রবিবার ১০ কার্তিক ১৪২৭, ২৫ অক্টোবর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

বিএনপি এখন নেতৃত্বশূন্য ॥ কর্মীরা বিচ্ছিন্ন

বিএনপি এখন নেতৃত্বশূন্য ॥ কর্মীরা বিচ্ছিন্ন
  • মুহম্মদ শফিকুর রহমান

কয়েকদিন আগে একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না করলে কারাগার থেকে বের হলেন কিভাবে? লেখাপড়া জানেন না নেতৃত্ব দেবেন কি করে?’

অর্থাৎ খালেদা জিয়ার এতদিনের আপোসহীন ভাবমূর্তি (যদিও এটি রাজপথ থেকে উঠে আসেনি, পত্রিকার পাতা থেকে বেরিয়েছে) ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে প্রধান নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা, রাজপথ জমিয়েছে তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অথচ সেদিনের বৈরী মিডিয়া খালেদা জিয়াকেই তুলে ধরত প্রধান নেতা হিসেবে। এমনকি যেদিন জনগণ সচিবালয়ের পতন ঘটাল অল-থ্রো সেদিন রাজপথের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা। আর খালেদা জিয়া তার তখনকার মহাসচিব ওবায়দুর রহমানসহ হোটেল পূর্বাণীতে অবস্থান করছিলেন। আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে সাফল্যের মুহূর্তে তিনি বেরিয়ে এলেন এবং পল্টনে দলীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন যা পরদিনের অধিকাংশ কাগজে সেদিনের প্রধান খবর হয়। এমনি ভূরি ভূরি উদাহরণ আছে ওইসব মিডিয়ার পক্ষপাতের। কিন্তু অন্তিমে বাস্তবে দেশে-বিদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বস্তুত যে দল সরকারও চালাতে পারে না আন্দোলনও করতে পারে না সে দলের কোন ভবিষ্যত থাকে না এটাই বাস্তবতা। এটাই বিএনপি।

একটা সময় ছিল এক শ্রেণীর মানুষ খামাখাই বিএনপির সমর্থন করত। কারণ জানতে চাইলে মহিলারা বলত খালেদা জিয়া ‘কত সুন্দর’ আর পুরুষরা বলত খালেদা জিয়া আপোসহীন নেত্রী এবং ভারতবিরোধী। এই দল ইসলামে বিশ্বাস করে। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। ২০০১ সালের অক্টোবর নির্বাচনে এক কোটি ২৪ লাখ ভুয়া ভোট ব্যবহার করে (আর্মি সহায়তা করে) নির্বাচনের রেজাল্ট নিজের পক্ষে নেয় এবং নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হবার আগে থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর হামলা শুরু করে। তাদের হামলার শিকার হয় প্রধানত হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং মুসলিম সম্প্রদায় তথা হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে নৌকার ভোটার। তাদের পুকুরের মাছ, গোয়ালের গরু, বনের গাছ কেটে নিয়ে যায়, গ্রামীণ বাজারের দোকানদারদের ওপর চাঁদা দাবি করে নইলে ব্যবসা বন্ধ করে রাখে। বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে অনেকটা উল্টো মামলার আসামি হতে হয়। এক পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়। মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে লঙ্গরখানা খুলে কর্মীদের দেখাশোনা করেন। ২০০৬ সালে আবার নির্বাচন এলে খালেদা জিয়ার অনুগত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে নির্বাচন বৈতরণী পার হওয়ার ষড়যন্ত্র করে। এর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল আন্দোলন করে তাদের পতন ঘটায়।

সামান্য একটা সময়ের ঘটনাবলী বিবরণ থেকে এটা কি প্রতীয়মান হয় বিএনপি একটি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দল? হ্যাঁ খালেদা জিয়ার একটা বাড়াবাড়ি আছে কিছুতেই ক্ষমতা ছাড়বেন না এবং এ জন্য প্রয়োজনে মানুষের চোখ উপড়াতে হয় উপড়াবে, হাতের কবজি কাটতে হয় কাটবে। নির্বাচনে যত রকম কারচুপি আছে করবে। সঙ্গে রয়েছে একাত্তরের ঘাতক-দালাল জামায়াত-শিবির আলবদর-রাজাকার বাহিনী ও তাদের সন্তানরা। আসলে এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা মিলিটারি জিয়া যেমন ছিলেন স্বৈরাচার খুনী তেমনি ভুয়া পলিটিশিয়ান ‘আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর দ্যা পলিটিশিয়ানস’ এই ছিল তাঁর আদর্শ এবং এতে করে জিয়া তার স্ত্রীর জন্যই রাজনীতি ডিফিকাল্ট করে গেছেন। ছেলে এবং তার হাওয়া ভবন আরও অনেক গুণ ডিফিকাল্ট করেছেন যার ফলে এখন ভুগছেন।

বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া (চেয়ারপার্সন) এবং তদীয় পুত্র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুজনে দুর্নীতির মামলায় ফেঁসে গিয়ে প্রথমজন সম্প্রতি জেল থেকে ছয় মাসের জন্য ছাড়া পেয়েছেন দ্বিতীয়জন দন্ড মাথায় নিয়ে লন্ডনে পলাতক আছেন। এরপর রয়েছে দুজন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভী। আগে তাদের খুব দেখা যেত খবরের কাগজে। সাম্প্রতিককালে খুব একটা দেখা যায় না। গ্রামের দিকে তো তাদের কোন খানা নেই এখন। দু’-একজন আছেন চায়ের দোকানে বসে সরকার সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলতে থাকে। এটাকে তারা হুইসপার ক্যাম্পেইন হিসেবে নিয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে ছিল ওয়ান ম্যান পার্টির নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না এবং সাইফুল হক এখন সো-কলড ভিপি নূরের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। নূর সাবেক হয়ে এখন রাজনৈতিক দল করছেন। মান্না সাইফুলদের খড়কুটো ধরে বাঁচার একটা সুযোগ এসেছে। বিএনপিও নূরের সঙ্গে যোগ দিতে পারে। তবে নূরের অবস্থাও কেরোসিন ধর্ষকের সহযোগী হিসেবে ফৌজদারি মামলার আসামি। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং সে বিচারের দাবিতে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনশন করে চলেছেন। নূর মেয়েটিকে দুশ্চরিত্রা বলে গ্যাঁড়াকলে আটকা পড়েছেন। একাত্তর টেলিভিশনের বিরুদ্ধে কথা বলায় সাংবাদিক ইউনিয়ন প্রেস বিবৃতি দিয়ে নূরকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্ষমা চাইতে বলেছে। অন্যথায় ইউনিয়ন আরও কড়া পদক্ষেপ নেবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে। তবে তার গায়ে ধর্ষক না হলেও ধর্ষকের সহযোগীর যে সিল পড়েছে এটা নিয়ে রাজনীতি হবে না নূর যে তথাকথিত সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ‘ছাত্র অধিকার পরিষদ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গড়তে যাচ্ছিল আতুড় ঘরেই তার বিনাশ শুরু হয়েছে। নূরসহ তিন নেতা অবাঞ্ছিত। বলবে এটা সরকারী দল করিয়েছে। যাই বলুক ধর্ষক বা ধর্ষকের সহযোগীকে কেউ নেতা মানবে না।

তবে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো কাগজে দেখলাম ধর্ষণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছেন। মানববন্ধনে ওই ছাত্রীর ধর্ষকের বিচার না চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় থেকে চলে যেতে বলেছেন। মামা বাড়ির আবদার আর কি? অথচ শেখ হাসিনাই ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড এই আইন করলেন এবং এই আইনে ইতোমধ্যে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ২০১২ সালে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে গ্যাং-রেপকারী পাঁচজনকে আদালত মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। নূর বলেছেন দেশ নাকি ফুঁসে উঠেছে। কোথায় ফুঁসে উঠল রাজধানীর কোন মানুষ দেখল না, জানল না, নূর আবিষ্কার করল-এই লোক আবার করবে রাজনীতি। ও ভুলে গেছে ডাকসুর ভিপি হলেই সবাই তোফায়েল আহমেদ হয় না। সেটা স্মরণ করিয়ে দিলাম।

আরও কিছু স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি হাইকোর্ট জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর ওই হায়েনার দলও এখন ছারখার বলেই যে যেভাবে পারছে অন্য দলে ঢুকে পড়েছে। তবে ওই হায়েনার প্রথম এবং প্রধান টার্গেট আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন। তাদের ঘুষ দেয়ার ফান্ডের কোন অভাব নেই। মধ্যপ্রাচ্যের কোন কোন মুসলিম দেশ ইসলাম প্রচারের জন্য আমাদের মতো মুসলিম দেশগুলোকে বেছে নেয় এবং আমাদের দেশে ওদের ফেভারিট দল হল জামায়াত-শিবির। এরও একটা অতীত আছে। ১৯৪১ সালে কায়রোতে হাসান আল বান্না নামে এক ভদ্রলোক মুসলিম ব্রাদারহুড নাম দিয়ে একটি দল গঠন করে। এই দলটি বিভিন্ন নামে বিভিন্ন মুসলিম দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে এর নাম জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলী মওদুদী ১৯৪২ সালে মিসর যান এবং হাসান আল বান্নার সঙ্গে দেখা করে ফিরে এসে জামায়াত গঠন করেন। মুসলিম ব্রাদারহুড বর্তমানে তুরস্কে ক্ষমতায় আছে। আর কোন দেশে নেই। কয়েক বছর আগে মিসরেও ক্ষমতায় গিয়েছিল কিন্তু এক বছরের মাথায় এর পতন ঘটায় এবং মুসলিম ব্রাদারহুড বিরোধী পন্থীরা ক্ষমতায় আসেন এবং এখনও শাসন করছেন। কিন্তু কামাল আতাতুর্কের তুরস্কে তারা জেঁকে বসে আছে। তারা সেই সব দেশে ক্ষমতায় থাকুক আমাদের প্রবলেম কি? কিন্তু এরা আমাদের মতো দেশে ইসলাম প্রচারের নামে ওই সব দলকে বস্তায় বস্তায় টাকা দেয় যা দিয়ে ওরা দল, চাকরি, প্রশাসন কিনবার চেষ্টা করে। খালেদা জিয়ার ক্ষমতাকালে তো (২০০১-২০০৬) ক্ষমতার শেয়ার করে মুক্তিযুদ্ধের শহীদানের রক্তরঞ্জিত জাতীয় পতাকা ওড়ায়। তাদের বাড়ি-গাড়িতে জাতীয় পতাকা উড়ত তখন। মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবারের সদস্য সন্তানদের সামনে দিয়ে ওই রাজাকার-আলবদররা জাতীয় পতাকা উড়িয়ে যেত। শহীদ সন্তানের বুকটা তখন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যেত। খালেদা জিয়া নাকি মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী অথচ রাজাকারের সংস্পর্শ ছিল তার কাছে আনন্দদায়ক। খালেদাকে তারা অর্থ দিয়ে ওই পতাকা কিনে দিয়েছিল। অবশ্য জিয়া নিজেই ছিল পাকিপন্থী। মুক্তিযুদ্ধের মাঝেও ষড়যন্ত্র করেছে এবং অন্তিমে মোশতাকের সঙ্গে মিশে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক নিষিদ্ধ জামায়াতকে আবার প্রকাশ্যে রাজনীতিতে নিয়ে আসে।

এসব বিষয়াবলী বিএনপির রাজনীতির দৈন্যদশার কারণ। দ্বিতীয়ত প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা যে উচ্চতায় ধীশক্তি দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন সে তুলনায় খালেদা জিয়া একেবারেই শিশু। লেখাপড়া নেই দল চালাবার যোগ্যতা নেই সরকারে গিয়েও কোন যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেননি। ফলে যা হওয়ার হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। এটাই তাদের নিয়তি। দেশ ও জাতির সঙ্গে বেইমানি করলে এমন পরিণতি বরণ করতে হয়।

ঢাকা-১৬ অক্টোবর ২০২০

লেখক : এমপি

সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেসক্লাব

[email protected]

শীর্ষ সংবাদ:
শহরের সুবিধা গ্রামেই ॥ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রাম প্রকল্প         নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেছে বৃষ্টিও কমছে         বিশ্বব্যাংকের কাছে চার হাজার ২৫০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে         চলে গেলেন প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক         জাল টাকা ও ডলার চক্রের হোতাসহ ৭ জন গ্রেফতার         নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলা সরকারের অগ্রাধিকার         পি কে হালদারকে আটকে ব্যতিব্যস্ত ইমিগ্রেশন         দেশে করোনায় শনাক্তের হার দশ শতাংশের নিচে         বেহাল দশা কাটাতে পারছে না বিএনপি         ইন্টারনেট এ্যাবিউজ ॥ বিপথে যাচ্ছে কিশোররা         রায়হান হত্যায় জড়িত কনস্টেবল হারুন ৫ দিনের রিমান্ডে         দেশে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে না ॥ কৃষিমন্ত্রী         বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে সৌর প্যানেলে ৭০ ভাগ বিল সাশ্রয় হতে পারে         রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘের দৃঢ় ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী         দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১০৯৪         বনানীতে স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত রফিক-উল হক         দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের অবদান অনস্বীকার্য় ॥ রাষ্ট্রপতি         ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক         করোনায় পুলিশের কার্যক্রম প্রশংসনীয় ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         ৩৬০০ কোটি টাকা পাচারকারী পিকে হালদার দেশে ফিরছেন না