ। চাঁদপুরের মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণের পর তার শৈশব কেটেছে বরিশালের বানারীপাড়ার পৈত্রিক বাড়িতে। পরবর্তীতে বাবার কর্মস্থলের সুবাধে পাবনার চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠ থেকে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯৫১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনে শঙ্খ ঘোষ যাদবপুর ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। এরপর যাদবপুর থেকেই ১৯৯২ সালে তিনি অবসরগ্রহণ করেন।
কবি শঙ্খ ঘোষ শুধু কবিতাই লিখে যাননি, সময়ের প্রয়োজনে সোচ্চার হয়ে উঠেছিল তার কলম। বিশেষ করে নন্দীগ্রামে গুলির ঘটনায়, ভারতের নাগরিকত্ববিরোধী আন্দোলন কিংবা ধর্মীয় অসহিষ্ণুর বিরুদ্ধে তিনি বার বার কলম ধরেছেন। তার কাব্যসত্তার মধ্যেই প্রতিবাদী সত্তার এক অপূর্ব যুগলবন্দী লক্ষণীয়।
মৃত্যুর পর কবি শঙ্খ ঘোষের কবিতার কথাগুলো ফিরে ফিরে আসছে সোশাল মিডিয়ায়। ভক্ত-পাঠকরা লিখছেন তার সেই পংক্তি: ‘এত বেশি কথা বলো কেন? চুপ করো/শব্দহীন হও/শষ্পমূলে ঘিরে রাখো আদরের সম্পূর্ণ মর্মর/লেখো আয়ু। শঙ্খ ঘোষ ছিলেন একাধারে কবি, গদ্যশিল্পী, রবীন্দ্র গবেষক, সাহিত্য সমালোচক এবং শিক্ষক। রোমান্টিক শঙ্খ ঘোষের কাব্যভাষা প্রেমের লহরি বাজিয়েছে বাঙালি মধ্যবিত্তের বাস্তবতায় ভিন্ন এক ব্যঞ্জনায়। আবার তা প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে প্রায়ই।জরুরি অবস্থার মধ্যে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে শঙ্খ ঘোষের প্রতিবাদ এসেছে ছন্দের ছদ্ম আবরণে। আবার কখনো তা সরাসরি তীর হয়ে বিঁধেছে।
শাসকের মুখোশ খুলতে সবিনয় নিবেদন কবিতায় তিনি লিখেছেন: আমি তো আমার শপথ রেখেছি/অক্ষরে অক্ষরে/যারা প্রতিবাদী তাদের জীবন/দিয়েছি নরক করে। আবার কুচবিহারে খাদ্য-আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলির প্রতিবাদে শঙ্খ ঘোষের কলম লিখেছে: নিভন্ত এই চুল্লিতে তবে/একটু আগুন দে/হাতের শিরায় শিখার মতন/মরার আনন্দে।
হাল আমলে নাগরিকত্ব আইনেরও প্রতিবাদ এসেছে তার ‘মাটি’ কবিতায়। শঙ্খ ঘোষ তখন লিখেছেন: গোধূলিরঙিন মাচা ও পাড়ায় উঠেছে আজান/এ দাওয়ায় বসে ভাবি দুনিয়া আমার মেহমান/এখনো পরীক্ষা চায় আগুনসমাজ/এ মাটি আমারও মাটি সেকথা সবার সামনে কীভাবে প্রমাণ করব আজ।
শঙ্খ ঘোষের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দিনগুলি রাতগুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। এরপর বাংলা কবিতার পাঠকদের তিনি দিয়েছেন ‘মূর্খ বড় সামাজিক নয়’, ‘বাবরের প্রার্থনা’, ‘তুমি তো তেমন গৌরী নও’, ‘পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ’, ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’, ‘বন্ধুরা মাতি তরজায়’, ‘ধুম লেগেছে হৃৎকমলে’, ‘লাইনেই ছিলাম বাবা’, ‘গান্ধর্ব কবিতাগুচ্ছ’, ‘শবের উপরে শামিয়ানা’, ‘ছন্দের ভিতরে এত অন্ধকার’, ‘মাটিখোঁড়া পুরোনো করোটি’, ‘বহুস্বর স্তব্ধ পড়ে আছে’, ‘শুনি নীরব চিৎকার’, ‘আড়ালে’, ‘সবিনয়ে নিবেদন’, ‘এও এক ব্যাথা উপশম’সহ তিন ডজন কাব্যগ্রন্থ। 
এছাড়াও তার চার ডজন গদ্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-‘ওকাম্পোর রবীন্দ্রনাথ, ‘নিঃশব্দের তর্জনী’, ‘ছন্দের বারান্দা’, ‘উর্বশীর হাসি’, ‘শব্দ আর সত্য’, ‘নির্মাণ আর সৃষ্টি’, ‘কবিতার মুহূর্ত’, ‘কবির অভিপ্রায়’, ‘সময়ের জলছবি’, ‘এখন সব অলীক’, ‘লেখা যখন হয় না’র মত বই। শঙ্খ ঘোষ ছোটদের জন্যও বিশটির বেশি বই লিখেছেন।
‘বাবরের প্রার্থনা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৭৭ সালে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন শঙ্খ ঘোষ। কন্নড় ভাষা থেকে বাংলায় অনূদিত ‘রক্তকল্যাণ’ নাটকটির জন্য ১৯৯৯ সালে আবারও তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও রবীন্দ্র পুরস্কার, সরস্বতী সম্মান, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পাওয়া এ সাহিত্যিককে ২০১১ সালে পদ্মভূষণ পদকে সম্মানিত করে ভারত সরকার।

প্যানেল/মো.

×