সোমবার ১১ মাঘ ১৪২৮, ২৪ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

মাটিতেই পা রাখতে চায় ক্রোয়েশিয়া

শাকিল আহমেদ মিরাজ ॥ বিশ বছর পর আবার বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব পেরিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। এমন বাক্যে সবকিছু কেমন সাদামাটা মনে হবে। বিষয়টা মোটেই তেমন নয়। দুই জয়ের পথে নাইজিরিয়া ও সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রোয়েটরা। পরশু ৩-০’তে জয়ের পথে কেবল লিওনেল মেসি নয়, বিশ্বের অর্ধেক ফুটবলপ্রেমীকেই কাঁদিয়েছে তারা। গোটা ক্রোয়েশিয়াজুড়ে এখন আনন্দের বন্যা। তবে উচ্ছ্বাসের স্রোতে গা না ভাসিয়ে মাটিতেই পা রাখার কথা জানিয়েছেন তারকা মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ, ‘খুব বেশি উচ্ছ্বসিত হওয়া যাবে না। অবশ্যই এমন জয় পরবর্তী ম্যাচে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিবে। আমরা দেখিয়েছি যে সুযোগ তৈরি করতে পারি। তবে আমরা আমাদের পা মাটিতেই রাখতে চাই।’

মডরিচ আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দলগত প্রচেষ্টা ছিল এই জয়ের মূল। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে যখন বলের দখল আমাদের কাছে বেশি ছিল। আর প্রথমার্ধে যখন আর্জেন্টিনার কাছে বলের দখল ছিল তখন মেসিকে আমরা রুখে দিয়েছি। তাকে বল পেতে দিইনি। অবশ্য প্রথমার্ধে আমরা দারুণ তিনটি সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচটি উন্মুক্ত হয়ে যায়। আসলে আমরা এমন জয় পাওয়ার যোগ্য।’ বৃহস্পতিবার নিজনি নভগোরোদে গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধে জালের দেখা পান আন্দ্রে রেবিচ, মডরিচ ও ইভান রাকিতিচ। ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই তৃতীয় হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতা হয়েছিলেন ৬ গোল করা ক্রোয়েট ফরোয়ার্ড ডেভর সুকার। এরপর অবশ্য চলতি আসরের আগে আর কখনও বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পৌঁছাতে পারেনি তারা।

এবারে ২০ বছর আগের সাফল্যকে ছাড়াতে চায় ক্রোয়েটরা, ‘আমরা ১৯৯৮ সালের দলটির চেয়ে ভাল করতে পারি, কিন্তু দেখাই যাক। আমি মনে করি আমাদের ঐ দলের চেয়ে ভাল খেলোয়াড় আছে।’ চলতি আসরে এরই মধ্যে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি, পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলসহ বেশ কিছু ফেভারিট দল হোঁচট খেয়েছে। তাই নিজেদের ফেবারিটের তালিকায় রাখছেন না ক্রোয়েট ডিফেন্ডার, ‘কোন সহজ ম্যাচ নেই। এখনও জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্সের মতো দল এখানে আছে। আমরা আন্ডারডগ এবং সেটাই আমাদের সাহায্য করছে।’ তবে এখনই লক্ষ্যটা বড় করছেন না অধিনায়ক মডরিচ, ‘আমি মনে করি আমাদের একটা করে ম্যাচ ধরে এগোনো উচিত, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়া ঠিক হবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটা (আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়) আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। আমরা দারুণ কিছু করার প্রত্যাশা করছি। কিন্তু আমাকে অবশ্যই এটা পুনরাবৃত্তি করতে হবে, এটা কঠিন হবে। আমাদের আরও কঠোর প্রস্তুতি নিতে হবে।’

মডরিচ আরও বলেন, ‘যখন আমরা গ্রুপটা দেখি আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল পরের রাউন্ডে যাওয়া এবং সেটা আমরা করেছি।’ ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটে ক্রোয়েশিয়ার। ঐ আসরেই বাজিমাত করে তারা। সেবার ‘এইচ’ গ্রুপে ৩ ম্যাচের ২টিতে জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। নকআউট পর্বে রোমানিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট কাটে। শেষ আটে আরও বড় চমক দেয় ক্রোয়েশিয়া। জার্মানির মতো দলকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে সেমিফাইনালে নাম লেখায় দলটি। তবে সেমিতে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে দলটি। এরপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারায় তারা। ফলে ঐ আসরে তৃতীয় স্থান পায় ক্রোয়েশিয়া।

অভিষেক বিশ্বকাপে যে দলটি তৃতীয় হলো, সেই ক্রোয়েশিয়া ২০০২ ও ২০০৬ সালে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এরপর ২০১০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব টপকাতে পারেনি। ২০১৪ বিশ্বকাপে আবারও গ্রুপপর্ব থেকে মিশন শেষ করে ক্রোয়েশিয়া। তবে এবার রাশিয়ায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপপর্বের বাধা টপকালো ক্রোয়েশিয়া। যার অর্থ হলো দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নিজেদের প্রথম আসরেই চমক দেখালো ক্রোয়েশিয়া।

শীর্ষ সংবাদ: