ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

বাংলাদেশ

আগামী অমবস্যায় ডিম ছাড়ার পূর্ণ ভরসা

হালদার রেণু প্রতি কেজি ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি

প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ২০ মে ২০২২

হালদার রেণু প্রতি কেজি ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফটিকছড়ি ॥২০ মে- গেল পূর্ণিমার তিথিতে, প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে ব্রজ্রপাতসহ ভারী বর্ষন ছাড়াই পর পর ২ দফায় মা মাছের নমূনা এবং সোমবার ভোরে সৃবাভাবিক ডিম ছাড়ে মা মাছ। ঐদিন সাড়ে ৩ হাজার কেজি ডিম আহরণ করে নৌকার মাঝি পাল্লাসহ আহরণকারীরা যেমনটি নিরাশ হয়েছেন; তেমনি উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিশেষজ্ঞরাও হতাশ হয়ে পড়েছেন। এখন সর্বশেষ ভরসাই আগামী অমবস্যার উপর। তবে, যে সব ডিম আহরণ করা হয়েছে ঐগুলো হ্যাচারী এবং সনাতনী পদ্ধতিতে ডিম থেকে রেণু পরিস্ফুটন করে বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। ঐদিন প্রতি কেজি রেণুর দর পাওয়া যায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা করে। সংগৃহীত ডিম থেকে রেণু পরিস্ফুটন কাজে হতাশা থাকলেও জীবন -জীবিকার তাগিদে নদী থেকে সংগৃহীত ডিম থেকে রেণু পরিস্ফুটন কাজে ব্যস্ত সময় পার করলেও ডিম সংগ্রহকারীরা চড়া দাম পেয়ে বেজায় খুশী। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জানান, গেল পূর্ণিমায় মা মাছ আশানুরুপ ডিম না ছাড়লেও আগামী অমবস্যার উপর ভরসা করে বুক বেঁধে আছে ডিম আহরণকারীরা। তবে অমবস্যার সময়ে অর্থাৎ চলিত মাসের ২৫ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত মা মাছ ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুম।এছাড়া এ সময়টাতে দুর্বল হয়ে পড়া কার্প জাতীয় মা-মাছ যাতে কেউ শিকার করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও নৌ-পুলিশ। হাটহাজারীর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, হালদা পাড়ে হাটহাজারী ও রাউজান অংশের ৪টি হ্যাচারীতে ১৩০টি ট্যাঙ্কে ডিম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ডিম সংগ্রহকারীরা। পাশাপাশি কোন কোন ডিম সংগ্রহকারী তাদের ব্যক্তিগত খরচে তৈরিকৃত মাটির কুয়ায় (সনাতন পদ্ধতি) রেণু পরিস্ফুটনের কাজ করছেন। তবে হালদা নদী থেকে সংগৃহীত ডিমের পরিমাণ কম হওয়ায় রেণু পরিস্ফুটন কাজে হালদা পল্লীতে কোন আনন্দ- উচ্ছ্বাস নেই কারো। এদিকে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিএফ (ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন) এর নিজস্ব হ্যাচারিতেও (চারকোনা ট্যাঙ্ক ১০টি, গোলাকার ট্যাঙ্ক ৫টি ও মাটির কুয়া ৮টি) একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়। সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য ডিম সংগ্রহকারীরা হ্যাচারিতে যাতে সঠিকভাবে রেনু উৎপাদন ও বিক্রয় করতে পারেন এবং গ্রাহকরা যাতে হালদার বিশুদ্ধ রেনু ক্রয় করতে পারেন। আইডিএফ’র প্রকল্প ও হ্যাচারি ব্যবস্থাপক জানান, হ্যাচারিতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ, পানি, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও ডিম সংগ্রহকারীদের পরিচর্যায় উৎপাদিত হচ্ছে হালদার শতভাগ বিশুদ্ধ রেনু। হাটহাজারীর গড়দুয়ারা এলাকার ডিমসংগ্রহকারীরা জানান, শনিবার ও রবিবার মধ্যরাতে হালদা নদীতে মা-মাছ আংশিক নমুনা ডিম ছেড়েছিল। এরমধ্যে সোমবার ভোরে ভাটায়ও মা-মাছ ডিম ছেড়েছিল। তবে এবার ডিমসংগ্রহের পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫'শ কেজি। হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরীর সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং হালদা গবেষক প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরীয়া জনকন্ঠকে জানান,চলতি মাসের শেষ দিকে অমাবস্যার জো’তে ডিম ছাড়তে পারে মা-মাছ। মা-মাছের পেটে থাকা ডিম বহু আগেই পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। তাই পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ফলে নদীতে পাহাড়ি ঢলের তোড় সৃষ্টি হলেই আমাবস্যার জো ছাড়াও মা-মাছ ডিম ছেড়ে দিতে পারে। সাধারনত, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত, কালো-আঁধারী প্রকৃতি হলেই কার্প জাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ে। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহিদুল আলম জানান, কৃত্রিম রেণু পোনা তৈরি করার কোন সুযোগ নেই। কারণ উপজেলা প্রশাসন ও হালদা পাড়ে সার্বক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে পাহারা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হালদা পাড়ের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সিসি টিভি’র মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে নৌ পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সুপার মোহাম্মদ মোমিনুন ইসলাম ভূইয়া বলেন, ডিম দেয়ার পরে কার্প জাতীয় মা-মাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় শিকারীরা মা-মাছ ধরতে ফাঁদ পাতে। তাই, মৎস্য শিকারীরা যাতে মা-মাছ শিকার করতে না পারে, সেজন্য নৌ-পুলিশ সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। এদিকে, হালদার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা, নৌ পুলিশ মাছ শিকার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রাখলেও মৎস্য শিকারীরাও বসে নেই।