ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১

রেলের পূর্বাঞ্চলে সোয়া কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে কারসাজি!

প্রকাশিত: ০৬:৫৪, ৩০ মে ২০১৭

রেলের পূর্বাঞ্চলে সোয়া কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে কারসাজি!

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ রেলের পূর্বাঞ্চলের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দফতরে ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়াকে ঘিরে চক্রান্ত শুরুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুনির্দিষ্ট একটি সিন্ডিকেটকে টেন্ডারে কাজ পাইয়ে দিতে এ ধরনের চক্রান্ত শুরু হয়েছে কিনা তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ সম্প্রতি সোয়া ১ কোটি টাকার একটি টেন্ডারকে ইজিপি কর্তৃপক্ষ দুদফায় সময় পিছিয়ে আবারও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি শুরু হয়েছে কিনা তা নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে সরবরাহকারীদের মাঝে। ওপেন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সিডিউলের শর্ত সহজ থেকে কঠিন করার পেছনে উদ্দেশ্য কী? আবার টেন্ডার দাখিলকারীর তরল সম্পত্তি বা চলতি মূলধন কমিয়ে আনার পেছনেও রয়েছে কারসাজি। অভিযোগ রয়েছে, ডয়েজ ডিজেল ইঞ্জিন স্পেয়ার্স এর ২৫টি আইটেমের ওপর ই-টেন্ডারিংয়ে সর্বনি¤œ ২ জন দরপত্রদাতা প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে শতকরা ১২/১৫ ভাগ কমমূল্যে দরপত্র দাখিল করেছেন। এদিকে ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় দরপত্র দাখিলের চারদিন পর মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য এ চারটি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র মূল্যায়ন করার পাশাপাশি অনুমোদনকারী হিসাবে রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রুলিং স্টক) কর্তৃক এসব দরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, কি কারণে এ দরপত্র ওপেনিংয়ের তারিখ দুদফায় পিছিয়ে তৃতীয় দফায় দরপত্র ওপেনিং করা হয়েছে। টেন্ডার ওপেনিংয়ের চারদিন পর কেন কমিটি টেন্ডার ই-ভ্যালুয়েশন করেছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে, ওপেন টেন্ডারের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারী ক্রয় আদেশ সর্বনি¤œ মূল্যে কার্যকর করতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার কিছু শর্ত শিথিল করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বরং ইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী শর্ত শিথিল না করে বরং ডয়েজের পক্ষ থেকে সরাসরি দরপত্র দাখিলকারীকে অথরাইজড লেটার নিতে হবে। এক্ষেত্রে এ শর্ত ডয়েজ শুধু একজনের ক্ষেত্রেই করতে পারে। সে অনুযায়ী, এ দরপত্র দাখিলে একাধিক দরপত্র পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আবার ইজিপির নিয়মানুযায়ী প্রাক্কলিত মূল্য তথা এক কোটি বিশ লাখ টাকার চেয়ে ১০ ভাগ কমে যারা দরপত্র দাখিল করেছেন তাদের দরপত্র বাতিল হওয়ার কথা। আবার ১০ ভাগের অধিক যারা দরপত্র দাখিল করবেন তাদেরও দরপত্র বাতিল হওয়ার কথা। এদিকে ওপেন টেন্ডারের নীতিমালা অনুযায়ী সরকারী ক্রয় আদেশ সর্বনি¤œ মূল্যে ক্রয় করতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার কিছু শর্ত শিথিল করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বরং ইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী শর্ত শিথিল না করে বরং ডয়েজের পক্ষ থেকে সরাসরি দরপত্র দাখিলকারীকে অথরাইজড লেটার নিতে হবে। এক্ষেত্রে এ শর্ত ডয়েজ শুধু একজনের ক্ষেত্রেই করতে পারে। সে অনুযায়ী, এ দরপত্র দাখিলে একাধিক দরপত্র পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আবার ইজিপির নিয়মানুযায়ী প্রাক্কলিত মূল্য তথা এক কোটি বিশ লাখ টাকার চেয়ে ১০ ভাগ কমে যারা দরপত্র দাখিল করেছেন তাদের দরপত্র বাতিল হওয়ার কথা। আবার ১০ ভাগের অধিক যারা দরপত্র দাখিল করবেন তাদেরও দরপত্র বাতিল হওয়ার কথা। গত ২১ মে দাখিলকৃত টেন্ডারের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। প্রথম সর্বনি¤œ দরপত্র দাখিলকারীর মূল্য ছিল ১ কোটি ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, দ্বিতীয়টি ১ কোটি ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৬২১ টাকা, তৃতীয়টি ১ কোটি ১৪ লাখ ২৫ হাজার ১ টাকা এবং চতুর্থ সর্বনি¤œ দরদাতা ১ কোটি ৩১ লাখ ৯৯ হাজার ২৭ টাকা মূল্যায়ন করেছে। প্রাক্কলিত ব্যয়ের তুলনায় প্রথমটি ছিল শতকরা ১৫ ভাগের কম, দ্বিতীয়টি ১২ ভাগ কম, তৃতীয়টি ৫ ভাগ কম ও চতুর্থটি শতকরা ৯ ভাগ বেশি। ইজিপির নিয়মানুযায়ী প্রাক্কলিত মূল্যের ১০ ভাগের কম মূল্যে যারা দরপত্র দাখিল করেছেন ওই সকল প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার বাতিল হবে। বাকি ২টি প্রতিষ্ঠান মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইয়ের পর টেন্ডার কাজ প্রাপ্তির সম্ভাবনা রয়েছে। ইজিপির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল এ টেন্ডারের ওপেনিং ডেট থাকলেও ইজিপির পক্ষ থেকে কোন ধরনের সময় পরিবর্তন কিংবা শর্ত পরিবর্তনের নোটিস দেয়া হয়নি। শুধু রেল মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রণ দফতরের টেন্ডার কোড-৮৭০৩৫ এ ২৫ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্তও দরপত্র ওপেনিং ডেট পেছানোর নোটিস দেয়া হয়নি। এমনকি গত ১৮ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইজিপির ১শটি নোটিসে এ ধরনের সময় পরিবর্তনের কোন তথ্য ছিল না।
×