৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 

নিত্যপণ্যের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২০
  • আগের মতোই কেনাকাটা

এম শাহজাহান ॥ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চলমান অবস্থার মধ্যেও নিত্যপণ্যের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মুদি দোকান, সুপারশপ, কাঁচাবাজার ও ফার্মেসি থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী ভোক্তারা আগের মতোই কেনাকাটা করতে পারছেন। এছাড়া সীমিত আকারে চালু রাখা হয়েছে- হোটেল-রেস্তরাঁ, ফোন কোম্পানির সার্ভিস সেন্টার, এলপিজি গ্যাস ও সব ধরনের ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য সামগ্রীর শো-রুম ও দোকানগুলো। গত কয়েকদিনে বেড়ে যাওয়া দামে রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপণ্য সামগ্রী। তবে ক্রেতা কম থাকায় শীঘ্রই জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে বাজার মনিটরিং টিমের ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এদিকে, করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আজ বৃহস্পতিবার থেকে দশদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তবে এই সময়ে জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ সব সেবা কার্যক্রম সারাদেশে চালু থাকবে। খাদ্যপণ্যের যাতে কোন সঙ্কট না হয়, সেজন্য কাঁচা বাজার, ধান-চালের আড়ত, কাঁচাবজার ও মুদিপণ্যের দোকানে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলবে। শুক্র ও শনিবার ব্যতীত ছুটির অন্যান্য দিনগুলোতে সীমিত সময়ের জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে। এছাড়া দ্রুত পণ্য খালাসে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক তাদের অফিস চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পণ্যবাহী ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান সারাদেশে চলাচল করতে পারবে। এ কারণে লকডাউনের মধ্যেও বুধবার রাজধানীর কাঁচাবাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিনতে পারছেন ভোক্তারা।

এছাড়া পাইকারি বাজারখ্যাত কাওরান বাজার ও যাত্রাবাড়ী বাজারে সারাদেশ থেকে পণ্যবাহী ট্রাক এসেছে। তবে ঢাকার অনেক মানুষ ছুটির সময় কাটাতে গ্রামে ফিরে গেছেন। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের দিনমজুর, কাজের ভুয়া, হোটেল-রেস্তরাঁর সাধারণ শ্রমিক, রিকশা-সিএনজি চালক, এসএমই কারখানার শ্রমিকসহ, ছোট ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এখন গ্রামে অবস্থান করছেন। আর এ কারণে ঢাকার নিত্য ও ভোগ্যপণ্যের বাজারে ভোক্তাদের চাপ কমে গেছে। এ প্রসঙ্গে কাওরান বাজারের শাক-সবজির পাইকারি বিক্রেতা মোঃ জসিম জনকণ্ঠকে বলেন, সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেলেও কাঁচা বাজার খোলা রাখা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকা আসছে শাক-সবজিবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। তবে ঢাকাবাসীর একটি বড় অংশ গ্রামে ফিরে যাওয়ায় পণ্যের চাহিদা এখন কম। আর এ কারণে পাইকারি ও আড়তদার ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা কিছুটা কমিয়েছেন। তবে পণ্য আনা কিংবা খুচরা পর্যায়ে বিক্রিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। ক্রেতারা বাজারে গেলেই শাক-সবজি কিনতে পারছেন।

এদিকে, খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বাজারে ক্রেতা তেমন নেই। গত কয়েকদিন ধরে বাজারে কেনাকাটার উপচেপড়া ভিড় ছিল ক্রেতাদের। কিন্তু এখন আর ভিড় নেই। আর এ কারণে নতুন করে আর কোন পণ্যের দাম বাড়েনি। চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল ও চিনির মতো পণ্য আগের বেড়ে যাওয়া দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতার চাপ কম থাকায় ইতোমধ্যে দ্’ুএকটি পণ্যের দাম পড়ে গেছে। এ রকমই একটি পণ্য হচ্ছে পেঁয়াজ। গত পাঁচদিন আগে এই পেঁয়াজ হঠাৎ করেই দ্বিগুণ দামে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। আবার সেই পেঁয়াজের দাম এখন পড়ে গেছে। বর্তমান খুচরা পর্যায়ে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৫০ টাকা। এ প্রসঙ্গে কাপ্তান বাজারের মুদিপণ্যের ব্যবসায়ী জামসেদ স্টোরের বিক্রেতা গনি মিয়া জনকণ্ঠকে বলেন, বাজারে ক্রেতা কমে গেছে। তবে জিনিসপত্রের কোন অভাব নেই। কোম্পানিগুলোর সরবরাহও স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদার কারণে বেশিরভাগ মুদি পণ্যের দাম বাড়লেও এখন কমে আসবে। ওই বাজারের চাল বিক্রেতা মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, চালের দাম বাড়েনি, তবে এখনও আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি সরু নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৬০-৬৮, মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা ৫০-৫৬ এবং মোটা স্বর্ণা ও চায়না ইরিখ্যাত চাল মানভেদে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। মাছ, মাংস, ব্রয়লার মুরগির দোকান চালু রাখা হয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া সুপারশপগুলোতে কেনাকাটা করতে পারছেন সাধারণ মানুষ। অনেক ক্রেতা ব্যক্তিগত গাড়িতে এসে সুপারশপ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা করছেন। মগবাজার আগোরা সুপারশপের একজন বিক্রয়কর্মী জনকণ্ঠকে বলেন, লকডাউন ও ছুটিতে তাদের বিক্রি বাড়বে। কারণ এই সময় ভোক্তারা সুপারশপ থেকেই প্রয়োজনীয় সব কেনাকাটা করতে পারেন। এ্যাগোরার পাশাপাশি মীনা বাজারের সুপারশপেও উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতারা মাস্ক, গ্লাভস অন্যান্য উপকরণ গায়ে জড়িয়ে এসব জায়গা থেকে কেনাকাটা করছেন। এছাড়া সুপারশপগুলো নিজেদের উদ্যোগেও বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। সুপারশপে প্রবেশের আগে স্যানিটাইজারসহ গাইডলাইন দেয়া হচ্ছে ক্রেতাদের।

এদিকে, রাজধানীসহ সারাদেশে ফার্মেসিগুলো খোলা রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ ফার্মেসি থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী কেনাকাটা করছেন ভোক্তারা। চাহিদামতো ওষুধ সামগ্রীর সরবরাহ রয়েছে। তবে স্যানিটাইজার, গ্লাভস ও হ্যান্ডওয়াশের সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানিগুলো থেকে যা পাওয়া যাচ্ছে তা আনামাত্র ক্রেতারা কিনে নিচ্ছেন। ফার্মেসি থেকে ইতোমধ্যে ভোক্তারা প্রয়োজনীয় এন্টাসিড, ওমেপ্রাজল, ফেক্সো-১২০, প্যারাসিটামল নাপা, এইচসহ বিভিন্ন ঠা-া-জ্বরের ওষুধ সংগ্রহ করেছেন বলে জানা যায়। তবে এখন আর সেই ভিড় নেই ক্রেতাদের।

এদিকে, জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার নিয়মিত মনিটরিং করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সার্বক্ষণিক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত উইংসটি খোলা রাখা হয়েছে। এছাড়া টিসিবি ভর্তুকিমূল্যে বাজারে পণ্য বিক্রি করছে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীন জনকণ্ঠকে বলেন, দু’একদিনের মধ্যে পণ্যসামগ্রীর দাম কমে আসবে। ইতোমধ্যে ক্রেতারা প্রয়োজনীয় পণ্যের সংগ্রহ করে ফেলেছেন। আর এ কারণে দোকানপাট ও কাঁচা বাজার খোলা থাকলেও ক্রেতাদের ভিড় নেই। এছাড়া সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০২০

২৬/০৩/২০২০ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: