টাঙ্গাইল জেলা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এক স্থান। এখানে আছে ছোট-বড় অনেক জমিদার বাড়ি। ছুটির দিনগুলোতে বিভিন্ন সময়ে পর্যটকরা আসেন টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত জমিদার বাড়ি দেখতে। বিখ্যাত সব জমিদার বাড়ি দর্শনের পাশাপাশি টাঙ্গাইলের বিখ্যাত চমচমের স্বাদ নিয়ে একদিনেই ঘুরে বেড়াতে পারেন পর্যটকরা। লর্ড কর্ণওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নামে একটি জমিদারি প্রথা চালু করেন। এই প্রথার মাধ্যমে পুরো বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদারি প্রথা ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পুরো ভারতবর্ষের হিসাব-নিকাশ ব্রিটিশদের জন্য সহজ হয়।
পৃথিবী বদলে গেছে। বদলে গেছে জমিদারি প্রথাও। সেই জমিদার এখন নেই! নেই জমিদারি শাসন ব্যবস্থাও। কিন্তু তাদের বাড়িগুলো আজও রয়ে গেছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। জমিদার বাড়ির শতবর্ষী পুরানো দেয়ালগুলো আমাদের ইতিহাস আর কালের সাক্ষী। ক্ষয়ে পড়া চুন-সুরকির আস্তরণগুলোয় লুকিয়ে আছে ঐশ্বর্যমন্ডিত ঐতিহ্য। জমিদারের বিলাসী প্রাসাদের কারুকার্যখচিত ভবনের সমারোহ। ভবনের দেয়ালের প্রতিটি পরতে পরতে সৌন্দর্যের ছোঁয়া। দেয়ালগুলো শুধুই দেয়াল নয়, যেন অক্লান্ত ইতিহাস রচয়িতার অলঙ্কার খচিত জীবন্ত ইতিহাসের বইয়ের পাতা, যেখান থেকে আমাদের নবীন চোখ পড়ে নিতে পারে হাজার বছরের ইতিহাস। রাজ প্রাসাদের সামনের সুবিস্তৃত বাগানও শুধুই বাগান নয়, শত বছরে হয় তো শত হাজারবার ঝরে গেছে গোলাপের পাপড়ি, কামিনীর পাতা, তবুও আজ পাতায় পাতায় লেখা রয়ে গেছে রাজা-রাণীর রোমান্টিকতার কড়চা, পাঁপড়িগুলোয় রাজকুমারীর হাতের স্পর্শ। তাই ভ্রমণ পিয়াসী ও ইতিহাস প্রেমীরা ঐতিহ্যের খোঁজে বারবারই ছুটে চলে জমিদার বাড়িতে।
এরই রেশ ধরে জমিদাররা নিজেদের বসবাসের জন্য বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলেন সুন্দর সব অট্টালিকা, যা পরবর্তী সময়ে রাজবাড়ি নামে খ্যাতি পায়। একেক জমিদারের শৌখিনতা ফুটে উঠতো তাদের কারুকার্যপূর্ণ রাজবাড়িগুলোতে। প্রতিটি জমিদার বাড়িই তখনকার শিল্পীদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় পূর্ণতা পেত। বহু বছর কেটে গেলেও এসব জমিদার বাড়ি আজও মাথা উঁচু করে সগৌরবে দণ্ডায়মান রয়েছে। বাড়িগুলো কালের সাক্ষী হয়ে আজও সবার কৌতূহল বাড়াচ্ছে। এক টাঙ্গাইল জেলাতেই দেখা যায় অনেকগুলো জমিদার বাড়ি। তার মধ্যে কতগুলো আজও সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া বেশিরভাগই সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।
মহেড়া জমিদার বাড়ি : টাঙ্গাইল শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত মহেড়া জমিদার বাড়ি। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি। টাঙ্গাইলে অবস্থিত বিভিন্ন জমিদার বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হলো মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নে অবস্থিত মহেড়া জমিদার বাড়ি। আজও চকচক করছে বাড়ির দেওয়াল। বাড়ির দিকে তাকালেই আপনি বুঝতে পারবেন, তখনকার কারিগরদের হাতের ছোঁয়া কি অপূর্ব ছিল। ১৮৯০ সালেরও আগে নির্মিত হয় এই জমিদার বাড়ি। স্পেনের করডোভা নগরের আদলে নির্মিত করা হয় এই জমিদার বাড়ি।
কালীচরণ সাহা ও আনন্দ সাহা নামে দুই ভাই ১ হাজার ১৭৪ শতাংশ জমির ওপর এই বাড়ি নির্মাণ করেন। এই জমিদার বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পড়বে বিশাখা পুকুর। ভেতরে ঢুকলে চৌধুরী লজের দেখা পাবেন। এর পাশেই আছে আকর্ষণীয় এক ভবন। যার নাম আনন্দ লজ। তার পাশে আছে মহারাজ লজ। এই জমিদার বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও সুন্দর ভবনের নাম কালীচরণ লজ। ইংরেজি ইউ অক্ষরের আদলে করা ভবনটি রানিদের জন্য নির্মাণ করা হয়। তাই একে রানি ভবনও বলা হতো। জমিদার বাড়ির ভেতরে বাগান, শিশুপার্ক, বিভিন্ন আর্টিফিশিয়াল স্থাপনা আছে। এছাড়া পাখ-পাখালি, বাগান, পুকুর, বিল্ডিং সব মিলিয়ে স্বপ্নপুরীর মতো মনে হয় মহেরা জমিদার বাড়ি।
মূলত জমিদার বাড়ি হলেও ১৯৭২ সালে পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ ট্রেনিং স্কুল করা হলে দিন দিন জমিদার বাড়িটির সৌন্দর্য বর্ধনে নেওয়া হয় নানা উদ্যোগ। বর্তমানে জমিদার বাড়িটি পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকার জমিদার প্রথা চালু করলে কালিচরণ সাহা ও আনন্দ সাহার পুত্ররা করটিয়ার ২৪ পরগনার জমিদারদের কাছ থেকে একটি অংশ বিপুল অর্থের বিনিময়ে কিনে নেন আর তখন থেকে শুরু হয় জমিদারি শাসন ও শোষণ। তৎকালীন জমিদারগণ হলেন, বুদাই সাহা, বুদ্ধু সাহা, হরেন্দ্র সাহা এবং কালীচরণ সাহা। আর তাদের হাত ধরে গড়ে ওঠে এই জমিদার বাড়িটি।
বাড়ির মূল ফটক দিয়ে সামনে এগিয়ে গেলে চোখ পড়বে চারটি লজ। আরও আছে কাচারি, নায়েব সাহেবের ঘর, গোমস্তাদের ঘর। জমিদার বাড়ির সামনেই আছে বিশাল এক দীঘি যার নাম বিশাখা সাগর। লজগুলোর পেছনে আছে পাসরা পুকুর এবং রানী পুকুর নামে দুটা পুকুর। এছাড়া পুলিশ মিউজিয়াম, মিনি চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক এবং পিকনিক স্পটও আছে।
জমিদার বাড়ির চারটি লজ। এরমধ্যে অন্যতম চৌধুরী লজ। প্রথমেই দেখা মিলবে এই ভবনের। এর ছাদের দেওয়ালটি অপূর্ব কারুকার্যে সজ্জিত। লজটি রোমান ধাঁচে নির্মাণ করা হয়। সামনে রয়েছে বিশাল সবুজ মাঠ যেখানে নানা দেশি-বিদেশি ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। সাদা ও নীলের সমন্বয়ে স্থাপনা মহারাজ লজ। এতে ১২টি কক্ষ আছে। আছে ঝুলন্ত বারান্দা, যা শূটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
আনন্দ লজ নামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভবনের সামনে রয়েছে বিশাল বাগান আর সিংহদ্বার। বাগানে বাঘ, হরিণ আর বিভিন্ন পশু-পাখির মূর্তি রয়েছে। আরও আছে কালীচরণ লজ ও রানী মহল। দৃষ্টিনন্দন এই জমিদার বাড়ির মাঝেও লুকিয়ে আছে এক বেদনাদায়ক স্মৃতি। ১৯৭১ সালের ১৪ মে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে স্থানীয় রাজাকার আল-বদরদের সহায়তায় পাকিস্তানি বাহিনী মহেড়া জমিদার বাড়িতে হামলা করে এবং জমিদার বাড়ির কূলবধূ যোগমায়া রায় চৌধুরীসহ পাঁচজন গ্রামবাসীকে চৌধুরী লজের মন্দিরের পেছনে একত্রে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক পণ্ডিত বিমল কুমার সরকার, মণীন্দ্র কুমার চক্রবর্তী, অতুল চন্দ্র সাহা এবং নোয়াই বণিককেও হত্যা করা হয়।
পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি : টাঙ্গাইল সদর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে নাগরপুর উপজেলার লৌহজং নদীর তীরে ১৫ একর জায়গা জুড়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়িতে ঢুকতেই চোখে পড়ে পুরানো মন্দির। লোকমুখে শোনা যায় শরৎ দিনে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত থাকতেন ভারতবর্ষের নামকরা প্রতিমা কারিগরেরা। কালের বিবর্তনে জায়গাটা এখন নির্জন, নেই আগের সেই গৌরব আভিজাত্যের ছাপ, নেই প্রতিমা তৈরির কোনো ব্যস্ততা। মন্দির ঘুরে দেখা গেল, এর কোথাও কোথাও ইট খসে পড়েছে, সেই পুরানো দিনের নকশা হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য। মন্দিরের পেছনে বিশাল তিনটি মহল, যা সেকালে তিন তরফ নামে পরিচিত ছিল। মহলগুলোর আলাদা কোনো নাম পাওয়া যায়নি। সবচেয়ে বড় মহলে বর্তমান পাকুটিয়া বিসিআরজি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিচালিত হচ্ছে।
দ্বিতল বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণ শৈলী মুগ্ধ করবে সবাইকে। তবে সংস্কারের অভাবে ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। তারপাশেই অপূর্ব লতাপাতার কারুকার্য খচিত বিশাল আরেকটি ভবন, যার মাথায় মূয়রের মূর্তি রয়েছে, এছাড়া কিছু নারী মুর্তিরও দেখা মিলে। লতাপতায় আছন্ন ভবনটির একাংশ বর্তমানে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং আরেক অংশে একটি বেসরকারি দাতব্য সেবা সংস্থা পরিচালিত হচ্ছে। এই ভবনের পিলারের মাথায় এবং দেওয়ালেও অসাধারণ নকশা দেখা যায়।
সবশেষে দ্বিতলবিশিষ্ট আরেকটি মহল যার সামনে বিশাল শান বাঁধানো সিঁড়ি। অন্যসব ভবনের সঙ্গে এই ভবনের নকশার যথেষ্ট মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তবে ভবনটির বারান্দা প্রশংসার দাবি রাখে। আর পুরানো সেই কাঠের দরজা তার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে কয়েক গুণ। ভবনটির মাথায় মূয়রের সঙ্গে দুই পাশে দুই নারী মূর্তির দেখা মিলে। সিঁড়ি বেয়ে ছাদে গেলে, গাছ গাছালির সুবজে ঘেরা পুরো জমিদার বাড়ির সৌন্দর্য বিমোহিত করবে সবাইকে। ভবনের ভিন্ন অংশ খসে পড়েছে, হারাচ্ছে রূপ লাবণ্য। বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন অংশ কলেজ কৃর্তপক্ষ ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। জমিদার বাড়ির পেছনে একটি দীঘি রয়েছে আর আছে দুইটি পরিত্যক্ত কুপ। একটি প্রাচীর ঘেরা ভাঙা বড় কূপের দেখা মিলে, যেখানে সেকালের জমিদার গিন্নিরা গোসল করতেন। এছাড়া জমিদার বাড়ির বিশাল মাঠের এক কোণে নাট মন্দির রয়েছে। এক সময় নাচে, গানে মুখর থাকত এই নাট মন্দির।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সাথে কলকাতার একটি বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। আর তার প্রেক্ষিতেই পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে আসেন ধনাঢ্য ব্যক্তি রামকৃষ্ণ সাহা মন্ডল। রামকৃষ্ণ সাহাই ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশদের কাছ থেকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে জায়গায় ক্রয় করে জমিদারী শুরু করেন। পরবর্তীতে রামকৃষ্ণ সাহা মন্ডলের দুই ছেলে বৃন্দাবন ও রাধা গোবিন্দ এবং তারপর বৃন্দাবন চন্দ্রের তিন ছেলে- ব্রজেন্দ্র মোহন, উপেন্দ্র মোহন এবং যোগেন্দ্র মোহন দীর্ঘকাল রাজত্ব করেন। এই তিন ভাইয়ের তিনটি মহলই তিন তরফে বিভক্ত। জমিদাররা সবাই ছিলেন প্রজানন্দিত। জমিদার বাড়িটি সংস্কার বা জমিদারদের ইতিহাস সংরক্ষণ না হওয়াতে একদিকে যেমন সৌন্দর্য হারাচ্ছে বাড়িটি। অন্যদিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে অজানা থেকে যাচ্ছে এর ইতিহাস।
হেমনগর জমিদার বাড়ি : পরীর দালান নামে সর্বাধিক পরিচিত হেমনগর জমিদার বাড়িটি দর্শনীয় স্থাপনা। এটি টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার শিমলাপাড়া মৌজায় বর্তমানে হেমনগর অবস্থিত। ভবনের ছাদে দু’টি পরীর ভাস্কর্যসহ অনেক কারুকার্যময় পুরোনো স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন বিখ্যাত এই বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ক্রমাগত ক্ষয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, তৎকালীন ব্যবসায়ী কালীচন্দ্র চৌধুরী সূর্যাস্ত আইনের আওতায় শিমুলা পরগনা জমিদারি ক্রয় করে জমিদারী পরিচালনা করেন। তিনি তদানীন্তন ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর থানার অন্তর্গত আম্বারিয়া এ্যাস্টেটের জমিদার ছিলেন। পরবর্তীতে তার একমাত্র পুত্র হেমচন্দ্র চৌধুরী জমিদারী পরিচালনার দায়িত্ব পান। তিনি আমবাড়িয়া স্টেটে বাড়ি নির্মাণ করে জমিদারী পরিচালনা শুরু করেন। কিন্তু আমবাড়িয়া থেকে যমুনার পূর্বপাড় হয়ে মধুপুর গড় পর্যন্ত বিস্তৃত শিমুলার পরগণার বিশাল জমিদারী পরিচালনা দুরূহ হয়ে উঠে। তাই তিনি ১৮৮০ সালে মধুপুর উপজেলার আমবাড়িয়া রাজবাড়ি ত্যাগ করে গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের সুবর্ণখালি গ্রামে নতুন রাজবাড়ি নির্মাণ করেন এবং সেখান থেকেই জমিদারি পরিচালনা শুরু করেন। সুবর্ণখালি ছিল যমুনা তীরের প্রসিদ্ধ নদীবন্দর। ঊনবিংশ শতাব্দির শেষ দশকে যমুনার করাল গ্রাসে বিলীন হয় সুবর্ণখালি নদীবন্দর ও হেমচন্দ্রের রাজবাড়ি।
তারপর জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী ১৮৯০ সালে শিমলাপাড়া মৌজায় নতুন একটি দ্বিতল রাজপ্রাসাদ বিশিষ্ট এই বাড়িটি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। সে সময় তিনি নিজের নামে শিমলা পাড়ার নামকরণ করেন ‘হেমনগর’। বাড়িটি পরিচিতি পায় হেমনগর জমিদার বাড়ি নামে। উঁচু ও প্রশস্ত দেওয়ালে ঘেরা বাড়ির ভেতরে সুপেয় পানির জন্য একাধিক কূপ খনন করা হয়েছিল। সেখানে ছিল চিড়িয়াখানা, পূজামণ্ডপ, হাতিশালা ও ফুলের বাগান। পরীর দালানের সামনেই ছিল দ্বিতল নাটঘর। বাড়িটির ভেতরে ও সামনে রয়েছে ইট ও সুরকি দিয়ে পাকা সান বাঁধানো ঘাটসহ বিশাল দিঘি। দালানের আশেপাশেও স্বজনদের জন্য সান বাঁধা ঘাটসহ দিঘি ও পাকা বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। ভবনের দেয়াল, পিলার, ফটকে রঙ্গিন কাঁচ ব্যবহার করে ফুল, তারা, গাছ ইত্যাদি তৈরি করা হয়েছে। অত্যন্ত কারুকার্য মণ্ডিত, দামি কড়ি ও অপূর্ব পাথরে মোড়ানো অগ্রভাগে দুটি পরীর ভাস্কর্যসমৃদ্ধ বাড়িটি লতাপাতার অপরূপ নকশায় তৈরি করেন দিল্লী ও কলকাতার কারিগর ও রাজমিস্ত্রি। ইটসুরকির তৈরি বাড়িটি দেখে মনে হয় যেন শিল্পকর্ম। ৬০ একর জায়গার উপর শত কক্ষবিশিষ্ট এ বাড়িটিকে ডাকা হয় পরীর দালান নামে।
একশত কক্ষ বিশিষ্ট বাড়িটি তিন একর জমির উপর নির্মিত। বাড়ির সামনে ও পিছনে দু’টি পুকুরসহ বাড়ির আঙ্গিনা ৩০ একর। চতুর্ভূজ আকারে বাড়ির প্রশস্ত দেয়ালবিশিষ্ট বাড়ির দু’পাশে রয়েছে সারি সারি ঘর। ইট, চুন, সুরকি দিয়ে নির্মিত দ্বিতলবিশিষ্ট বাড়ির সামনের অংশে কারুকার্য খচিত দর্শনীয় নকশা করা। হল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত কড়িপাথর দিয়ে নকশা করা ছাদের উপর দু’পাশে রয়েছে দুটি বিশ্রামরত পরীর মূর্তি। সামনে বিশাল ঘাট। পুরো আঙ্গিনা দেয়াল দিয়ে ঘেরা। এক সময় জমিদার প্রাসাদের পাশেই ছিল চিড়িয়াখানা ও নাট্যমঞ্চ। এখানে প্রায়ই কলকাতা থেকে শিল্পী ও জেনারেটর এনে আলোর ব্যবস্থা করে নাট্যমঞ্চে মঞ্চায়িত করতেন যাত্রা এবং নাটক।
১৯৪০ সালের দিকে জমিদারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষক নেতা হাতেম আলী খানের নেতৃত্বে প্রজা বিদ্রোহ শুরু হয়। বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হয়ে জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরীর বংশধররা ১৯৪৬ সালে দেশ বিভাগের পূর্বেই বহনযোগ্য জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ফেলে কলকাতায় চলে যান। যাওয়ার সময় নিয়ে যান সাত ঘোড়ার গাড়ি বোঝাই ধনদৌলত। জমিদারী গুটিয়ে নিলেও জমিদার বাড়িটি দাঁড়িয়ে থাকে কালের সাক্ষী হয়ে। জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী ১৯৫২ সালে ভারতের কাশিতে মৃত্যুবরণ করেন। জমিদারের পরিত্যক্ত বাড়িটির আয়তন বড় দুটি পুকুরসহ প্রায় ত্রিশ একর। ১৯৭৯ সালে এলাকাবাসীর উদ্যোগে জমিদারের পরিত্যক্ত বাড়িতে স্থাপন করা হয় হেমনগর ডিগ্রি কলেজ। বহু বছরের স্মৃতি বিজরীত এ প্রাসাদ যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এসব স্থাপত্য ইতিহাসের সাক্ষী ও ঐতিহ্য। এই ঐতিহাসিক নিদর্শনকে সংস্কার করে সংরক্ষণ করার দাবি এলাকাবাসীর।
ধনবাড়ী জমিদার বাড়ি : দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্মৃতির মিনার হয়ে থাকা এমনই এক ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী। যা স্থানীয়দের কাছে নবাব প্যালেস বা নবাব মঞ্জিল নামে বেশ পরিচিত।
পর্যটকরা এর নির্মাণশৈলী দেখলে বুঝতে পারবেন কতটা দারুণ সুসজ্জিত জমিদার বাড়িটি। একটু হলেও বাড়তি সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায়। জমিদার বাড়িটি অবস্থিত টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলাতে। যা স্থানীয়দের কাছে নবাব প্যালেস বা নবাব মঞ্জিল নামে বেশ পরিচিত। প্রায় ১৮০০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এ জমিদার বংশ বা জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন ব্রিটিশদের কাছ থেকে বাহাদুর, নওয়াব, সি.আই.ই খেতাবপ্রাপ্ত জমিদার খান বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার প্রথম প্রস্তাবক এবং ব্রিটিশ সরকারের প্রথম মুসলিম মন্ত্রী। তাঁরই অমর কৃর্তি ধনবাড়ী জমিদার বাড়ি বা নওয়াব প্যালেস।

এ জমিদার বাড়ির রয়েছে একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস। ধারণা করা হয়, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে ধনপতি সিংহকে পরাজিত করে মোগল সেনাপতি ইস্পিঞ্জর খাঁ ও মনোয়ার খাঁ ধনবাড়িতে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁদের কয়েক পুরুষ পরের নবাব ছিলেন সৈয়দ জনাব আলী। সৈয়দ জনাব আলী ছিলেন সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর বাবা। তিনি তরুণ বয়সে মারা যান। নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী বিয়ে করেন বগুড়ার নবাব আবদুস সোবহানের মেয়ে আলতাফুন্নাহারকে। আলতাফুন্নাহার ছিলেন নিঃসন্তান।
তাঁর মৃত্যুর পর নবাব বিয়ে করেন ঈশা খাঁর শেষ বংশধর সৈয়দা আখতার খাতুনকে। নওয়াব আলী চৌধুরীর তৃতীয় স্ত্রীর নাম ছিল সকিনা খাতুন। নওয়াব আলী চৌধুরী ১৯২৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। নবাব ওয়াকফ নামায় তাঁর তৃতীয় স্ত্রীর একমাত্র ছেলে সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী এবং মেয়ে উম্মে ফাতেমা হুমায়রা খাতুনের নাম উল্লেখ করে যান। সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী পরবর্তীকালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিল্পমন্ত্রী নির্বাচিত হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৮ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৮১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। এ জমিদারবাড়ির বর্তমান উত্তরাধিকারী তাঁর এক সন্তান সৈয়দা আশিকা আকবর।
তারপরও অনেক সময় কেটে গেছে, পৃথিবী বদলেছে, বদলেছে শাসন ব্যবস্থা। বাংলাদেশেও এখন আর নেই জমিদারি শাসন ব্যবস্থা। ধনবাড়ীও তার ব্যতিক্রম নয়। জমিদার নেই, কিন্তু চুন-সুরকির নওয়াব প্যালেস ঐশ্বর্যে ও ঐতিহ্যে ঠিকই আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। অপূর্ব স্থাপত্যকর্মের কারণে ক্রমে জমিদার বাড়িটি পরিণত হতে থাকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থানে। তাই নবাবের উত্তরাধিকারীরা জমিদার বাড়িতে গড়ে তোলেন পিকনিক স্পট। যা নবাব সৈয়দ হাসান আলী রয়্যাল রিসোর্ট হিসেবে বেশ খ্যাতি লাভ করেছে। রিসোর্টটি দেখাশোনার দায়িত্বে আছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লাইট হাউস গ্রুপ। টাঙ্গাইলের বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া বংশাই ও বৈরান নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত এ প্রাচীন জমিদার বাড়িটি অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী এবং কারুকার্যে সত্যিই মনোরম এবং মনোমুগ্ধকর। তবে রিসোর্ট তৈরির পর নবাব প্যালেসে বেড়েছে চাকচিক্য এবং আধুনিকতা। চার গম্বুজবিশিষ্ট অপূর্ব মোগল স্থাপত্যরীতিতে তৈরি এ শতাব্দী প্রাচীন নবাব প্যালেস। পুরো নবাব মঞ্জিল বা নবাব প্যালেসটি প্রাচীরে ঘেরা। প্রাসাদটি দক্ষিণমুখী এবং দীর্ঘ বারান্দা সংবলিত। ভবনের পূর্বদিকে বড় একটি তোরণ রয়েছে। তোরণের দুই পাশে প্রহরীদের জন্য রয়েছে দুটি কক্ষ। তোরণটি জমিদার নওয়াব আলী চৌধুরী ব্রিটিশ গভর্নরকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য নির্মাণ করেন। প্রাচীরঘেরা চত্বর অংশে আবাসিক ভবন দুটি ছাড়া আরও আছে ফুলের বাগান, চিড়িয়াখানা, বৈঠকখানা, নায়েবঘর, কাচারিঘর, পাইকপেয়াদা বসতি এবং দাস-দাসি চত্বর। দর্শনার্থীদের জন্য প্রাসাদের ভেতরের বেশকয়েকটি কামরা ঘুরে দেখার সুযোগ আছে। তাছাড়া বারান্দাতেও শোভা পাচ্ছে মোগল আমলের নবাবি সামগ্রী, সেগুলো ছুঁয়ে দেখতে পারেন। মোগল আমলের আসবাবপত্র আপনাকে মুগ্ধ করবে।
প্যালেসটির পাশেই রয়েছে ৩০ বিঘার বিশালাকার দিঘী, দিঘির গভীরতা খুঁজে পাওয়া মেলাভার। সুন্দর ও মনোরম শান বাঁধানো ঘাঁট রয়েছে। ইচ্ছে করলে শৌখিন ভ্রমণপ্রেমীরা এখানে নৌকা ভ্রমণ ও মাছ ধরতে পারেন। সেখানে দর্শনার্থীদের ঘোরার জন্য রয়েছে দুটি সাম্পান, চড়তে পারেন আপনিও। তা ছাড়া নবাবি স্টাইলে পুরো রিসোর্ট ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থা। ইচ্ছে হলে দেখতে পারেন গারোদের সংস্কৃতি ও নাচ। এজন্য আপনাকে আগেই জানিয়ে রাখতে হবে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে। রিসোর্ট থেকে ৩০ মিনিটের দূরত্বে ঐতিহ্যবাহী মধুপুর বন। মধুপুর থেকে ৩০ মিনিটের পথ পেরুলেই রয়েছে আদিবাসী গারোপল্লী। সেখানে উপলব্ধি করা যায় গারোদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনধারা, যা পর্যটকদের মনের খোরাক জোগায়। রয়েছে মনোমুগ্ধকর রাবার বাগান, আনারস বাগান, বাঁশ বাগান-যা অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। রয়েল রিসোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপোর্ট ও গাইড দিয়ে রিসোর্টের গেস্টদের ঘুরিয়ে দেখায় আশপাশের সব দর্শনীয় স্থান।
পর্যটকদের সুবিধার্থে নিরাপত্তারক্ষী ও ওয়েটার রয়েছে এ রিসোর্টে। এছাড়া গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থাসহ সবধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এ রয়েল রিসোর্টে। রিসোর্টটির আরেকটি বিরাট আকর্ষণ নবাব মসজিদ। রয়েল রিসোর্টের ঠিক পাশেই রয়েছে ৭০০ বছরের পুরানো এক মসজিদ। মোগল স্থাপত্যের নিদর্শন এ মসজিদের মোজাইকগুলো এবং মেঝেতে মার্বেল পাথরে নিপুণ কারুকার্য অসাধারণ। মসজিদটির পাশে একটি কক্ষ রয়েছে, যা নবাব বাহাদুর সৈদয় নওয়াব আলী চৌধুরীর মাজার। ১৯২৯ সালে নবাবের মৃত্যুর পর থেকে এখানে ২৪ ঘণ্টা কোরআন তিলাওয়াত হচ্ছে, যা এখনো এক মিনিটের জন্য বন্ধ হয়নি। কোরআন তিলাওয়াতের হাফেজ নিযুক্ত রয়েছেন। তাঁরা প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর একেকজন কোরআন তিলাওয়াত করে থাকেন।
করটিয়া জমিদার বাড়ি : মোঘল স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন হলো করটিয়া জমিদার বাড়ি। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে করটিয়া ইউনিয়নের পুটিয়া নদীর তীরে এই জমিদার বাড়ি অবস্থিত। বিগত ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় এই বাড়ির জমিদার ভারতে চলে যান। তবে এখন তার কিছু বংশধরেরা বাস করছে বাড়িটিতে। এজন্য পর্যটকদের দুই ঈদের সময় ছাড়া তেমন ঢুকতে দেওয়া হয় না।
জানা যায়, বিখ্যাত পন্নী পরিবারের ১১ তম পুরুষ সাদত আলী খান পন্নী করটিয়াতে পন্নী বংশের ভিত প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকেই তার বংশধরেরা এখানে বসবাস করতে শুরু করেন।
দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি : টাঙ্গাইলের একমাত্র মুসলিম জমিদার বাড়ি হচ্ছে দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি। সেখানকার দেলদুয়ার উপজেলায় অবস্থিত এই জমিদার বাড়ি। স্থানীয়দের কাছে এটি নর্থহাউজ নামেও পরিচিত। ঔপনিবেশিক স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি একতলা বিশিষ্ট এই জমিদার বাড়ির সৌন্দর্যের তুলনা হয় না। লাল-সাদা রঙের একতলা এই জমিদার বাড়ির শিল্পকর্মে মসজিদের মতো কারুকার্য দেখা যায়। যা মনে প্রশান্তি এনে দেয়। এই জমিদার বাড়ির ঠিক মাঝ বরাবর আছে ছাদ। সেটি বেশ ভিন্ন। সেখানেই নাকি বাড়ির নারীরা আড্ডা দিতেন।
জমিদার বাড়ির ঠিক পূর্ব পাশে আছে লোহার গার্ডেন চেয়ার, গোল টেবিল, পানির ফোয়ারা। পেছনে আছে আম বাগান। পূর্ব দক্ষিণ কোণে রয়েছে তিনটি বিশাল গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, এর পাশেই আছে একটি বিশাল। রাজবাড়ির সামনে দেখতে পাবেন পারিবারিক কবরস্থান। বিগত ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে এই জমিদার বংশের সমাপ্তি ঘটে। অন্যান্য জমিদার বাড়ির তুলনায় এটি বেশ ভালো অবস্থানে আছে। এখনো একজন কেয়ারটেকার বহাল আছেন এই রাজবাড়ি দেখভালের জন্য।
দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ঘুরতে আসেন ইতিহাসের সাক্ষী টাঙ্গাইলের জমিদার বাড়িগুলোর আঙিনায়। বিশেষ করে শীত মৌসুমের পুরোটা জুড়েই ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণা থাকে এসব জমিদার বাড়িতে। জনপদের এ ভূ-ভাগে দেখা যায়, বৈচিত্র্যের ঐক্যতান। শত শত পর্যটকের সরব উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। তারা আসেন, ঘুরে দেখেন, ইতিহাস জানেন এবং একরাশ প্রশান্তি নিয়ে ঘরে ফিরে যায়। এবার শীতেও এসব জমিদার বাড়িতে তার কোন ব্যতিক্রম হয়নি।
প্যানেল/মো.








