ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

বাংলাদেশ

ইবিতে খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের

প্রকাশিত: ১৭:২৪, ২১ মে ২০২২

ইবিতে খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের

ইবি সংবাদদাতা ॥ অনুমোদন ছাড়াই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে বেড়েছে খাবারের দাম। তবে খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ শিক্ষার্থীদের। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবকে দায়ী করছেন তারা। দ্রব্যমূল্য বাড়লেও পযাপ্ত ভর্তুকি না পাওয়ায় খাবারের দাম বাড়াতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডায়নিং ম্যানেজাররা। এদিকে খাবারে প্রায়ই বিভিন্ন পোকা-মাকড় মিলছে। হলগুলো ছাড়াও ক্যাম্পাসের হোটেলগুলোতে খাবারের দাম অনেক হারে বেড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনায় বন্ধের আগে আগে আবাসিক হলগুলোতে খাবারের মেন্যু ভেদে দাম ছিল ২২, ২৫ ও ৩০ টাকা। পরে তা বাড়িয়ে ২৫, ৩০ ও ৩৫ ও ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে মেন্যু ভেদে ৫০ টাকা পর্যন্ত খাবারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ক্যম্পাসের হোটেলগুলোতেও প্রতিটি খাবারে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে দাম বাড়লেও খাবারের মান ও পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কমেছে। এদিকে খাবারে প্রায়শই শিক্ষার্থীরা পোকা-মাকড় ও আবর্জনা পান বলে অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের এক ছাত্রী খাবারে মাছি পেয়েছেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলেও এক ছাত্র খাবারে পোকা ও শহীদ জিয়াউর রহমান হলে চিলা পোকা পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে খাবারে টিকটিকি, চুল, শামুকসহ বিভিন্ন ধরণের পোকা পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী। আবাসিক হলগুলোর পঁচা-বাসী খাবার দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। খালেজা জিয়া হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, খাবারের যে মান একে তো পুষ্টি নেই তার উপর মশা মাছি পোকা এসব প্রায় পাওয়া যায়।এসব অপরিস্কার খাবার খেয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে হল ছেড়ে মেসে উঠছে। হলের খাবার কি কোনোদিন ভালো হবে না? এসব অভিযোগ বাইরে বলতে গেলে সিনিয়ররা নিষেধ করেন। শেখ রাসেল হলের আবসিক শিক্ষার্থী রায়হান উদ্দীন বলেন, ডায়নিংয়ে খাবার বাধ্য হয়ে খেতে হয়। হলের ভাতের অবস্থা তো খুবই খারাপ। হোটেলগুলোতে তো গলাকাটা মূল্য। শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ডায়নিং ম্যানেজার রফিক বলেন, দ্রব্যমূল্য বেশি হওয়ার কারণে আমাদের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। সে অনুপাতে ভর্তুকি পাচ্ছি না। প্রয়োজন মত ভর্তুকি না পেলে হল চালানো কষ্টকর। প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. রেবা মন্ডল বলেন, হলেগুলোতে খাবারের দাম নির্ধারিত রয়েছে। ম্যানেজাররা কিছু আইটেম বাড়িয়ে টেকনিক্যালি দাম বাড়িয়েছে। খাবারে আবর্জনার বিষয়ে আগেও তাদের সতর্ক করে দিয়েছি। শিগগিরি আবার তাদের নিয়ে বসবো।