শনিবার ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ফের ঝুঁকি নিল ইউএস-বাংলা ফ্লাইট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঢাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া নিশ্চিত জেনেও কক্সবাজার থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয় ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইট। কিন্তু অবতরণ করতে না পেরে ঢাকার আকাশে দেড় ঘণ্টা চক্কর দেয়ায় যখন জ্বালানি শেষ হয়ে আসে, তখন চট্টগ্রাম ফিরে যেতে বাধ্য হন ক্যাপ্টেন। ততক্ষণে ফ্লাইটের যাত্রীদের মধ্যে কান্নাকাটি, চিৎকার, বমি, কাপড় নষ্ট হওয়া, আজান দেয়া ও দোয়া দরুদ পড়ার মতো সব ঘটনাই ঘটেছে। ফের যখন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় রওনা হয়, তখন যাত্রীদের বেশির ভাগই ওই ফ্লাইট বর্জন করেন। এটি ছিল নববর্ষের দিন শনিবার সন্ধ্যায় ইউএস-বাংলার শুভযাত্রার নমুনা। ওই ফ্লাইট থেকে নেমে একটি গণমাধ্যমের সংবাদকর্মী রাকিব তওবা করেছেন, ‘জীবনে আর কোনদিন ইউএস-বাংলার নামও মুখে নিব না।’

রাকিবের মতো মারুফ, হামিদ, আহসান ও সুমিও একই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। কি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম, সেটা বলার মতো নয়। নেপালের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারত এখানে- বললেন মারুফ। আকাশে দেড় ঘণ্টা চক্কর দেয়ায় যখন জ্বালানি ফুরিয়ে আসে, বাচ্চাদের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তখন ক্যাপ্টেনের বোধোদয় হয় এবং ঘোষণা দেন, ‘আমরা এখন ঢাকায় ল্যান্ড করতে না পেরে, চট্টগ্রাম ফিরে যাচ্ছি।

যাত্রীদের অভিযোগ, বিকেল সোয়া চারটায় ঢাকায় ব্যাপক ঝড় বৃষ্টির মতো দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া জেনেও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে আকাশে উড়াল দেয় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বোয়িং ৭৩৭। ঢাকার আকাশে এসে ক্যাপ্টেন ঘোষণা দেন আবহাওয়া খারাপ, কিছুক্ষণ আকাশেই অপেক্ষা করতে হবে। তারপর দেড় ঘণ্টা আকাশেই চক্কর দিতে থাকে। এক পর্যায়ে জ্বালানি ফুরিয়ে আসায় ক্যাপ্টেন ঘোষণা দেন, চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার। সেখানেও প্রচ- ঝাঁকুনির মধ্যে অবতরণের পর যাত্রীদের অধিকাংশই ওই ফ্লাইট বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। এতে জনাপঞ্চাশেক যাত্রী নিয়ে ওই ফ্লাইটটি ঢাকায় এসে অবতরণ করে।

ফ্লাইট থেকে নেমে এক যাত্রী বলেন, ঢাকার আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ এমন খবর কক্সবাজার বিমানবন্দরেই ঘোষণা করা হয়। এতে নভো, রিজেন্ট ও বিমানের কোন ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে উড়াল দিতে রাজি না হলেও ইউএস-বাংলার ক্যাপ্টেন ঝুঁকি নেন। এ সময় ঘোষণা দেয়া হয়, ঢাকায় গিয়ে ২০/২৫ মিনিট অপেক্ষা করে যদি ল্যান্ড না করা যায়, তাহলে ফিরে আসা যাবে। অথচ ঢাকার কাছাকাছি পৌঁছে অবতরণের কোন সঙ্কেত না পেয়ে আকাশে ঘুরতে থাকে। এ সময় যাত্রীরা আতঙ্কে কান্নাকাটি শুরু করেন। অনেকেই বমি করেন। বাচ্চারা কাপড় নষ্ট করে। প্রাণ ভয়ে সবাই দোয়া দরুদ পড়তে থাকেন। একজন আজান দেন।

শীর্ষ সংবাদ: