ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

রহস্য উন্মোচন

টাকা দিতে দেরি হওয়ায় পাপ্পুকে হত্যা করা হয়

প্রকাশিত: ২৩:১৩, ২৫ জুন ২০২০

টাকা দিতে দেরি হওয়ায় পাপ্পুকে হত্যা করা হয়

গাফফার খান চৌধুরী ॥ দীর্ঘ সময় পর যাত্রাবাড়ীর বহুল আলোচিত স্কুলছাত্র পাপ্পু হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই। টাকার জন্য পাপ্পুকে অপহরণ করা হয়েছিল। মুক্তিপণ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। কিছু টাকা পাওয়ার পর আরও টাকা দাবি করে। সেই টাকা দিতে দেরি হওয়ায় পাপ্পুকে হত্যার পর লাশ মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকার পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। এখনও পাপ্পর লাশ উদ্ধার হয়নি। শেষ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই ওই আসামিকে বরিশাল থেকে গ্রেফতার করা হয়। আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে। আসামি গ্রেফতারের পাঁচ দিন পর মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক লুৎফর রহমান জানান, গত বছর যাত্রাবাড়ী থেকে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র পাপ্প অপহৃত হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় গত বছরের অক্টোবর হত্যা মামলা হয়। ওই মামলায় রাজু নামের এক আসামি গ্রেফতার হয়। রাজুকে কয়েক দফায় রিমান্ডে নেয় পুলিশ। কিছু তথ্য মিললেও পাপ্পু হত্যাকা-ের রহস্য আড়ালেই থেকে যায়। পরে মামলাটি আদালত পিবিআইকে তদন্ত করতে দেয়। ওই তদন্তের ধারাবাহিকতায় রাজুর সহযোগী শাহরিয়ার হোসেন নাদিম নামের এক আসামিকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে বরিশাল থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতার করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে। গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ডে আনা হয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শেষ পর্যন্ত ওই আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে। সে আদালতে হত্যার বর্ণনা দিয়ে আদালতে ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। জবানবন্দী মোতাবেক পাপ্পুকে টাকার জন্য মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে নেয়া হয়। তার পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকাও দাবি করেছিল মুক্তিপণ হিসেবে। কিছু টাকা দিয়েছিল। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তারা পাপ্পুকে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ মাইক্রোবাসে করে নিয়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকার পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়। অদ্যাবধি পাপ্পুর লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আদৌ সম্ভব হবে কিনা তাও অনিশ্চিত। কারণ লাশ পানিতে পচে বা মাছ বা অন্য কোন জলজ প্রাণী খেয়ে ফেলতে পারে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে করোনায় আক্রান্ত বলে জানান। তবে ওই আসামিকে গ্রেফতার করে করোনায় আক্রান্ত হননি। তার এক রুমমেট করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি পরীক্ষা করালে তারও করোনা পজিটিভ আসে। পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারও এমন তথ্যেও সত্যতা নিশ্চিত করে জনকণ্ঠকে বলেন, পিবিআইয়ের কাছে যেসব মামলা আসে, নিঃসন্দেহে ওইসব মামলা খুবই চাঞ্চল্যকর। দীর্ঘ সময় পর কোন চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাকে গ্রেফতার না করে আর উপায় থাকে না। কারণ আসামি আবার নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে পারে। এজন্য বরিশাল থেকে ওই আসামিকে গ্রেফতার করে আনা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে আসামিকে নিয়ে পদে পদে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তিনি আরও অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। প্রয়োজনে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে হলেও আসামিদের গ্রেফতার করা হবে। এমন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর দক্ষিণ বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ শাহাদত হোসেন জনকণ্ঠকে জানান, ওই আসামিকে গ্রেফতার করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে আমরা বলিশাল যাই। সবকিছু মেইনটেইন করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিকে হাজতে রাখা, কোর্টে তোলা, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ, আবার কোর্টে হাজির করে ছিল বিশাল এক প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে রের ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। তাকে কারাগারেও বিশেষভাবে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ওই আসামিকে গ্রেফতার করতে একপ্রকার তুঘলকি কা- ঘটে গেছে। প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যেই পুলিশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা নয় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই মাঠ পর্যায়ে কর্মরত। ইতোমধ্যেই ৩১ পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পুলিশ মহাপরিদর্শক সব ধরনের নিয়ম মেনে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।