ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

monarchmart
monarchmart

বিপন্ন প্রজাতি রক্ষার উপায়

প্রকাশিত: ০৭:৩৯, ২৩ নভেম্বর ২০১৮

বিপন্ন প্রজাতি রক্ষার উপায়

গেছো ক্যাঙ্গারু নামে কোন প্রাণীকে কেউ কখনও দেখেছে এমন কথা কারোর কাছে শোনা যায় না। শোনা না গেলেও এমন অদ্ভুদ প্রাণীর অস্তিত্ব কিন্তু সত্যই আছে। মহামন্দা শুরু হবারও আগে সেই ১৯২৮ সালের পর থেকে গত গ্রীষ্মের আগ পর্যন্ত প্রাণীটিকে কেউ দেখেছে বলে জানা যায়নি। জানা গেল এই সেদিন দেখেছেন এক সৌখিন জীববিজ্ঞানী। গেছো ক্যাঙ্গারু এক বিচিত্র প্রাণী। ক্যাঙ্গারুর সঙ্গে কোন মিল নেই। এটা ভালুক ও বাঁদরের মাঝামাঝি গোত্রের এক প্রাণী। এর নাম ওয়ানদিওই ট্রি ক্যাঙ্গারু। এতদিন ধরেই নেয়া হয়েছিল যে প্রাণীটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু গত গ্রীষ্মে সেই জীববিজ্ঞানী পাপুয়া নিউগিনি দিয়ে পথ চলার সময় প্রাণীটির গায়ে আচমকা হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন। এই তথ্য প্রকাশের পর বোঝা গেল যে প্রাকৃতিক জগৎ সম্পর্কে এখনও কত সামান্যই আমরা জানি। আমাদের এই সামান্য জানাটাই প্রাণীজগতকে সংরক্ষণ করার পথে বড় ধরনের বাধা। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নতুন গবেষণায় একটা এলাকার সকল প্রজাতিকে রক্ষার এক নতুন কৌশলকে সমর্থন করা হয়েছে। তাদের মতে সকল প্রজাতি বলতে যেসব প্রজাতিকে আমরা চিনি সেগুলো তো আছেই এমনকি গেছো ক্যাঙ্গারুর মতো সেসব প্রাণীকে আমরা চিনি না বা দেখি না সেগুলোও সংরক্ষণ করা দরকার। আর এদের সংরক্ষণ পরিকল্পনায় মোটামুটিভাবে যে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তাকে বলা হয় ইকোরিজিওন। ইকোরিজিওন পুল ভৌগোলিক দিক দিয়ে অনন্য সব অঞ্চল যেমন মরুভূমি এবং ঘনবর্ষণ বনাঞ্চল যেখানে উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বতন্ত্র ও অদ্ভুত সব জাতের বাস। ইকোরিজিওন সীমান্তগুলো কত ভালভাবে বিভিন্ন প্রজাতির সমাজকে আলাদা করে রাখে তা নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক আছে। সীমান্তগুলো যদি ঘন বর্ষণ বনাঞ্চলের মতো ইকোরিজিওনকে রক্ষা করার মতো শক্তিশালী হয় তাহলে সেই অঞ্চলের মধ্যে বসবাসরত সকল প্রজাতিকে কার্যকরভাবে রক্ষা করা যেতে পারে। সেই সীমান্ত যদি শক্তিশালী না হয়, তাহলে প্রত্যেক প্রজাতিকে আলাদা আলাদা করে রক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন হবে। এ কাজটা ফের বেশি অনিশ্চিত বিশেষ করে যখন আমরা সেখানে কিছু কিছু প্রজাতির অস্তিত্ব আছে কি না তা পর্যন্ত আমরা জানি না। নেচার ইকোলজি এ্যান্ড ইভলিউশন সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন গবেষণায় তথ্য প্রমাণসহ এই বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে ইকোরিজিওনগুলো অর্থপূর্ণভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণী সমাজকে বিভক্ত করে। এতে করে গেছো ক্যাঙ্গারুর মতো স্বল্প পরিচিত প্রজাতিগুলোকে অধিকতর সাধ্যায়ত্ত কার্যকর উপায়ে রক্ষার এক নতুন সংরক্ষণ পথ উন্মোচিত হয়েছে। প্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণের বলিষ্ঠ ও বিজ্ঞানসম্মত কৌশল প্রজাতিগুলো, তাদের আবাসস্থল ও সংখ্যা সম্পর্কিত অনুপঙ্খ তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত বলিষ্ঠ ও বিজ্ঞানসম্মত কৌশলের ওপর নির্ভরশীল, অথচ সারাবিশ্বে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ এবং তাদের আবাসস্থল সম্পর্কিত অনুপুঙ্খ তথ্য যথেষ্ট মাত্রায় অনুপস্থিত। এই শূন্যতা পূরণের উপায় হিসেবে স্ট্যানফোর্ডের গ্র্যাজুয়েট জেফরি স্মিথ, সায়েন্স ডেইলি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রাণবৈচিত্র্যের বিপুল তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এমনকি সারা বিশ্বের ইকোরিজিয়নগুলোতে একত্রে গুচ্ছভাবে থাকা অতিশয় ভ্রাম্যমাণ প্রাণীর তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে। তা থেকে মানুষ ও প্রকৃতির জন্য প্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে কোথায়, কিভাবে বিনিয়োগ করা উচিত সে সম্পর্কে ভাল ধারণা মিলবে। পৃথিবীর প্রাণ রক্ষা ব্যবস্থাগুলোর ভবিষ্যত এই গ্রহের বিশাল অঞ্চলগুলোর ওপর নির্ভর করে যেগুলো সম্পর্কে এখন পর্যন্ত তেমন কোন গবেষণা চালানো হয়নি। অথচ ইকোসিস্টেমগুলোকে অর্থপুর্ণভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখা দরকার। সেই সঙ্গে প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষার সামগ্রিক ও পরিপূর্ণ কৌশল নেয়া হলে আমরা ফসলের পরাগায়ন কীট নিয়ন্ত্রণের প্রাকৃতিক সার্ভিসগুলো আরও ভালভাবে রক্ষা করার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে পারিÑ যে সার্ভিসগুলো উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ, ছত্রাক, ছোট ছোট মেরুদ-ী প্রাণীর বৈচিত্র্যময় ইকোসিস্টেমের দ্বারা সম্ভব হয়ে উঠেছে। সূত্র : সায়েন্স ডেইলি
monarchmart
monarchmart