ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

আগামী সপ্তাহে দর আরও কিছুটা কমতে পারে

এবার উল্টো পথে ডলার ॥ ৯৬ টাকায় নেমেছে

প্রকাশিত: ২৩:১৫, ২০ মে ২০২২

এবার উল্টো পথে ডলার ॥ ৯৬ টাকায় নেমেছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গত কয়েকদিন ধরে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে থাকা ডলার হোঁচট খেয়ে এখন উল্টোদিকে হাঁটছে। বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে ডলারের দর ৯৬ টাকায় নেমে এসেছে। মঙ্গলবার হঠাৎ করেই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর এই মুদ্রার দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে ১০৪ টাকায় উঠে যায়। বুধবার তা ১০০ টাকায় নেমে আসে। বৃহস্পতিবার তা আরও কমে ৯৬ টাকায় নেমে এসেছে। আগামী সপ্তাহে ডলারের দর আরও কিছুটা কমে আসবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তবে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার ও ব্যাংকগুলো বুধবারের দরেই বৃহস্পতিবার ডলার বিক্রি করেছে। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে। সোমবার বড় দরপতন হয়। একদিনেই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই একদিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়। বৃহস্পতিবারও এই একই দামে বাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সপ্তাহের শেষদিন বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতিডলার ৮৬ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছিল। ঈদের ছুটির আগে ২৭ এপ্রিল ডলারের বিপরীতে টাকার মান ২৫ পয়সা কমিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে প্রতি ডলারের জন্য ৮৬ টাকা ২০ পয়সা লাগত। এরপর ১০ এপ্রিল আরও ২৫ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোমবার এক লাফে ৮০ পয়সা কমিয়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেসরকারী ইস্টার্ন ও প্রাইম ব্যাংক বৃহস্পতিবার ৯৮ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক থেকে ১ ডলার কিনতে খরচ হয়েছে ৯৩ টাকা ৯০ পয়সা। অগ্রণী ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে ৯২ টাকা ৫০ পয়সায়। সোনালী ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে লেগেছে ৯২ টাকা ৪৫ পয়সা। বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে ডলারের দর ৯৬ টাকায় নেমে আসে হঠাৎ করে। ডলারের দামের বিষয়ে পল্টনের ক্যাপিটাল এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, ডলারের দাম কিছুটা কমেছে। দুদিন আগে প্রতি ডলারের দাম ১০২ টাকা হয়েছিল। আমরা ডলার ৯৬ থেকে ৯৬ টাকা ৫০ পয়সা করে কিনেছি। বিক্রি করেছি ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৯৭ টাকা ৬০ পয়সায়। মতিঝিলের পাইওনিয়ার মানি চেঞ্জারের কর্মী রোকন জানান, বৃহস্পতিবার আমরা ডলার বিক্রি করেছি ৯৮ টাকা দরে। কিনেছি ৯৭ থেকে ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা করে। দিলকুশার বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জের সামনে ঘুরে ডলার কেনাবেচা করা মোঃ সোহেল নামের একজন বলেন, গত মঙ্গলবার প্রতি ডলারের দাম ১০২ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। দুদিন ধরে ডলারের দাম কিছুটা কম। প্রতিডলার সর্বোচ্চ ৯৮ টাকায় বিক্রি করেছি। আমরা কিনেছি ৯৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৯৭ টাকা করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য ঘেটে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতিডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। এক বছরের বেশি সময় ধরে এই একই জায়গায় স্থির ছিল ডলারের দর। এর পর থেকেই শক্তিশালী হতে থাকে ডলার; দুর্বল হচ্ছে টাকা। হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, এই ৯ মাসে বাংলাদেশী মুদ্রা টাকার বিপরীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের দর বেড়েছে ৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। মহামারী করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা বাড়ায় বাজারে ডলারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা। আমদানির লাগাম টেনে ধরা ছাড়া ডলারের বাজার স্বাভাবিক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা। এদিকে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেও দামে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। মুদ্রাবাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করেই চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সোমবার পর্যন্ত (সাড়ে ১০ মাসে, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ১৬ মে পর্যন্ত) ৫৫০ কোটি (৫.৫০ বিলিয়ন) ডলারের মতো বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খোলাবাজারের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোন হাত নেই। তবে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করলে বাংলাদেশ ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে থাকে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আন্তঃব্যাংক দরে ডলার কিনে সেই ডলার বিক্রি করে থাকে ব্যাংকগুলো। এর আগে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলোর বিক্রি করা ডলারের দর আর আন্তঃব্যাংক রেটের মধ্যে বেশি ব্যবধান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই পার্থক্যের একটা সীমা নির্ধারণ করে দিত; সেটা এক থেকে দুই টাকার মধ্যে থাকত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ব্যাংকগুলো আন্তঃব্যাংক রেটের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডলার বিক্রি করলেও এখন পর্যন্ত কোন হস্তক্ষেপ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনা মহামারীর কারণে গত ২০২০-২১ অর্থবছরজুড়ে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ে উল্লম্ফন দেখা যায়। সে কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যায়। সে পরিস্থিতিতে ডলারের দর ধরে রাখতে গত অর্থবছরে রেকর্ড প্রায় ৮ বিলিয়ন (৮০০ কোটি) ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনা হয়। কিন্তু আগস্ট মাস থেকে দেখা যায় উল্টো চিত্র। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে আমদানি। রফতানি বাড়লেও কমতে থাকে রেমিট্যান্স। বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও কমতে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়; বাড়তে থাকে দাম। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনও অব্যাহত।

শীর্ষ সংবাদ:

ফের লোডশেডিং যুগ!
তেল-গ্যাস-বিদ্যুতে সাশ্রয়ী হোন ॥ প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধু কূটনৈতিক উৎকর্ষ পদক
প্রথম দিনেই ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়
চুয়েটে শেখ কামাল বিজনেস ইনকিউবেটরের যাত্রা শুরু আজ
হেনোলাক্সের মালিক সস্ত্রীক গ্রেফতার
ইভ্যালির রাসেল ও শামীমার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে মামলা
ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেল নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মহাসড়কে চলতে দেওয়ার দাবি
কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিল সরকার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু
সিলেটের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ফের করোনা বাড়ছে, সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন
শপথ নিলেন কুমিল্লা সিটির মেয়র রিফাত
জনগণের প্রভু নয়, সেবক হয়ে থাকতে চায় আওয়ামী লীগ ॥ কাদের
সকল বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘র‌্যাগ ডে’ বন্ধের নির্দেশ