সোমবার ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

দেশে করোনার চাইতেও বেশি মৃত্যু অসংক্রামক রোগে

দেশে করোনার চাইতেও বেশি মৃত্যু অসংক্রামক রোগে
  • মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশ অসংক্রামক রোগে
  • শুধু ধুমপানেই প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু হয় ৩শ’ জনের
  • ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অন্তত: ৮৪ লাখ মানুষ
  • ইনসুলিনের জন্য বছরে খরচ ১৬ হাজার ৮শ কোটি টাকা
  • এখনি গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে মহামারী আকারে ছড়িয়ে করোনাভাইরাসে বেড়েই চলেছে মৃত্যুর মিছিল। কিন্তু বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের চাইতেও বেশি মৃত্যু হচ্ছে অসংক্রামক বিভিন্ন রোগে। এক গবেষণার প্রেক্ষিতে বলা হচ্ছে, দেশে মোট মৃত্যুর অন্তত: ৭০ শতাংশ হচ্ছে অসংক্রামক বিভিন্ন রোগে। শুধু ধুমপান-জনিত কারণেই দেশে প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু হচ্ছে সাড়ে ৩শ’ মানুষের।

তাই এ বিষয়ে এখনি গুরুত্ব না দিলে আগামী ২০ বছরে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এমনিক বলা হচ্ছে, মোট মৃত্যুর ৮০ শতাংশই হতে পারে অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে।

বৃহস্পতিবার প্রথম জাতীয় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম পর্বে যোগ দিয়ে এসব কথা জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামসহ ৩০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান।

সম্মেলনের প্রথম পর্বে স্বাস্থ্য অর্থ ইউনিটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন মাহমুদ বলেন, কোভিডে সারা বিশ্ব এই মুহূর্তে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আমাদের দেশে কোভিডে যে মৃত্যু, অসংক্রামক কোনও কোনও রোগে মৃত্যু তার চেয়ে ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি। ক্যানসার, টিবি, হার্ট ডিজিস সবগুলোই অসংক্রামক রোগ এবং এগুলোর যে মৃত্যুর হার, প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে তা কোভিডের তুলনায় ৫ গুণ। কিন্তু কেন যেন আমরা শুধু সংক্রমক রোগের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।

বিভিন্ন গবেষণার তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দেশে এই মুহূর্তে ৮৪ লাখ মানুষ ডায়বেটিসে আক্রান্ত। সবাইকে পরীক্ষা করলে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তাদের শুধু ইনসুলিনের জন্য বছরে খরচ হচ্ছে ১৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। শুধু ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে অন্য বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায় জানিয়ে তিনি বলেন, করোনার টিকার জন্য এবার সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর একটি তহবিল আছে, সেখান থেকেও বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়া হয়ে থাকে। সবমিলিয়ে আমরা যদি হিসাব করি, তাহলে ১০ ভাগের কাছাকাছি হবে। বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে ৬৭.৫ ভাগ অর্থ জনগণ পকেট থেকে ব্যয় করে। এটি নিঃসন্দেহে অনেক বেশি। এখানেও একটি হিসাব বারবার বাদ পড়ে যায়। যারা সরকারি কর্মচারী রয়েছেন, তাদের জন্য সরকার প্রতিমাসে হেলথ অ্যালাউন্স দিয়ে থাকে দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। এটির পরিমাণও ৬ হাজার কোটি টাকা। এটি কিন্তু হিসাবে আনা হয় না। সবকিছু হিসাবে আনলে হয়তো সরকারের অংশগ্রহণ আরও বেশি হতো।

তিনি বলেন, থোক বরাদ্দ দিয়ে সরকার চলমান অর্থবছরে কোভিডের কারণে যা খরচ করেছে, সেটি গণনা করলে সরকারের অংশগ্রহণ অনেক বেশি হবে। অর্থাৎ সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও কার্পণ্য নেই। যা বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে, আমারা তা সবসময় সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি না।

এদিন বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস বলেন, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর, একারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশে এনসিডি (অসংক্রামক রোগ) একটি নতুন ও চলমান বোঝা। ডায়বেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার রোগী উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সরকার অসংক্রমণ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে ক্যান্সার হাসপাতাল হচ্ছে। হৃদরোগের চিকিৎসায় গত দুই দশকে অনেক উন্নতি হয়েছে।

উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সব হাসপাতালে এনসিডি কর্নারে ৫টি ওষুধ বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন হিসেবে নগর স্বাস্থ্যের দায়িত্ব আমাদের, এনসিডির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করার নিশ্চয়তা দিচ্ছি। নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ঢাকা সিটিতে পার্ক ও ফুটপাত স্থাপন করা হচ্ছে। দুর্ভাগ্যবশত ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর, এর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তবে আমরা আমাদের মাস্টারপ্ল্যান অনুসারে কাজ করছি। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় দুটি হাসপাতাল আছে, সেগুলোর উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ হতে কাজ করছে সরকার।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর আরবান হেলথের (আইএসইউএইচ) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জো আইভি বাফর্ড, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এনসিডি টিম লিডার (বাংলাদেশ) সাধনা ভাগওয়াত, ওয়ার্ড ওরবেস্টি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জন উইলডিং, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল রিসার্স সেন্টারের রিসার্স প্রধান অধ্যাপক ডা. রেদওনুর রহমান, বিএসএমএমইউ’র পাবলিক হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারিহা হোসেন।

দ্বিতীয় পর্বে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ডা. মিথিলা ফারুখ, অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, সানজিদা বিনতে আলী, আন্তর্জাতিক স্পিকার ডা. কিংসলে অ্যাঘো, বিলকিস বানু, নাভিরা আবতাবী বিনতে ইসলাম, খোন্দকার ফাতেমা। এই পর্বে সভাপতিত্ব করেন আইসিডিডিআরবি’র জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও আয়োজক কমিটির বৈজ্ঞানিক সেক্রেটারি ডা. আলেয়া নাহিদ। প্রধান অতিথি ছিলেন পিওর আর্থের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, ডায়বেটিস নিরব ঘাতক। এটি প্রতিরোধ করতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

এর আগের দিন বুধবার সম্মেলনের প্রথম দিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর জন্য অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) দায়ী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উদ্বেগের কারণ হচ্ছে অসংক্রামক রোগ। বাংলাদেশের ২০ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে, ১০ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিস ও প্রায় ২০ লাখ মানুষ ক্যানসারে ভুগছে। নতুন করে আরও প্রতি বছর ৫০ হাজার যোগ হয়। কারণ প্রসঙ্গে জাহিদ মালেক বলেন, জীবন যাত্রার পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, ওবিসিটি, তামাকের ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, অপর্যাপ্ত কায়িক পরিশ্রম, ওষুধের অপব্যবহারের কারণে এনসিডি বাড়ছে।

এ অবস্থায় এনসিডি প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে রেগুলার চেকআপ ও আর্লি ডিটেকশন গুরুত্বপূর্ণ। ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটি বাড়ানো ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। জাহিদ মালেক আরও বলেন, সরকার এনসিডি প্রতিরোধে সেক্টর ভিত্তিক প্রোগ্রাম নিয়েছে। দেশের আট বিভাগে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের হাসপাতাল স্থাপন করা হচ্ছে। দেশের সব জেলা হাসপাতালে ১০ বেডের ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ বেড স্থাপন করা হচ্ছে। উপজেলা হাসপাতালসহ দেশের সব হাসপাতালে এনসিডি কর্নার করা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, হাসপাতালগুলো কোভিড রোগী দিয়ে ভর্তি হওয়ায় এনসিডি রোগীরা সেবা বঞ্চিত হয়েছে। দেরিতে সেবা নেয়ায় মৃত্যু বেড়েছে। এখন দেশে কোভিড পজিটিভটি রেট ৩২%, দিনে ১৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে সবাইকে মাস্ক পরতে, জনসমাগম এড়ানো ও ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, ইন্টান্যাশনাল সোসাইটি ফর আরবান হেলথ (আইএসইউএইচ) এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জো আইভি বাফর্ড, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এনসিডি টিম লিডার (ব্যাংলাদেশ) সাধনা ভাগওয়াত, ওয়ার্ড ওরবেস্টি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক জন উইলডিং, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্ট্রর ডা. মুনির আহমেদ, ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল রিসার্স সেন্টারের রিসার্স প্রধান অধ্যাপক ডা. রেদওনুর রহমানসহ অন্যরা।

শীর্ষ সংবাদ:
সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ         ‘শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়’         ‘রাজধানীতে বসে সমালোচনা না করে গ্রামে গিয়ে পরিবর্তনটা দেখুন’         ডলার : কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেঁধে দিল সাড়ে ৮৭ টাকা, খোলা বাজারে ৯৭         অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী         ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বব্যাপী বেড়েছে গমের দাম         পি কে হালদারের দুই কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ল লাফিয়ে         ৮ পদের ওষুধের নিবন্ধন বাতিল করলো ঔষধ প্রশাসন         পুরস্কার পাবেন মাঠ পর্যায়ে ভূমির সেরা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা         করোনা : ২৪ ঘণ্টায় কারও মৃত্যু হয়নি         ইভ্যালির রাসেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি         আশুলিয়ায় কুকুরের মাংস দিয়ে বিরিয়ানি, গ্রেফতার ১         ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ : তিন লাখ জেলের জন্য বরাদ্দ পৌনে ১৭ হাজার টন চাল         চলতি সপ্তাহে আত্মসমর্পণ করছেন না হাজী সেলিম         ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হওয়ার সুযোগ নেই’         নিবন্ধন ছাড়া কেউ ব্যবসা করতে পারবে না ॥ তাপস         আমরা বৈশ্বিক সমস্যার মধ্যে আছি ॥ বাণিজ্যমন্ত্রী         দেশে ফিরতে চান পি কে হালদার         সম্রাটের উন্নত চিকিৎসা দরকার ॥ বিএসএমএমইউ         স্পেনকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর