ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯

গোলরক্ষক কেপার কাণ্ড!

প্রকাশিত: ১১:৪৪, ২৭ মার্চ ২০১৯

গোলরক্ষক কেপার কাণ্ড!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে দামী গোলরক্ষক চেলসির কেপা আরিজাবালাগা। চেলসি কোচ মরিজিও সারির নির্দেশ অমান্য করে ইংলিশ লীগ কাপের ফাইনালে তিনি মাঠ থেকে উঠতে অস্বীকৃতি জানান। এটা অনেকটাই বিদ্রোহের শামিল। সেই বিদ্রোহের শাস্তি হিসেবে বড় রকমের জরিমানা গুনেছেন কেপা। স্প্যানিয়ার্ড গোলরক্ষকের এক সপ্তাহের বেতন কেটে রেখেছে চেলসি। রবিবার রাতে লীগ কাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে চেলসিকে ৩-৪ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। টাইব্রেক নিশ্চিত হওয়ার পর মূল গোলরক্ষক উইলি কাবালেরোকে উঠিয়ে কেপাকে মাঠে নামার আদেশ দেন সারি। কিন্তু কোচের আদেশ সরাসরি অমান্য করেন স্প্যানিয়ার্ড গোলরক্ষক। কেপাকে ছেড়ে দেবেন না সারি সেটা মাঠ থেকেই টের পাওয়া গেছে। ডাগআউটেই একচোট তর্কে জড়িয়েছেন দু’জনে। ম্যাচের পরদিনই তাই জরিমানার নোটিস হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে কেপাকে। নিয়মিত গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া রিয়াল মাদ্রিদে চলে যাওয়ার পর এ্যাথলেটিক বিলবাও থেকে ক্লাব রেকর্ড ৭১ মিলিয়ন পাউন্ডে কেপাকে দলে টানে চেলসি। তবে বেশিরভাগ সময়ই ডাগআউটে বসে থাকতে হয় বলেই ক্ষোভ জানিয়ে মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানান ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক। তবে বিদ্রোহের ফল যে কঠিন পরিণাম বয়ে আনতে পারে সেটা বুঝতে পেরে কোচ, সতীর্থ গোলরক্ষক কাবালেরো ও ক্লাবের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন কেপা। তিনি বলেন, যদিও এটা পুরোপুরি ভুল বোঝাবুঝি তারপর সে সময় আমি যে আচরণ করেছি তারজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। শিষ্যের ক্ষমা গ্রহণ করেছেন সারি। এখন থেকে এ বিষয় নিয়ে কথা বলা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন চেলসি কোচ। তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়া দেখানো যে মস্ত বড় ভুল কেপা সেটা বুঝতে পেরেছে। সে আমিসহ সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছে। এখন থেকে অধ্যায় বইয়ের পাতায় বন্ধ। এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পর কোচের নির্দেশ অমান্য করার আরও ঘটনা সামনে চলে এসেছে। তবে এরমধ্যে সবার আগ্রহে উঠে এসেছে লিওনেল মেসির নাম। বার্সিলোনার আর্জেন্টাইন তারকারও নাকি কোচের নির্দেশ অমান্য করে মাঠে থেকে গিয়েছিলেন। পাঁচ বছর আগের ঘটনা। ২০১৪ স্প্যানিশ লা লিগায় এইবারের বিপক্ষে ম্যাচে এমন কা-ই ঘটিয়েছিলেন মেসি। লুইস এনরিকে তখন বার্সিলোনার কোচ। ৭৫ মিনিটে মেসিকে মাঠ থেকে তুলে আনার সিদ্ধান্ত নেন এনরিকে। কিন্তু মেসি কোচের কথা শোনেননি। বুড়ো আঙ্গুল উঁচিয়ে আর্জেন্টাইন কোচকে বোঝান, সব ঠিক আছে। মাঠ ছাড়ার দরকার নেই। বার্সা তখন ম্যাচে ৩-০ গোলে এগিয়ে। আর ঠিক তার আগের মিনিটেই গোল (৭৪ মিনিট) পান মেসি। সবমিলিয়ে দলের সেরা খেলোয়াড়টিকে ১৫ মিনিট বিশ্রাম দিয়ে মুনির এল হাদ্দাদিকে মাঠে নামাতে চেয়েছিলেন কোচ। কিন্তু মেসি কোচের কথা না শুনে থেকে যান মাঠে। হতাশ এনরিকের সারির মতো মেজাজ না হারালেও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মেসির অবাধ্যতা তার পছন্দ হয়নি। মেসির বদলে শেষ পর্যন্ত নেইমারকে তুলে মুনির এল হাদ্দাদিকে মাঠে নামিয়েছিলেন এনরিকে। ম্যাচ শেষে এই ঘটনাকে আর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ দেননি এনরিকে। তবে বুঝিয়ে দেন মেসির ইচ্ছাতেই তিনি নিজের পছন্দমতো খেলোয়াড় বদলি করাতে পারেননি। এনরিকে ওই সময় বলেছিলেন, যা ঘটেছে তা বহু আঙ্গিকেই বর্ণনা করা যায়। এটি নির্ভর করছে কে এটি করেছে তার ওপর। আমি শুধু নিজের কাজটার ব্যাখ্যা করতে পারি।