ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

সন্ত্রাসে অর্থ সহায়তা বন্ধে ব্যবস্থা না নিলে কালো তালিকাভুক্তি ॥ এফএটিএফ

পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত: ০৮:৩৭, ২৩ জুন ২০১৯

পাকিস্তানকে কঠোর হুঁশিয়ারি

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবার ইসলামাবাদকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল আন্তর্জাতিক অর্থবিষয়ক তদারকি সংস্থা ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল এ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)। সংস্থাটি পাকিস্তানকে সাফ জানিয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মধ্যে সন্ত্রাসীদের অর্থ সহায়তা বন্ধ না করলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। খবর-এনডিটিভি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন অনলাইনের। পাশাপাশি জাতিসংঘ ঘোষিত সন্ত্রাসী হাফিজ সাইদ ও মাসুদ আজহারসহ অন্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয়ায় ইসলামাবাদকে অভিযুক্ত করেছে এফএটিএফ। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অর্থ সহায়তা বন্ধে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্য, প্রমাণযোগ্য, অপরিবর্তনীয় ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ দেখতে চাই। এফএটিএফ শুক্রবার ইসলামাবাদকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠায়। চিঠিতে পাকিস্তানকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনাকারী, জাতিসংঘের কালোতালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগামী অক্টোবরের মধ্যে এ্যাকশন প্ল্যান তৈরি না করলে ইসলামাবাদকে কালোতালিকাভুক্ত করা হতে পারে। ভারতের একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিক সূত্র জানিয়েছে, তারা আশা করছেন এই নির্দেশনার পর পাকিস্তান এফএটিএফের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করবে। ইসলামাবাদের হাতে এখনও যে সময় রয়েছে সেই সময়ের মধ্যে দেশটি এই কাজ করতে সক্ষম বলেও ইঙ্গিত করেন ভারতের এই কূটনৈতিক সূত্র। শনিবার সকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আমরা মনে করি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান চাইলে সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত অর্থের যোগান বন্ধে বিশ্বাসযোগ্য, প্রমাণযোগ্য, অপরিবর্তনীয় ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। এসব পদক্ষেপের সক্ষমতা দেশটির রয়েছে বলে মনে করে নয়াদিল্লী। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরলান্ডোতে এফএটিএফ বৈঠকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই সতর্কবার্তা প্রেরণের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বলা হয়, পাকিস্তানকে অবশ্যই ২০১৯ সালের অক্টোবরের মধ্যে সন্ত্রাসীদের অর্থসহায়তা বন্ধে একটি কার্যকরী এ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করতে হবে। অন্যথায় এফএটিএফ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাববে। এফএটিএফ যদি মনে করে পাকিস্তানের পদক্ষেপের অগ্রগতি একেবারে অপর্যাপ্ত তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাকিস্তানের জঙ্গী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মাদ প্রধান মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় ভারত প্রতিবেশী পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করতে এফএটিএফকে কয়েক দফা আহ্বান জানায়। সংস্থাটি পাকিস্তানকে চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত সময় বেধে দেয়। এফএটিএফ ইসলামাবাদকে স্পষ্ট জানিয়েছে, সময় আর বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাকিস্তান এ্যাকশন প্ল্যান তৈরিতে ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ২০১৮ সালের জুন মাসে পাকিস্তানকে প্রথম ধূসর তালিকায় (গ্রে-লিস্ট) অন্তর্ভুক্ত করে এফএটিএফ। তখন বলা হয়, পাকিস্তান মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসীদের অর্থের উৎস বন্ধে স্রেফ ব্যর্থ। এসব রুখতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইন দুর্বল। এই আইনের সাহায্যে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসীদের অর্থের উৎস বন্ধে ইসলামাবাদ প্রয়াজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান জানিয়েছে, সরকার এফএটিএফের আল্টিমেটাম পূরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। পাক অর্থ মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এফএটিএফের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে এ্যাকশন প্ল্যান তৈরির জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এফএটিএফের পরবর্তী বৈঠক ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে পাকিস্তানের পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ভারতসহ এফএটিএফের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র জাতিসংঘ ঘোষিত সন্ত্রাসী হাফিজ সাইদ ও মাসুদ আজহারসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নেয়ায় পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে আসছে। পাশাপাশি আরও বলে আসছে যে, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইন আন্তর্জাতিক মানের নয়। আবার পাকিস্তানে মাসুদ আজহারের নামে কোন মামলা না থাকায় এফএটিএফের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র বারবার প্রশ্ন তুলেছে। অবশ্য পাকিস্তান দাবি করেছে যে তারা মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রমাণ হিসেবে ইসলামাবাদ বলেছে, ইতোমধ্যে লস্কর-ই-তৈয়বা, জামাত উদ-দাওয়া, ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন ও জইশ-ই মোহাম্মদের অন্তত সাত শতাধিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করেছে। ইসলামাবাদের সম্পদ জব্দের এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নয় বলে মনে করছে ভারতসহ এফএটিএফের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র। পাকিস্তান যদি দীর্ঘদিন এফএটিএফের ধূসর তালিকাভুক্ত থাকে তাহলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের তালিকায় দেশটির অবস্থানের অবনতি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে চরম অর্থ সঙ্কটে পড়তে পারে পাকিস্তান।