শুক্রবার ৭ মাঘ ১৪২৮, ২১ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

যদি রাত পোহালে শোনা যেতো

যদি রাত পোহালে শোনা যেতো
  • অধ্যাপক ডাঃ মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)

ক’দিন আগেই বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে দারুণ সাজে সেজেছিল বাংলাদেশ। ওমিক্রনের চোখ রাঙানি তখনও ততটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে পৌঁছেনি। কাজেই কোভিডের সতর্কতাগুলো মেনে জমপেশ উদযাপন হয়েছে এবারে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর, যা প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও চলমান প্যান্ডেমিকের প্রেক্ষাপটে মানতে হবে যথেষ্ট। এরই ধারাবাহিকতায় সেজেছিল হাতিরঝিলও। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সেখানে আয়োজন করা হয়েছিল ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনার। সন্ধ্যায় সেখানে একের পর এক তুলে আনা হয়েছে সারাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এই সাংস্কৃতিক মহাযজ্ঞের উদ্বোধনের দিন উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেতো...’ গানটিতে ভার্চুয়ালি গলা মেলালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমার চেম্বারে একটা টিভিতে সারাক্ষণ চলতে থাকে কোন না কোন নিউজ চ্যানেল। রোগী দেখার ফাঁকে ফাঁকে আড়চোখে উঁকি দিয়ে টিভি দেখে নিজেকে একটু আপডেটেড রাখার এই চেষ্টাটা করোনাকালে অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীকে গাইতে শুনছিলাম আর ভাবছিলাম- সত্যি সত্যিই যদি বঙ্গবন্ধু ফিরে আসতেন!

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সুবর্ণজয়ন্তী। বাহাত্তরের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি লন্ডন ও তারপর নয়াদিল্লী হয়ে ঢাকায় পৌঁছেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পেয়েছিল বাঙালী আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা। পঁচাত্তরে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে চিরতরে হারিয়ে ফেলার অপূরণীয় ক্ষতি বাঙালী কোনদিনও পূরণ করতে পারবে না। সত্যি বলতে কি, বাঙালী কখনও জানবেই না; আমরা কি পেতে পারতাম আর কি হারিয়েছি। আজ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্র্যাজুয়েশনের যে গৌরবে গর্বিত পুরো জাতি, প্রধানমন্ত্রী এই ক’দিন আগেই তার এক বক্তব্যে বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু না হলে বাংলাদেশের এই গ্র্যাজুয়েশন হতো ১৯৮৫-তেই। আমরা আশায় বুক বাঁধছি, আগামী বছর সচল হবে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের প্রথম ইউনিটটি, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর ৪৬ বছর পর। অথচ এই বিদ্যুত কেন্দ্রটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ বঙ্গবন্ধু নিয়েছিলেন তার সাড়ে তিন বছরের ক্ষণস্থায়ী শাসনামলেই।

যদি এমন হতো, আবারও দেশে ফিরছেন বঙ্গবন্ধু। চারদিকে সাজ সাজ রব, ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি লাখো জনতার মিছিলে মিছিলে সয়লাব। ঠিক যেন বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারির আবহ চারদিকে। বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরছেন নয় মাস নয়, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর। বঙ্গবন্ধুকে এক নজর দেখার জন্য মানুষের আগ্রহ তাই আকাশছোঁয়া। তাঁর অবর্তমানে পাকিস্তানী ধারার শাসকদের খপ্পরে পড়ে বাংলাদেশের যে ক্রমাগত পেছনে ছুটে চলা, তার লাগামটি চূড়ান্তভাবে টেনে ধরেছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা, আজ থেকে তেরো বছর আগে ২০০৯ দ্বিতীয় মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর। এর আগে শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদটির যবনিকাও এসেছিল স্বল্প সময়েই। অনেকটাই তাঁর পিতার ক্ষণস্থায়ী শাসনকালের মতোই। কিন্তু থমকে যাননি শেখ হাসিনা। ঠিকই দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম আর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এবং নানামুখী চক্রান্তকে পরাজিত করে ক্ষমতায় ফিরেছেন ‘বাপকা বেটি’।

সেই থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের পরের তেরোটি বছরের গল্প শুধু ‘শেখ হাসিনা ম্যাজিকে’ বদলে যাওয়ার উপাখ্যান। তার নেতৃত্বে একের পর এক ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে একাগ্রচিত্তে কাজ করে যাচ্ছেন জাতির পিতার কন্যা। এমডিজি অর্জনে তার নেতৃত্বে দেশ যেমন চূড়ান্ত সফল, এসডিজি অর্জনেও ঠিক একইভাবে বলিষ্ঠ পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বাস্তবায়ন করা হচ্ছে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প। এ বছরই পর্দা উঠবে পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল আর মেট্রো রেলের মতো তিন-তিনটি মেগা প্রকল্পের। মহাকাশে ঘুরছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। সাগরের তলদেশ দিয়ে জলরাশি দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশের সাবমেরিন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ফিরিস্তি লিখে-বলে শেষ করা দুরূহ। এ নিয়ে কবিতা লিখতে বসলেও লিখতে হবে মহাকাব্য। দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েই ক্ষান্ত দেননি প্রধানমন্ত্রী। ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করে চূড়ান্ত করেছেন বাংলাদেশের আগামী একশ’ বছরের উন্নয়নের রোডম্যাপটিও।

করোনাকালেও তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বব্যাপী নজরকাড়া। শুধু যে কোভিডের সংক্রমণ আর মুত্যৃকেই সহনশীল পর্যায়ে রেখেছে বাংলাদেশ তা-ই নয়, দেশের পিছিয়েপড়া মানুষগুলোকে জীবনযুদ্ধে টিকিয়ে রাখতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ। এর মধ্যেই কমপক্ষে একটি ডোজ টিকা পেয়ে গেছেন দেশের প্রায় বারো কোটি নাগরিক। আর সরকারের গুদামে মজুদ আরও প্রায় নয় কোটি ডোজ টিকা। দেশের নিজস্ব উদ্ভাবিত এবং উৎপাদিত কোভিড টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্সের’ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও শুরু হওয়ার পথে। এই ভ্যাকসিনটি বাজারে এলে নিজস্ব ভ্যাকসিন রোলআউটের কৃতিত্বের অধিকারী নবম দেশ হিসেবে বিশ্বে নাম লেখাবে বাংলাদেশ। আর বঙ্গভ্যাক্স হবে ফাইজার আর মডার্নার পর পৃথিবীতে তৃতীয় এমআরএন-এ কোভিড ভ্যাকসিন। হয়ত সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের কোন ড্রিমলাইনার কোভিড প্যান্ডেমিকে পর্যদুস্ত কোন দেশের রাজধানীতে অবতরণ করবে বাংলাদেশের উপহার বোঝাই বঙ্গভ্যাক্স নিয়ে। ভাবা যায়?

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ, তার ভাষায় ‘দর কষাকষিতে সক্ষম’ একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আজ নিজেদের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশী আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশকে সুযোগ করে দেয় প্রতিবেশীকে ঋণ বা সামরিক যান উপহার দিয়ে উদীয়মান শক্তি হিসেবে নিজেকে জানান দেয়ার। তারা আমাদের না আটকে বরং সুযোগ করে দেয়। কারণ, আমাদের সখ্য এখন সবার বড় প্রয়োজন। সে কারণেই একটি ভ্যাকসিন পরাশক্তির ভ্যাকসিনের চালান দেশে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করে প্রতিদ্বন্দ্বী কোন ভ্যাকসিন পরাশক্তির বিমান বোঝাই উপহারের কোভিড ভ্যাকসিন।

বিমানবন্দরে নেমে তাঁর অবর্তমানে তাঁর কন্যার হাত ধরে বদলে যাওয়া এই বাংলাদেশ দেখে বঙ্গবন্ধুর কেমন অনুভূতি হতো, তা আমরা কখনই জানতে পারব না। লেখার শুরুতে যে স্বপ্নদৃশ্যের অবতারণা করেছি, খুব ভাল করেই জানি তা শুধুই স্বপ্ন। কখনই তা বাস্তব হওয়ার নয়। কখনই আর ফিরে আসবেন না বঙ্গবন্ধু তাঁর প্রিয় বাংলাদেশে। কখনই আর সন্ধ্যা মুখার্জির কণ্ঠে শুনব না, ‘বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে তুমি তোমার সোনার বাংলায়... ...’। কিন্তু কন্যা সন্তানের পিতা হিসেবে খুব ভাল করে জানি নিজ কন্যার এতটুকু সাফল্যে আমাদের মতো প্রতিটি কন্যার পিতার বুক যখন ফুলে-ফেঁপে দশ হাত হয়ে যায়, তখন দশদিকে তাঁর প্রিয় কন্যার হাজার রকমের এতসব সাফল্য দেখে গর্বিত বঙ্গবন্ধু নিশ্চয়ই পরলোকে বসে গর্বিত ভঙ্গিমায়ই এখন তাঁর প্রিয় পাইপে পরের টানটি দেয়ার প্রস্তুতি নিতেন।

লেখক : ডিভিশন প্রধান, ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশন,

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও

সদস্য সচিব, সম্প্রীতি বাংলাদেশ

শীর্ষ সংবাদ:
তিন পণ্য দ্রুত আমদানির পরামর্শ         শতবর্ষী কালুরঘাট সেতুর আরও বেহাল দশা         ঐক্য সুদৃঢ় আওয়ামী লীগের বিএনপি হতাশ         ইসি নিয়োগ আইন চলতি অধিবেশনেই পাসের চেষ্টা থাকবে         শান্তিরক্ষা মিশনে র‌্যাবকে বাদ দিতে ১২ সংগঠনের চিঠি         মাদকসেবীর সঙ্গে মাদকের বাজারও বাড়ছে         দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১১ হাজার ছুঁই ছুঁই         বঙ্গবন্ধু জাতীয় আবৃত্তি উৎসব শুরু ২৭ জানুয়ারি         এবার কুমিল্লা ভার্সিটিতে রেজিস্ট্রার হটাও আন্দোলন         শাবিতে অনশনরতরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, ৪ জন হাসপাতালে         ওয়ারীতে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে যাত্রী হত্যা         বিএনপি কখনও লবিস্ট নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করেনি         অবশেষে চট্টগ্রামে হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, জাদুঘর         ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ৪, শনাক্ত ১০৮৮৮         দুর্নীতি রোধে ডিসিদের সহযোগিতা চাইলো দুদক         সন্ত্রাসীরা অস্ত্র তুললেই ফায়ারিং-এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধে ডিসিদের নির্দেশ         ব্যাংকারদের বেতন বেধে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক         মগবাজারে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় প্রাণ গেল কিশোরের         জমির ক্ষেত্রে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বন্ধ হচ্ছে