শনিবার ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৭ নভেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

শেখ রাসেল দিবস আজ, পালিত হবে জাতীয়ভাবে

শেখ রাসেল দিবস আজ, পালিত হবে জাতীয়ভাবে

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ‘তুইতো গল্পের বই, খেলা নিয়ে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন বয়সেতে ছিলি! তবুও পৃথিবী আজ এমন পিশাচি হলো শিশুরক্তপানে তার গ্লানি নেই? সর্বনাশী, আমার ধিক্কার নে! যত নামহীন শিশু যেখানেই ঝরে যায় আমি ক্ষমা চাই, আমি সভ্যতার নামে ক্ষমা চাই।’

ভয়াল ১৫ আগস্ট পৃথিবীর ইতিহাসে নির্মম-জঘন্যতম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ শিশুপুত্র শেখ রাসেল হত্যাকা-কে নিয়ে লেখা দুই বাংলার বিখ্যাত কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার ‘শিশুরক্ত’ কবিতায় এমনভাবে ক্ষেদোক্তি প্রকাশ করেছেন।

আজ শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন। প্রথমবারের মতো এ বছর থেকে শেখ রাসেলের জন্মদিন জাতীয়ভাবে ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। শেখ রাসেল দিবস ‘ক’ শ্রেণীভুক্ত হিসেবে পালনের বিষয়ে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস।’ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

১৯৬৪ সালের এই দিনে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করেন। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর দুরন্তপ্রাণ এই শিশু তাঁর পিতার রাজনৈতিক জীবনকে দেখতে শুরু করেছিল মাত্র। বাবার বুকের গভীরে মুখ রেখে সাহস আর বীরত্বের উষ্ণতা নেবার যখনই ছিল শ্রেষ্ঠ সময়, ঠিক তখনই নরঘাতকদের দল তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। যেন শেখ রাসেল স্বাধীনতার মহান স্থপতি শেখ মুজিবের ছেলে, এটাই হয়ত ছিল তাঁর একমাত্র এবং সবচেয়ে বড় অপরাধ।

এগারো বছরের শিশু রাসেল প্রতিদিনের মতো সেদিনও ঘুমিয়ে ছিল। আকস্মিক গুলির বীভৎসতায় তাঁর ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘুম ভাঙ্গা চোখ নিয়ে সে আতঙ্কিত হয়, চমকে ওঠে। অবস্থা বুঝে বেগম মুজিব আদরের দুলালকে রাসেলকে রক্ষায় কাজের লোকসহ পেছনের দরজা দিয়ে চয়ে যেতে বলেন। গেট দিয়ে বাইরে যাওয়ার সময় ঘাতকরা তাকে আটক করে। এ সময় বাড়ির ভেতরে মুহুর্মুহু বুলেটের শব্দ আর বীভৎস আর্তচিৎকার শুনে অবুঝ শিশু রাসেল কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘাতকদের বলেছিল, ‘আমি মায়ের কাছে যাব।’

কিন্তু এতটুকু মন গলেনি পরাজিত স্বাধীনতাবিরোধী ঘৃণ্য নরপিশাচদের। আগেই বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সকল সদস্যদের পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করেছে। মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ঠা-া মাথায় একটি সুন্দর ও অবুঝ শিশু শেখ রাসেলকেও গুলি করে হত্যা করে নিষ্ঠুর ও ইতিহাসের ঘৃণ্য পাপিষ্ঠরা।

সময়টা ছিল লড়াই আর যুদ্ধের উত্তেজনায় মুখর। ১৯৬৪ সাল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ঘটে চলেছে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ওই সময় সমগ্র পাকিস্তানজুড়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডামাডোল। একদিকে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান, অন্যদিকে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী কায়দে আজম মুহম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহ। অনিশ্চয়তা আর অন্ধকারের মাঝেও এ অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখছে। যিনি এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়ে বাঙালী জাতিকে এনে দেবেন মুক্তির স্বাদ, তাঁরই (বঙ্গবন্ধু) ঘর আলো করে জন্ম নিল এক ছোট্ট শিশু।

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবরে ধানম-ির বিখ্যাত ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িটি আলোকিত করে এলো শেখ রাসেল। শেখ রাসেলের যেদিন জন্ম হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সেদিন ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে প্রচারে অংশগ্রহণের জন্য চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন।

সে দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লিখেছেন- ‘রাসেলের জন্মের আগের মুহূর্তগুলো ছিল ভীষণ উৎকণ্ঠার। আমি, কামাল, জামাল, রেহানা ও খোকা চাচা বাসায়। বড় ফুফু ও মেজ ফুফু মার সঙ্গে। একজন ডাক্তার ও নার্সও এসেছেন। সময় যেন আর কাটে না। জামাল আর রেহানা কিছুক্ষণ ঘুমায় আবার জেগে ওঠে। আমরা ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখে জেগে আছি নতুন অতিথির আগমন বার্তা শোনার অপেক্ষায়। মেজ ফুফু ঘর থেকে বের হয়ে এসে খবর দিলেন আমাদের ভাই হয়েছে। খুশিতে আমরা আত্মহারা। কতক্ষণে দেখব। ফুফু বললেন, তিনি ডাকবেন। কিছুক্ষণ পর ডাক এলো। বড় ফুফু আমার কোলে তুলে দিলেন রাসেলকে। মাথাভরা ঘন কালোচুল। তুলতুলে নরম গাল। বেশ বড়সড় হয়েছিল রাসেল।’

রাসেল নামটি রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই। তাঁর প্রিয় লেখক ছিলেন বার্ট্রান্ড রাসেল। পৃথিবী বিখ্যাত সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত বার্ট্রান্ড রাসেলের নামের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যের নাম রাখলেন রাসেল, শেখ রাসেল। এই নামটিকে ঘিরে নিশ্চয়ই তাঁর মহৎ কোন স্বপ্ন বা আকাক্সক্ষা ছিল। বঙ্গবন্ধু নিজেও ছিলেন বিশ্ব মানবতার উজ্জ্বল দ্যুতি, নিপীড়িত মানুষের বন্ধু, বাঙালীর জাতির জনক, মুক্তিকামী মানুষের মহান নেতা এবং গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও শান্তি আন্দোলনের পুরোধা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মাত্র ১১ বছর বয়সে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘাতকদের হাতে নির্মম হত্যাকা-ের শিকার হন শিশুপুত্র শেখ রাসেলও। পৃথিবীতে যুগে যুগে রাজনৈতিক হত্যাকা- ঘটেছে, কিন্তু এমন নির্মম, নিষ্ঠুর এবং পৈশাচিক হত্যাকা- কোথাও ঘটেনি। হত্যাকা-ের সময় আতঙ্কিত হয়ে শিশু রাসেল কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, ‘আমি মায়ের কাছে যাব।’ মা, বাবা, দুই ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, চাচা সবার লাশের পাশ দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে সবার শেষে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করল শেখ রাসেলকে।

রাসেল নামের এই শান্তিপ্রিয় মানবিক ফুলটিকে আর ফুটতে দেয়া হলো না। শিশু রাসেলকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে ঘাতকরা মানব সভ্যতার ইতিহাসে জঘন্যতম অপরাধ করেছে। এ ধরনের নিষ্ঠুর ‘মার্সি কিলিং’ শুধু রাসেলের জীবনকেই কেড়ে নেয়নি, সেই সঙ্গে ধ্বংস করেছে তাঁর সব অবিকশিত সম্ভাবনাও। বাবার বুকের গভীরে মুখ রেখে সাহস আর বীরত্বের উষ্ণতা নেবার যখনই ছিল শ্রেষ্ঠ সময়, ঠিক তখনই নরঘাতকদের দল তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

শেখ রাসেলের জন্মদিন ‘শেখ রাসেল দিবস’ উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ তাদের সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগ আজ সোমবার সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে চিরনিন্দ্রায় শায়িত শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। দ্বিতীয় দিন আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভাপতির বক্তব্যে রাখবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ দিনব্যাপী কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ধানমন্ডি কলাবাগান মাঠে শিশু-কিশোর সমাবেশ, আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি এবং ৫৭ পাউন্ডের কেক কেটে জন্মদিন পালন করবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান এবং দুপুরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে। শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে দুটি ই-পোস্টার প্রকাশ করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি) প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের সঙ্গে যৌথভাবে কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। সকাল ছয়টায় বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন, সাড়ে ৯টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দিবসের উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী আয়োজন, বিকেলে সেমিনার এবং সন্ধ্যা ছয়টায় একই ভেন্যুতে ‘কনসার্ট ফর পিস এ্যান্ড জাস্টিস’ অনুষ্ঠিত হবে। আজ জাতীয় জাদুঘর শিশুদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হবে এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী করবে শিশু একাডেমি।

শীর্ষ সংবাদ:
সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীনের শাস্তি বাতিল         কুড়িগ্রামে ৪৩জন পেলেন বিনা টাকায় পুলিশ চাকরি         কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে         ওমিক্রন ॥ দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ         আন্তর্জাতিক কবি সমাবেশে মীরসরাইয়ে কবিতা ও গানে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ         ধানমন্ডির সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান, পরীক্ষা করছে চালকের লাইসেন্স         ভাসানচর থেকে পালানোর সময় দালালসহ ২৩ রোহিঙ্গা আটক         চট্রগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ থেমেছে ৩৩০ রানে         ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা         গাজীপুরে নারীকে গলা কেটে হত্যা ॥ স্বামী সুজন পলাতক         ৯১ রানেই থেমে গেলেন মুশফিক         ‘ওমিক্রন’ করোনাভাইরাসের 'উদ্বেগজনক' নতুন এক ভ্যারিয়েন্ট         টঙ্গী বাজার মাজার বস্তিতে আগুনে ৫ শ' ঘর পুড়ে ছাই         ভূমিকম্পে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল রাজধানী ঢাকা         টার্গেট ৫শ’ বিলিয়ন ডলার ॥ বিনিয়োগ আকর্ষণের মহাপরিকল্পনা         ঘুরে দাঁড়াল টাইগাররা         একি সাধ, সেকি লাজ!         নাইমকে চাপা দেয়া ময়লার গাড়ির মূল চালক গ্রেফতার         শহীদ ডাঃ মিলন দিবস আজ, কর্মসূচী         সিলেট থেকে সরাসরি পণ্য রফতানি করা হবে ॥ মোমেন