ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কামাল আহমেদের একক সঙ্গীত সন্ধ্যায় মুগ্ধ শ্রোতা-দর্শক

প্রকাশিত: ০৪:৫৮, ১০ আগস্ট ২০১৭

কামাল আহমেদের একক সঙ্গীত সন্ধ্যায় মুগ্ধ শ্রোতা-দর্শক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো দেশবরেণ্যে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতিমান বরীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কামাল আহমেদের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। বরীন্দ্রনাথের বর্ষা ও প্রেমের গান নিয়ে ‘শ্রাবণঘনগহন মোহে’ শিরোনামে সঙ্গীত সন্ধ্যায় শিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন রাগের ১৭টি গান পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। সঙ্গীত সন্ধ্যায় শিল্পী কামাল আহমেদ পরিবেশিত ১৭টি গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মল্লার রাগে ‘আবার এসেছে আষাঢ়’, ইমন রাগে ‘আষাঢ় সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো’, গৌড় মল্লার রাগে ‘আজি শ্রাবণঘনগহন মোহে’, রামকলি রাগে ‘যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা’, ‘ভালবেসে সখী নিভৃত যতনে’, সাহানা রাগে ‘নিশি না পোহাতে’ প্রভৃতি। প্রতিটি গানের শুরুতেই শিল্পী গান এবং রচনার সময়কাল, কবির বয়স, প্রেক্ষাপট ও মাত্রায় বিষয়টি সহজ ভাষায় দর্শকদের মাঝে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে শিল্পীকে বিভিন্ন যন্ত্রসঙ্গীতে সহযয়তা করেন ভায়োলিনে সুনীল চন্দ্র দাস, গীটারে, মো নাসির উদ্দিন, কিবোর্ডে বিনোদ রয়, তবলায় ইফতেখার আলম পারকাসানে ডলার। এদিকে সঙ্গীত সন্ধ্যায় বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে দর্শকদের উপস্থিতি ছিল আসন সংখ্যার চাইতেও বেশি। ফলে অনেকেই বিভিন্ন অবস্থানে দাঁড়িয়েই গান শোনেন। উপস্থিত দর্শকদের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে শিল্পী গেয়ে শোনান একে একে ১৭টি গান। এর মধ্যে অর্ধেক গানই ছিল দর্শকদের অনুরোধের। আর উপস্থিত সকলের মাঝে প্রতিটি গানের আবেদনই ছিল আনন্দের, প্রেমের আর বৃষ্টি¯œাত শ্রাবণের মোহনীয় আবেগের মতো। কেননা শিল্পী গান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রমের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। শিল্পী কামাল আহমেদ ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের ত্রিপুরায় আগরতলা প্রেসক্লাব এবং ২৭ মার্চ আগরতলায় মহারাজা বীরবিক্রম বিশ^বিদ্যালয় এবং ২৬ মার্চ ত্রিপুরার বাংলাদেশ হাইকমিশনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়া একই বছরের জানুয়ারি মাসে কলকাতায় ‘অল ইন্ডিয়া উইমেন্স কংগ্রেস’, কল্পতরু মেলা এবং রাজঘাট, কলকাতায় ‘জাতীয় কবিতা উৎসব ও নিউটাউন বই মেলায়’ সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়া ২০১৬ সালে কলকাতায় ‘বিড়লা একাডেমি অব আর্টস এ্যান্ড কালচার’ এবং রবীন্দ্র সদনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এছাড়াও ২০১১ সালে দুই দিনব্যাপী শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের হলরুমে এবং ১৯৮৯ সালে আট দিনব্যাপী কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামের উন্মুক্ত মঞ্চে এবং কল্যাণী বিশ^বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। গুণী এই সঙ্গীতশিল্পী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সমৃদ্ধ হয়েছেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০১৭ সালে ভারতের ত্রিপুরার মহারাজা বীরবিক্রম বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃক ‘অদ্বৈত মল্লবর্মণ সম্মাননা’, ত্রিপুরার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত আত্মবলিদান দিবস উদযাপন কমিটি কর্তৃক ‘ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সম্মাননা’, ২০১৫ সালে ‘বঙ্গবন্ধু গবেষণা পদক’ এবং ২০১০ সালে ‘সার্ক কালচারাল সোসাইটি সম্মাননা’ পান। বরেণ্য এই সঙ্গীতশিল্পী আগামী ৩০ আগস্ট হতে ২ সেপ্টেম্বর, মধ্য আমেরিকার কানাডায় অনুষ্ঠেয় ‘ফেডারেশন অব বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা’ তথা ফোবানা সম্মেলনে ফোবানা পদক গ্রহণের জন্য কানাডা যাবেন।
×