সোমবার ১১ মাঘ ১৪২৮, ২৪ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

কোভিড-১৯ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর বাস্তবায়ন

কোভিড-১৯ ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর বাস্তবায়ন
  • ড. মিহির কুমার রায়

বিগত পহেলা জুলাই তারিখ থেকে নতুন অর্থবছর (২০২০-২১)-এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে যা বর্তমানে পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। সরকারের বাজেট কাঠামোতে উন্নয়ন বাজেট তথা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং বর্তমান বছরের বাস্তবায়িত বাজেটে এই খাতে উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এখানে লক্ষণীয় এডিপি এর বাস্তবায়ন ২০১৯-২০ অর্থবছরে অনিশ্চিত রয়ে গেছে যা কত এখনও তা জানা যায়নি। কিন্তু লক্ষণীয় যে উন্নয়নের পুরো টাকাটাই আসে ঋণ থেকে- স্বদেশী কিংবা বাইরে থেকে, সরকার যা আয় করে তাই ব্যয় করে, উন্নয়নের টাকা থাকে না যা দেশের উন্নয়নের খাত ও ঘাটতি বাজেট থেকে বোঝা যায়। অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় ৪টি কৌশলের কথা বলেছিলেন যেমন : সব ব্যয়ে কর্মসৃজনকে অগ্রাধিকার ও বিলাসী খরচ কমানো, ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে কতিপয় সুবিধা, সামাজিক সুরক্ষার আওতা বৃদ্ধি ও বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি বাজেটে টাকা ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায় সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ ব্যয় ৩১ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা, যা বাজেটের ৫ শতাংশ যা গত বছর ছিল ৪.৯ শতাংশ। বর্তমান সময়ে মুজিববর্ষে সরকারের বিশেষ উপহার পাঁচ বছর পর করমুক্ত আয়সীমা যেমন বাড়িয়েছে তেমনি আয়করের হারও কমিয়েছে যেমন করমুক্ত আয়সীমা বেড়েছে ৫০ হাজার টাকা, সর্বনিম্ন কর হ্রাস ১০% থেকে কমিয়ে ৫% আনয়ন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ সম্প্রসারিতকরণ যেমন নগদ টাকা, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড, ব্যাংক আমানতের টাকা অপ্রদর্শিত তা ১০% আয়কর দিয়ে রিটার্ন ঘোষণা দেয়া যাবে যেখানে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পার হতে যাওয়ার দেশটিতে এ কথা কোনভাবেই বলা যাবে না যে কেবলমাত্র নির্বাচনী বছর ছাড়া এডিপির বাস্তবায়ন ৯০% ওপরে পৌঁছেছে যার প্রমাণ অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা (২০২০)। সে যাই হোক না কেন বর্তমান বছরের বাজেটকে বলা হয় করোনার বাজেট যেখানে সামষ্টিক অর্থনীতির স্তিতিশীলতা ও খেলাপী ঋণের সঙ্কট, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জীবন-জীবিকা সুরক্ষা, বাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগকারীর আস্থা এবং বিদেশের বাজারে তেলসহ পণ্যের কেনাবেচা ইত্যাদি অর্থনীতির চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে বর্তমান বছরের পাঁচ মাসে উন্নয়ন খাতের বাজেট ব্যয়ের গতি প্রকৃতির নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করাই এই প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য, যা থেকে অগ্রগতির একটি পূর্বাভাস পাওয়া যাবে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৭ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা যেখানে বাস্তবায়নের হার মাত্র ১২. ৭৯ শতাংশ, যা পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্নে পৌঁছাল। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ১১ শতাংশ। এ ছাড়া চলতি বছরে ১১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বাস্তবায়নের হার ৫ শতাংশের নিচে যার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বাস্তবায়নের হার ৮.০ শতাংশ (উৎস : আইএমইডি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়)। বিগত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের হিসেবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ১৪. ২৫ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৩. ৭৫ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৪ . ৫১ শতাংশ এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৩. ৬০ শতাংশ।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের ব্যয় ছাড়া ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) বরাদ্দ রয়েছে। ১ হাজার ৫৮৪টি প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় হবে। বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস হতে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস হতে ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকার সংস্থান করা হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৪৫৬টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১২৭টি এবং জেডিসিএফ অর্থায়িত প্রকল্প একটি। এ ছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের ৮৯টি প্রকল্পে প্রায় ৯ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকার এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে। এ অর্থের মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস ৫ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস ৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। ফলে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের ব্যয় ও প্রকল্প যুক্ত করলেও মোট প্রকল্প দাঁড়াবে ১ হাজার ৬৭৩টি এবং এডিপির আকার দাঁড়ায় ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকা।

তবে বেশকিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে যেমন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ২.২৮ শতাংশ, জননিরাপত্তা বিভাগের ২. ১৫ শতাংশ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ .৯৭ শতাংশ, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৪.৬৩ শতাংশ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১ দশমিক ৭৬ এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ২. ৯৯ শতাংশ, আইন ও বিচার বিভাগের ২. ৯০ শতাংশ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের ৪.৭৩ শতাংশ, পরিকল্পনা বিভাগের ৪. ৮৫ এবং বাংলাদেশ সরকারী কর্মকমিশন শূন্য ০.২৮ শতাংশ। তাছাড়াও স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ ৩০ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের হার ১২.৬৭ শতাংশ, বিদ্যুৎ বিভাগের বরাদ্দ ২৭ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের হার ১৬.৬৯ শতাংশ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বরাদ্দ ২৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের হার ১২.১৯ শতাংশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১৭ হাজার ২৪১ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের হার ১০ ২৮ শতাংশ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১২ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নের হার ৮.৯৫ শতাংশ, তবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বরাদ্দ ৯ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা থাকলেও বাস্তবায়নের হার মাত্র ৮.০৭ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের করোনাকালীন বাজেট বাস্তবায়নের অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মধ্যে লক্ষ্যকেন্দ্রিক রাজস্ব আহরণ, অবকাঠামোগত ঘাটতি, অগ্রাধিকারভিত্তিক সরকারী ব্যয় নির্ধারণ, ঘাটতি বাজেটের আর্থিক ব্যবস্থাপনায়, বৈদেশিক ঋণপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা, ব্যক্তি ঋণের প্রতিবন্ধকতা, রফতানি- আমদানি বাণিজ্যে সমতা আনয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সঞ্চয় বিনিয়োগের ভারসাম্য রক্ষা ইত্যাদি চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে যা একেবারেই দৃশ্যমান এখন বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা রোডম্যাপ তৈরি, রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, প্রকল্পের গুণগত বাস্তবায়ন ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করলে অনেক চ্যালেঞ্জই মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। এখন প্রশ্নটি হলো তা কিভাবে সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাজেট সমাপনী বক্তৃতায় জাতীয় সংসদে বলেছেন করোনা মোকাবেলা করে বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং অর্থমন্ত্রী বলেছেন অর্থের কোন রকম অভাব হবে না। এখন বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা মানেই এর সঙ্গে সংযুক্ত জনশক্তি তথা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সক্ষমতা যা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে যা সরকার অবগত আছে। কিন্তু এর উন্নয়নের গতিধারায় কবে নাগাদ এই সক্ষমতা একটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাবে তা বলা দুষ্কর কিন্তু দেশ উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে যে গ্রতিতে তার চেয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এর জন্য প্রশিক্ষণ ও তদারকির কোন বিকল্প নেই সত্যি কিন্তু একটি রোডম্যাপ ধরে আগাতে হবে। প্রায়শই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর সক্ষমতা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী ভুক্ত প্রকল্পগুলোর ব্যয় দক্ষতা/ব্যয়ের মান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন শোনা যায় বিশেষত; অর্থনীতিবিদদের কাছু থেকে যার ভিত্তিগুলো সরকারকে আমলে নেয়া উচিত। কারণ রাজস্ব আয়ের আহরণের একটি বড় প্রতিষ্ঠান হলো এনবিআর যার সঙ্গে সরকারের স্থায়িত্বশীলতার প্রশ্নটি জড়িত। সে ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নৈতিক ভিত্তি তথা প্রশাসনিক কাঠামো আরও জোরদার করতে হবে, নতুন নতুন করদাতা সংগ্রহে উপজেলায় আরও অফিস স্থানান্তর করতে হবে এবং বেশি বেশি কর মেলার আয়োজন নতুন অঞ্চলগুলোতে করতে হবে। আবার উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যয়ের মান উন্নয়ন ও অব্যাহত দুর্নীতি প্রতিরোধে উদ্যোগী মন্ত্রণালয়, বাস্তবায়নকারী সংস্থা, পরিকল্পনা কমিশন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ অণু বিভাগকে উন্নয়নের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করতে হবে। বর্তমান বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা খাত যা ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা যা বাজেটে মোট বরাদ্দের ১৭ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে ৪১ হাজার ২৭ কোটি টাকা যা মোট বরাদ্দের ৭.২ শতাংশ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ২২ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা যা মোট বরাদ্দের ৩.৬ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ভর্তুকি ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এখন করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন চিকিৎসক/ কর্মী নিয়োগ, করোনা মোকাবেলার জন্য কিট, পিপিই, মাস্ক, অক্রিজেন ও মেডিসিন সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরও বেশি হওয়ার প্রয়োজন ছিল। দেশে প্রাথমিক/মধ্যম পর্যায়ে সেবার অগ্রগতি ভাল কিন্তু উচ্চ সেবায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যেমন আইসিইউ, ভেন্টিলেশন ইত্যাদিতে বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছি। দেশের এই পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ এর মোকাবেলায় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

দ্বিতীয় প্রসঙ্গটি হলো বৈশ্বিক অবস্থার উন্নতি না হলে দেশের আমদানি-রফতানিতে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে সময় লাগবে তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মহীনতা, ভোগ চাহিদা ও সরবরাহ চেনে বাধাগ্রস্ততা, রাজস্ব আদায়ে স্থবিরতা ইত্যাদি। বর্তমান সরকার যে গতিতে এই পরিস্থিতির মোকাবেলা করছে তা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কারণ প্রবৃদ্ধির চেয়ে এখন টিকে থাকাটাই বিবেচ্য বিষয়;

তৃতীয়ত : আয়কর আইনের পরিবর্তনের ফলে প্রত্যক্ষ কর কমে যেতে পারে এবং কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি উন্মুক্ত করায় এই সুযোগটি ও সদ্ব্যবহার করা উচিত। বিভিন্ন সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে ষোলো বার এই সুযোগটি দেয়া হয়েছিল কিন্তু এতে ভাল ফল পাওয়া যায়নি। রফতানি শুল্কহারে যে সকল পরিবর্তন এসেছে তা বিনিয়োগ তথা ব্যবসাবান্ধব বিশেষত করোনার সৃষ্ট অর্থনৈতিক অবস্থা ও ব্যবসায়ীদের চাহিদার বিবেচনায়। কিন্তু ইন্টারনেট ও সিম ব্যবহারে যে মুসক বৃদ্ধি করা হয়েছে তাতে হয়ত রাজস্ব বা[ড়বে কিন্তু সমালোচনা বাড়বে অনেক বেশি। আমানতকারীরে ব্যাংক হিসাব থেকে এ্যাক্রাইজ কর কেটে নেয়া অজনপ্রিয় আর একটি পদক্ষেপ যা আমানতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বড় বাজেট কোন সমস্যা নয়, বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে হবে,অপচয় কমাতে হবে,সরকার ষোষিত ১৯টি ক্ষেত্রে যে প্রণোদনা ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা সঠিক সময়ে যোগ্য লোকদের হাতে যাতে যায় এদিকে নজর দিতে হবে।

চতুর্থ: করোনার প্রভাবে দেশের দারিদ্র্যের হার উর্ধগতি যা সম্প্রতি কয়েকটি গবেষণায় উঠে এসেছে এবং মানুষ ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছে যা জীবন ও জীবিকার র্ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তুলছে। দেশের প্রায় ৪ কোটি দরিদ্র মানুষের সঙ্গে আরও দেড় কোটি লোক যুক্ত হয়েছে এবং সরকার যে ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছে তা জিডিপির ৩.৭ শতাংশ যা ব্যাংকের মাধ্যমে কম সুদে দেয়া হবে। এই প্রণোদনা যেন গ্রামে যাওয়া মানুষকে আত্ম-কর্মসংন্থানে নিয়ে যেতে পারে সে দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কর্মে নিয়োজিত লোকদের হাতে টাকার উপস্থিতি তাদের খরচ প্রবনতা বাড়াবে, পণ্যের চাহিদার সৃষ্টি হবে এবং কৃষি শিল্প উৎপাদন সহায়ক হবে যা অর্থনীতির জন্য ভাল খবর। সার্বিকভাবে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ সন্তোষজনক এবং জমি রেজিস্ট্রি সহজকরণ, ইলেকট্রিসিটির প্রাপ্যতা, গ্যাস সরবরাহ ইত্যাদি পাওয়া গেলে ব্যবসার সূচকে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। সর্বশেষে বলা যায় : সামাজিকভাবে করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় জনসচেতনতার পাশাপাশি আরও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। আমাদের করোনাকালের আট মাস অতিবাহিত হয়েছে এবং এই মধ্যে আমরা জীবন-জীবিকায় বাস্তবতা লক্ষ্য করেছি যা আমাদের জন্য বড় পাওয়া। মানবিক লকডাউন মডেল মডেল যা সরকার অনুসরণ করছে তা দেশের জন্য একটি সফল মডেল। যার মাধ্যমে দেশের কষ্টসহিষ্ণু মানুষ আপন শক্তিতে বলিয়ান হয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হবে। তা হলেই উন্নয়ন বরাদ্দের টার্গেট শতভাগ মানসম্পন্নভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং উন্নয়নের মহাসড়কের সব যানজট নিরসন হবে।

লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ডিন, সিটি ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি

শীর্ষ সংবাদ: