ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া

রামরাই দীঘি অতিথি পাখির অভয়াশ্রম

আব্দুল্লাহ আল নোমান, রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রামরাই দীঘি অতিথি পাখির অভয়াশ্রম

শীত নামলেই যেন রাণীশংকৈলের আকাশে ডানা মেলে নতুন জীবন। ঝাঁকে ঝাঁকে রঙিন অতিথি পাখির আগমনে মুখর হয়ে ওঠে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রামরাই দীঘি। ভোর থেকে সন্ধ্যা-দিনভর দীঘির আকাশ আর জলরাশির ওপর উড়াউড়ি করে তারা। আর সন্ধ্যা নামলেই দীঘিপাড় ঘেঁষে থাকা লিচু বাগানে আশ্রয় নেয় এই দূরদেশি অতিথিরা। তাদের কিচিরমিচির কলতানে চারপাশ যেন মুহূর্তেই হয়ে ওঠে এক অনন্য প্রকৃতির মেলবন্ধন। এই দীঘি কেবল একটি জলাশয় নয়; এটি ইতিহাস, লোককথা, পরিবেশ এবং সম্ভাবনাময় পর্যটনের এক বহুমাত্রিক কেন্দ্র। প্রতিটি ঋতুতে দীঘির সৌন্দর্য ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়, শীতের কুয়াশা ও বর্ষার জলরাশির মিলন দর্শনার্থীকে মুগ্ধ করে। স্থানীয়রা মনে করেন, এ দীঘি কেবল জলাশয় নয়, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। পর্যটন, শিক্ষা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য এটি এক অনন্য শিক্ষণীয় ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করতে পারে, যা কেবল স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে না, বরং দেশের ইকো-ট্যুরিজমকে নতুন মাত্রা যোগ করবে। শীতের কুয়াশা ভোরে পাখিদের ডানা মেলা ও জলরাশিতে প্রতিফলিত সূর্যের আলো এক অনন্য দৃশ্যের সৃষ্টি করে, যা শুধু পাখিপ্রেমী নয়, সকল ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করে। প্রাকৃতিক আলো-ছায়ার খেলায় দীঘির জলরাশি কখনো নীলাভ, কখনো সোনালি আভা ধারণ করে; যেন প্রকৃতি নিজেই রঙের তুলিতে এঁকে চলেছে এক জীবন্ত চিত্রপট।

প্রাচীন বরেন্দ্র সভ্যতার জলাধারা-
বরেন্দ্র অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে খরা ও পানি সংকট প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ এবং বৃহৎ দীঘি খননের মাধ্যমে এখানকার মানুষ শত শত বছর আগে থেকেই টেকসই জলব্যবস্থাপনার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। ধারণা করা হয়, রামরাই দীঘির বয়স পাঁচ শ’ থেকে এক হাজার বছরেরও বেশি। যদিও নির্দিষ্ট কোনো শিলালিপি বা প্রামাণ্য দলিল পাওয়া যায়নি, তবুও স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে নানা কিংবদন্তি। কেউ বলেন, মধ্যযুগে কোনো প্রভাবশালী রাজা বা জমিদারের উদ্যোগে জনকল্যাণমূলক কাজ হিসেবে এই দীঘি খনন করা হয়েছিল। আবার অনেকে মনে করেন, পাল বা সেন আমলে উত্তরবঙ্গজুড়ে বৃহৎ জলাশয় নির্মাণের যে ঐতিহ্য গড়ে ওঠে, তার ধারাবাহিকতায় এ দীঘির সৃষ্টি।

রাণীশংকৈলের পরিষদের পক্ষ থেকে রামরাই দীঘিতে নির্মিত ভালোবাসার প্রতিকৃতিতে দর্শনার্থীদের ভীড়    -জনকণ্ঠ

মোগল আমলেও কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে বড় বড় দীঘি খননের নজির রয়েছে। স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, দীঘি কেবল পানি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে খনন করা হয়নি; এটি সামাজিক সংহতি, কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনের জন্য অপরিহার্য ছিল। বিশেষ করে খরা বা বন্যার সময় দীঘির পানি সরবরাহ নিশ্চিত করত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনধারণ। অনেক গবেষক মনে করেন, এ ধরনের বৃহৎ দীঘি খনন ছিল সমবায় ভিত্তিক উদ্যোগের ফল, যেখানে স্থানীয় জনগণ শ্রমদান করতেন। ফলে এটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। প্রাচীন জলাধার ব্যবস্থাপনার এই মডেল আজও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।

আয়তন ও প্রাকৃতিক বিন্যাস-
উপজেলা সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই দীঘিটির মোট আয়তন প্রায় ৪২.২০ একর। এর মধ্যে জলভাগ ২৩.৮২ একর এবং পাড়সহ বিস্তৃতি প্রায় ৪২ একর। উত্তর-দক্ষিণে দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৪০০ মিটার। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাচীন জলাশয়গুলোর মধ্যে আয়তনে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম। দীঘির চারপাশ উঁচু পাড়ে ঘেরা, যা প্রাচীন প্রকৌশল জ্ঞানের ইঙ্গিত বহন করে। পাড়ের উচ্চতা ও মাটির গঠন থেকে অনুমান করা যায়, দীর্ঘমেয়াদি পানি সংরক্ষণ ও ভাঙন রোধের কথা মাথায় রেখেই এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। চারপাশে প্রায় বারো শতাধিক লিচু গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরাজি দীঘিটিকে ঘিরে রেখেছে। এসব বৃক্ষ কেবল ছায়া প্রদান করে না; বরং পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবেও কাজ করে। বর্ষায় টলমলে জলরাশি আর শীতে কুয়াশায় আচ্ছন্ন নীরবতা দুই ঋতুতেই দীঘি ভিন্ন রূপে দর্শকদের মুগ্ধ করে। দীঘির জলজ উদ্ভিদ, শাপলা-শালুক, ছোট মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য প্রাণী স্থানীয় পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। যদি পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষতালিকা সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য জরিপ এবং জলমান পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া যায়, তবে এটি পরিবেশ গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 লোককথা ও জনজীবনের স্মৃতি-
রামরাই দীঘিকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা। কেউ বলেন, কোনো এক রাণীর নামে এর নামকরণ; আবার কেউ বলেন, রামরাই নামের কোনো জমিদার বা প্রভাবশালী ব্যক্তির উদ্যোগে এটি খনন হয়েছিল। গ্রামীণ সমাজে বড় দীঘিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠত সামাজিক মিলনমেলা, পূজা-পার্বণ, নৌকাবাইচ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রবীণরা জানান, একসময় এ দীঘির জল আশপাশের মানুষের প্রধান পানীয় জল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কৃষিকাজ, গৃহস্থালি ব্যবহার এবং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে দীঘির সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। দীঘি কেবল পানি সংরক্ষণে নয়, বরং মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। গ্রামীণ শিশুদের খেলা, বয়স্কদের আড্ডা এবং দীঘির তীরে অস্থায়ী হাটবাজার সবই সামাজিক বিন্যাসের একটি অঙ্গ ছিল। স্থানীয় লোকসংগীত ও আঞ্চলিক কথকতায় দীঘির উল্লেখ পাওয়া যায়, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। ফলে এটি একটি জীবন্ত ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হিসেবে আজও টিকে আছে।

অতিথি পাখির অভয়াশ্রম-
ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে জানুয়ারির প্রথম দিক এই সময়টিতে রামরাই দীঘি যেন আন্তর্জাতিক পাখির মিলনমেলায় পরিণত হয়। উত্তর মেরু অঞ্চল, ইউরোপ, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, তিব্বত এবং হিমালয়ের পাদদেশ থেকে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এখানে আসে। খাদ্যের প্রাচুর্য, নিরিবিলি পরিবেশ এবং নিরাপত্তা এই তিনটি উপাদান মিলেই দীঘিটিকে অতিথি পাখিদের জন্য আদর্শ আবাসস্থল রূপ দিয়েছে। সাদা বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, সারস, ঘুঘু, রাতচোরা, গাংচিল, পাতিহাঁস, বুনোহাঁস, খঞ্জনা, ওয়ার্বলার, হাড়গিলা, স্নাইপ বা কাদাখোঁচা, কোকিলসহ অসংখ্য প্রজাতির পাখি দীঘিতে উপস্থিত হয়। ভোরে সূর্যোদয়ের আলোয় তাদের দলবদ্ধ উড্ডয়ন আর সন্ধ্যায় লিচুবাগানে ফিরে আসার দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা গেলে এটি আন্তর্জাতিক মানের বার্ড ওয়াচিং স্পট হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য পাখির অভিবাসন, প্রজনন ও খাদ্যচক্র সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। স্থানীয় পর্যায়ে ‘বার্ড ফেস্টিভ্যাল’ আয়োজন করলে সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি পর্যটনও প্রসার লাভ করবে।  

প্রশাসনিক উদ্যোগ ও নিরাপত্তা-
উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে দীঘিকে আরও নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাড়ে দর্শনার্থীদের বসার জন্য গোলাকৃতির ছাতার ছাউনি, বেঞ্চ, একটি নৌকা, দুটি প্যাডেল বোট এবং একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও শিশুদের নানান রকম খেলাধুলা সামগ্রী সহ সামনের অংশে শোভাবর্ধন করা হয়েছে। এসব অবকাঠামো দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ. খাদিজা বেগম বলেন, ‘রামরাই দীঘি এখন অতিথি পাখির একটি অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। এখানে পাখি শিকারের কোনো সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান পাখি সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত-
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং জীববৈচিত্র্যের সমন্বয়ে রামরাই দীঘি পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা গেলে এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম স্পট হতে পারে। পর্যটন তথ্যকেন্দ্র, পাখি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, নির্দিষ্ট হাঁটার পথ, পরিবেশ বান্ধব খাবারের স্টল এবং স্থানীয় সংস্কৃতি তুলে ধরার ব্যবস্থা থাকলে এটি জাতীয় পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে সক্ষম হবে। শীত মৌসুমে দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন খাত, কৃষিপণ্য ও লিচু বাগান ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ে। তরুণদের জন্য গাইডিং, নৌকা পরিচালনা, হস্তশিল্প বিক্রি ও স্থানীয় খাবারের দোকান পরিচালনার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পরিকল্পিত বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দীঘিকে আঞ্চলিক পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর করা সম্ভব।

রাণীশংকৈলের বিভিন্ন স্থান থেকে রামরাই দীঘি দেখতে আসা দর্শনার্থীরা নৌকায় চরে ঘুরে আনন্দ উপভোগ করছেন    -জনকণ্ঠ

সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন-
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত পর্যটন পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা জরুরি। পাখির প্রজনন মৌসুমে নির্দিষ্ট এলাকা সংরক্ষিত রাখা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্লাস্টিকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা যেতে পারে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, জলমান পরীক্ষা ও জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কাউট দল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। গবেষণা ভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন করলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে।

ঐতিহ্য ও উন্নয়নের সমন্বয়ের আহ্বান- 
শতাব্দী প্রাচীন রামরাই দীঘি কেবল একটি জলাশয় নয়; এটি উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্য, পরিবেশ ও সামাজিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উন্নয়ন ও সংরক্ষণের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে দীঘিটি টেকসই পর্যটনের একটি মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সচেতন ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে এই ঐতিহ্যবাহী জলাধারকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে। সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি একযোগে কাজ করলে রামরাই দীঘি শুধু রাণীশংকৈল নয়, বরং সমগ্র দেশের গর্বের সম্পদে পরিণত হতে পারে যেখানে ইতিহাস, প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও উন্নয়ন একসাথে এগিয়ে যাবে। 

রাণীশংকৈলের রামরাই দীঘিতে ভর দুপুরে ঘোরাঘুরির শেষে ক্লান্ত হয়ে আইসক্রিম খাচ্ছে শিশুরা    -জনকণ্ঠ

প্যানেল/মো.

×