সোমবার ১০ কার্তিক ১৪২৮, ২৫ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রামে শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড ॥ অবস্থার অবনতি

  • উপজেলায় করোনা পরিস্থিতি নাজুক

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ঈদ-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম জেলায় করোনা পরিস্থিতির আরও ভয়ঙ্কর অবনতি হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বিগত ১৬ মাসের সকল রেকর্ড ভেঙ্গেছে। এরমধ্যে উপজেলায় শনাক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীরা নগরমুখী। হাসপাতালে শয্যার সঙ্কটে চিকিৎসা ব্যবস্থা নাজুক পর্যায়ে। রোগীর চাপ সামলাতে শয্যা বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

তথ্যমতে, চট্টগ্রামে গত ২৩ জুলাই শনাক্তের হার ছিল ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ, সেদিন রোগী শনাক্ত হয় ৩০১ জন। অথচ তিনদিনের ব্যবধানে গত ২৬ জুলাই ৩ হাজার ৩৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ৩১০ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়, যা এ যাবত কালে একদিনে করোনা সংক্রমণের চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ। শনাক্তের হার পৌঁছেছে ৩৮ দশমিক ৬৫ শতাংশে। এরমধ্যে নগরীর ৮৩৩ এবং উপজেলার ৪৭৭ জন। অপরদিকে শনাক্তের পাশাপাশি একদিনে ১৮ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে জেলায়। একদিনে এত মৃত্যু এর আগে আর হয়নি। জানা গেছে, আগে চট্টগ্রামের উত্তরের উপজেলা ফটিকছড়ি, রাউজান, মীরসরাই সীতাকুÐে কোভিড শনাক্তের সংখ্যা বেশি থাকলেও চলতি সপ্তাহে করোনার ছোবল বেশি দক্ষিণের উপজেলা বোয়ালখালী, পটিয়া ও বাঁশখালীতে। এসব উপজেলায় শনাক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে শয্যা বাড়ানোর বিকল্প নেই জানিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, সরকারী হাসপাতালে শয্যা সঙ্কট নিরসন করতে না পারলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি শেষ হবে না। পজিটিভ মুর্মূষু রোগী নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে শয্যার জন্য ছুটোছুটির ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থারও ক্ষতি হয়। তাই সরকারী হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি যেসব হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জামের সঙ্কট রয়েছে তার সমাধান করতে হবে। দ্রæত চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা গেলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এই পর্যন্ত সর্বমোট ৭৭ হাজার ৫২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৮ হাজার ৩২৩ নগরীর এবং উপজেলার ১৯ হাজার ১৯৮ জন রয়েছে। করোনায় সর্বশেষ সোমবার মারা যাওয়া ১৮ জনের মধ্যে নগরীর ৭ এবং উপজেলার ১১ জন বাসিন্দা রয়েছেন। এই নিয়ে জেলায় মোট মারা গেছেন ৯১৫ জন। যাদের মধ্যে নগরীর ৫৫৪ এবং উপজেলার ৩৬১ জন।

গ্রাম পর্যায়ে সংক্রমণের হার আগের চেয়ে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ সেখ ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শতভাগ মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা এবং সচেতনতার বিকল্প নেই। কারণ স্বাস্থ্যবিধি যদি না মানা হয় তাহলে কোন চিকিৎসা কাজে আসবে না। গত মাসেও জেলায় ৭৯ রোগী মারা গেছে, যাদের মধ্যে উপজেলার ৫০ জন। উপজেলা পর্যায়ে মানুষের মধ্যে যদি সচেতনতা না আসে তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। শয্যা সঙ্কট নিরসনে চমেক ও জেনারেল হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। উপজেলাতেও আরও ১০০ শয্যা বাড়ানো হবে।

শীর্ষ সংবাদ: