বুধবার ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৫ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

সাভারে ভেজাল গুড় তৈরির কারখানা

সাভারে ভেজাল গুড় তৈরির কারখানা

অঙ্গন সাহা, সাভার ॥ সাভারে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে আখ কিংবা খেজুরের রসের পরিবর্তে ডালডা, ময়দা, কাপড়ের রং, ফিটকিরি, চিনি ও গো খাদ্য নালী (চিটা গুড়) দিয়ে তৈরী হচ্ছে ভেজাল গুড়। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের লাভের জন্য ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা না করে নির্ভয়ে ভেজাল গুড় তৈরী করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করছে। স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞরা বলছেন, এসব গুড় খেলে ক্যানসারসহ শরীরে কিডনি জনিত নানা রোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাভার দক্ষিণ নামা বাজারে রুপা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি গুড় তৈরীর কারখানার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে ডালডা, ময়দা, ফিটকিরি, কাপড়ের রং, চিনি ও নালী দিয়ে তৈরী করা হয় সুস্বাদু গুড়। এর আগে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০২০ সালে র্যা বের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। এরপরও বন্ধ হয়নি কারখানাটির ভেজাল গুড় তৈরীর কার্যক্রম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে প্রতিদিন রাত আটটা থেকে ভোর পর্যন্ত চলছে গুড় তৈরি। জলন্ত লাকড়ির চুুলায় বড় কড়াইয়ে গো খাদ্য নালির সঙ্গে চিনি জাল দেয়ার পর তার সঙ্গে ডালডা, ময়দা, কাপড়ের রং মিশিয়ে নির্দ্বিধায় তৈরি করছেন মুখরোচক গুড়। সেখানকার শ্রকিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ১৫০ বস্তা চিনি ব্যবহার করে গুড় উৎপাদন করা হয়। ডালডাসহ বিভিন্ন উপকরণ মেশানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন কারখানার মালিক গৌতম সাহা।

একইভাবে চলছে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি এলাকায় মাহাদী হাসান বুলবুল নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন জমিতে দুটি গুড় তৈরির কারখানা। চারদিকে উঁচু দেয়াল সামনে রয়েছে বড় গেট। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরে চলছে পৃথক দুটি ভেজাল গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ। সেখানকারই এক কারখানার মালিক নিরঞ্জন রায়। তিনি মানুষের জন্য গুড় তৈরি করেন না। তার কারখানার তৈরি গুড় গোখাদ্য বলে দাবি করেন। তবে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তার কারখানার গুড় একই কায়দায় তৈরি হয়ে মানুষের খাবার হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। অন্য কারখানার মালিক মাধব পাল জানান, খোলা গুড় কিনে তার সঙ্গে বিভিন্ন কিছু মিশিয়ে আখের গুড় তৈরি করেন তিনি। যা সাভারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীদের কাছে ৬৪-৬৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।

এদিকে সাভারের বিভিন্ন স্থানের খুচরা গুড় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রতি কেজি আখের গুড় ক্রেতাদের কাছে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন। সাভারে কারখানাগুলোতে গুড়ে ভেজাল করার কারণে তারা সেগুলো ক্রয় করে না বলে দাবি করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সায়েমুল হুদা জানান, এসব গুড় মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। যার ফলে ক্যানসার, কিডনি জনিত রোগসহ শরীরের বিভিন্ন অর্গ্যান ড্যামেজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইনের একাধিক ধারায় বিষাক্ত দ্রব্যের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, ভেজাল খাদ্য ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় খাদ্য উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনেও বিষাক্ত দ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে খাবার উৎপাদন করা হলে তিন বছরের কারাদন্ড কিংবা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। সরজমিন পরিদর্শন করে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফিটকিরি, কাপড়ের রং আর ডালডায় তৈরী হচ্ছে গুড় (দেখুন ভিডিও)

শীর্ষ সংবাদ:
মিরপুর টেস্ট ॥ বৃষ্টির পর আবার খেলা শুরু         মাঙ্গিপক্স ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব ॥ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা         ধামরাইয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১২টি ঘর পুড়ে ছাই         পদ্মা সেতু হওয়ায় বিএনপির বুকে বড় জ্বালা ॥ কাদের         সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাত করেন চক্রটি         শাহরাস্তিতে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হোটেলে, নিহত ১         নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কিন্তু আমার আয় বাড়েনি         সংযুক্ত আরব আমিরাতেও প্রথম মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত         জো বাইডেন এশিয়া ছাড়তেই তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া         বাগেরহাটে ট্রলির ধাক্কায় নারীসহ নিহত ৩         যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের স্কুলে বন্দুকধারীদের গুলিতে ১৯ শিশুসহ ২১ জন নিহত         ঢাকায় সার্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী         মানবতা-সাম্য-দ্রোহের কবি নজরুল ॥ প্রধানমন্ত্রী         কাজী নজরুলের সমাধিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের শ্রদ্ধা         হালদায় আবারো মৃত ডলফিন         ইভিএম বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে ইসি