ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

পরীক্ষামূলক

জাতীয়

সপ্তাহে টার্গেট ছিল ৬০ চাকরি প্রার্থী, হোতাসহ দু’জন রিমান্ডে

কিউআর কোড দিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিত ওরা

প্রকাশিত: ২৩:২৬, ১৮ মে ২০২২

কিউআর কোড দিয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিত ওরা

ফজলুর রহমান ॥ নিজেদের সরকারী বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা পরিচত দিত তারা। এরপর দারোয়ান, রিক্সাচালক, বাসের হেল্পারসহ নিম্নআয়ের মানুষের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলত। তাদের কোন স্বজন সরকারী চাকরি পেতে চাইলে যোগাযোগ করতে বলত। পরে সরকারী কোন দফতরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে, নিম্নআয়ের লোকদের ফোন করে বলত, ওই... প্রতিষ্ঠানে চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে, চাকরি প্রত্যাশী কেউ থাকলে দ্রুত যোগাযোগ করতে বলেন। তাদের এমন প্রস্তাবে কোন চাকরি প্রার্থী যোগাযোগ করলে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সরবারহ, মেডিক্যাল করানো, দফতরের অন্য কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার কথা বলে এবং কিউআর কোড সংবলিত ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ধাপে ধাপে টাকা নিত। একপর্যায়ে ভিকটিম চাকরিতে যোগদানের কথা বললে লাপাত্তা হয়ে যেত প্রতারক চক্রটি। নিয়োগপত্রে কিউআর কোড যুক্ত করে চাকরি প্রার্থীদের বোকা বানিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতানো এ চক্র প্রতি সপ্তাহে ৬০ জন চাকরি প্রত্যাশীকে টার্গেট করত। চক্রের হোতাসহ দুজনকে গ্রেফতারের পর এমনটি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সাইবার এ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মূলহোতা মোঃ মোশারফ হোসেন ও তার সহযোগী মোঃ জিয়া উদ্দিন। গত সোমবার মধ্যরাতে দারুস সালাম আনন্দ নগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন, ৭টি সিম কার্ড, বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার বেশ কিছু ভুয়া প্রশ্ন, প্রবেশপত্র ও কিউআর কোড সংবলিত নিয়োগপত্র জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ডিবির সাইবার এ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এক সময় গার্মেন্টসে চাকরি করার সময় এক প্রতারকের মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগের নামে প্রতারণা করার বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করে মোশারফ হোসেন। দুই বছর ধরে সহযোগী জিয়া উদ্দিনকে নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। প্রতারণার কৌশল হিসেবে সব সময় বিভিন্ন দফতরের ছোট ছোট পোস্টে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখাত। তাদের ফাঁদে যে চাকরি প্রত্যাশীরা পা দিত, প্রথমে তাদের কাছ থেকে ইমেলের মাধ্যমে জীবন বৃত্তান্ত, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি ও অন্যান্য সব ডকুমেন্ট নিত। পরে এসব তথ্যের মাধ্যমে একটি ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করে প্রার্থীর ইমেলে পাঠাত। এরপর বিকাশ/রকেটের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে ভাইভার জন্য মনোনীত হয়েছেন বলে জানাত। কিছুদিন পরে ভুয়া নিবন্ধিত সিম কার্ডের মাধ্যমে অপর এক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট দফতরের উর্ধতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে পুনরায় কল করে মেডিক্যাল ও অন্যান্য খরচ বাবদ কিছু টাকা বিকাশ/রকেটের মাধ্যমে দিতে বলে। সেই টাকা পাওয়ার পর প্রতারক চক্রটি একটি ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য চাকরি প্রত্যাশীদের ‘কিউআর কোড জেনারেটর’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রার্থীর নাম ঠিকানা সংবলিত একটি ‘কিউআর কোড’ তৈরি করে ভুয়া নিয়োগপত্রে সেটি স্থাপন করে। এরপর প্রার্থীকে বলা হয় যে, ‘কিউআর কোড স্ক্যানার’ দিয়ে আপনার নিয়োগপত্রটি সঠিক কি-না যাচাই করুন। প্রার্থী যখন তার মোবাইলের কিউআর কোড স্ক্যানার দিয়ে চেক করে তখন সেখানে নিজের তথ্য দেখায় এবং প্রার্থী চুক্তির সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেন।