মঙ্গলবার ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

৩১ কিমিতে ৫ বছরে ঝরেছে ২৪৯ প্রাণ

  • টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল ॥ মহাসড়ক নয় যেন মৃত্যুকূপ। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে দিনদিন দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। থামছে না পরিবারের কান্না। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অভিশপ্ত জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। টাঙ্গাইলের করটিয়া থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার মহাসড়কে বিগত (২০১৭-২০২১) ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ৫ বছরে ২৪৯ জনের প্রাণহানি এবং ২৪৫ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে শুধুমাত্র মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৪৬ জন এবং আহত ৫৪ জন। তবে সমীক্ষায় না আসা মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক। দায় কার ? অভিভাবক ও কর্তৃপক্ষের নমনীয়তাকে দায়ী করছে সুশীল সমাজ। এদিকে উঠতি বয়সী চালকদের বেপরোয়া গতি এবং সড়কে ডিভাইডার না থাকায় এত প্রাণহানি হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, সেতুর পূর্ব প্রাপ্ত থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার মহাসড়ক আমাদের দায়িত্বে। বিগত ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৭৪টি দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত এবং ১৩৯ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ এবং আহত ৩১ জন। মহাসড়কের ডিভাইডার নেই। অন্যদিকে যানবাহনের বেপরোয়া গতি। বিশেষ করে উঠতি বয়সী অদক্ষ ছেলেরা যেভাবে মোটরসাইকেল চালায় সেটা নিয়ন্ত্রণহীন।

মধুপুর (এলেঙ্গা) হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত বলেন, এলেঙ্গা থেকে করটিয়ার মাদারজানী ব্রিজ পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার মহাসড়ক আমাদের অধীনে। গত ৫ বছরে এ সড়কে ১০৩টি দুর্ঘটনায় ১১৪ জন নিহত এবং ১০৬ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে মোটরসাইকেলে নিহত ২৩ এবং আহত ২০ জন। তিনি আরও বলেন, হেলমেট না পড়ার কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেশি। এছাড়া মামলা হলেও বেপরোয়া চালকদের শাস্তি না হওয়া দুর্ঘটনাকে উৎসাহিত করে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের জেলার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ঝান্ডা চাকলাদার বলেন, এ মহাসড়কের বাঁক ও ঘনকুয়াশা থাকে। চলাচলকারী উত্তরবঙ্গের বাস ট্রাক এবং উঠতি বয়সী মোটরসাইকেল চালকরা পুরো সড়ককে তাদের নিজের মনে করে চলে। ফলে দুর্ঘটনা প্রতিনিয়তই হয় এবং হবেই।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) টাঙ্গাইল অফিসের দায়িত্বরত সহকারী পরিচালক আলতাব হোসেন বলেন, পথচারীদের অসচেতনতা ও চালকদের ওভারটেকিং প্রবণতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ।

টাঙ্গাইলের সরকারী মওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজের অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামান মিয়া বলেন, মৃত্যুর এ পরিসংখ্যান ভয়াবহ। দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন যথাযথ কার্যকর করা দরকার। সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন বাড়াতে হবে। অভিভাবকসহ সকলকে সচেতন হতেই হবে।

টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণহানি রোধে প্রথমে বেপরোয়া উঠতি বয়সীদের ছেলেদের মোটরসাইকেল কিনে দেয়া বন্ধ করতে হবে।

শীর্ষ সংবাদ: