ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২, ২০ আশ্বিন ১৪২৯

আফ্রিকান জলবায়ু সপ্তাহে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

কাওসার রহমান

প্রকাশিত: ২১:০২, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আফ্রিকান জলবায়ু সপ্তাহে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

আফ্রিকান ক্লাইমেট উইক ২০২২

আসন্ন ২৭ তম জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক গতি জোরদারে সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রত্যয়ের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে এবারের আফ্রিকান ক্লাইমেট উইক ২০২২।  

গত ২৯ আগষ্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আফ্রিকার দেশ গ্যাবনের রাজধানী লিবরেভিলেতে এবারের আফ্রিকান জলবায়ু সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ২ হাজার ৩০০ শ’র বেশি সরকারি কর্মকর্তা, বহুজাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজের ব্যক্তিরা যোগ দিয়েছেন। সম্মেলনে দুই শতাধিক অধিবেশনে সরাসরি এবং ভার্চুয়ালি প্রতিনিধিরা তাদের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। এসব আলোচনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। একটি হচ্ছে যে কোন মুল্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা এবং জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যত গড়ে তোলা। এই দুটি বিষয় শুধু আফ্রিকান মহাদেশের জন্যই নয়, সারা পৃথিবীর  জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের উদ্বোধনী সংলাপে দেশগুলোর স্বেচ্ছায় কার্বন নির্গমন কমানোর কর্মসূচী এবং জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা ও কৌশল বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়। এগুলো বাস্তবায়নের প্রধান সীমাবদ্ধতা হিসাবে অর্থের সংস্থান এবং জলবায়ু অর্থায়ন প্রাপ্তিকে প্রধান অন্তরায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

সম্মেলনে আফ্রিকান ডেভেলেপমেন্ট ব্যাংকের হিসাব তুলে ধরা বলা হয়, জলবায়ু অ্যাকশন ও স্বেচ্ছায় কার্বন নির্গমান কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ণে শুধু আফ্রিকান দেশগুলোর জন্যই ২০২০ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এক দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন।   

সম্মেলনে গ্যাবনের বন, পানি, সমুদ্র ও পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী লি হোয়াইট বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমরা এখানে গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ীত্বশীল সাড়া দেখতে পেলাম। মিশরের ২৭তম জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে আঞ্চলিক সহযোগিতা যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী করার কোন বিকল্প নেই। আমাদেরকে নীতি ও কর্মসূচীর মাধ্যমে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। এজন্য উদ্ভাবন ও তা স্থানান্তরকে গুরুত্ব দিতে হবে। 

মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ২৭তম জলবায়ু সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট শেম শুক্রি বলেন, আফ্রিকান জলবায়ু সপ্তাহ বিভিন্ন ফ্রন্টে জলবায়ু পদক্ষেপ বাস্তবায়নের গতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে, অ্যাডাপটেশন, লস এন্ড ডেমেজ এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রীর মধ্যে সীমিত রাখার মিটিগেশন বাস্তবায়ন তরান্বিত করতে সহায়তা করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শার্ম ইল-শেখ জলবায়ু সম্মেলন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার আকাঙ্খাকে কর্মে পরিণত করতে সহায়কা ভূমিকা পালন  করবে। 

জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ও ভাইস শারমাড বলেন, বিজ্ঞান বলছে আমরা যদি বর্তমানের মতো চলতে থাকি তাহলে এই শতাব্দি শেষে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে। গ্লাসাগো জলবায়ু সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। 

প্রত্যেক সরকারকে ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের লক্ষ্যে পৌঁছানোর তাগিত অনুভব করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্ঠা নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। ২৭তম জলবায়ু সম্মেলনে যেতে আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।