বৃহস্পতিবার ৯ আশ্বিন ১৪২৭, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

অন্ধকার থেকে উৎসারিত আলো

অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সেই ২০০১ সালের অক্টোবর মাস। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধি মোতাবেক তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এটাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে সে সবের মধ্যে একটি বিশিষ্ট মাইলফলক। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে শেখ হাসিনার সে সময়ের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আজও স্মরণ করার মতো। তার চেয়েও বেশি মনে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছিল নির্বাচনোত্তর বিএনপি-জামায়াত জোটের পাশবিক নির্মমতা। যে নির্যাতন বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর এক বর্বরোচিত আঘাতই শুধু নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও চরম অসম্মান। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর যে পৈশাচিক আক্রমণে বিএনপি-জামায়াত ক্যাডাররা যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাতে সভ্যতা সূর্য প্রায়ই অস্তমিত হওয়ার উপক্রম। হয়েছিলও তাই। সোনালি জীবনের সুবর্ণ সময়ে অনেকের চারপাশ থেকে আলোকের ঝরণাধারা বহমান না হয়ে নিশীথ কালো অন্ধকারে ঢাকা তমশাচ্ছন্ন রজনীতে পরিণত হয়।

তাদেরই একজন পূর্ণিমা রাণী শীল যে কিনা মর্মান্তিক, ক্ষত-বিক্ষত জীবনের যন্ত্রণা নিয়ে শুধু বেঁচেই থাকেনি, অসম সাহসিকতায় নিজেকে গড়ে তুলতেও পিছপা হয়নি। যে সময় মাত্র ১৪ বছর বয়সের পূর্ণিমা উল্লাপাড়া হামিদা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। এত অল্প বয়সেও কাক্সিক্ষত প্রার্থী নির্বাচনে নিজের স্বাধীন মত ব্যক্তই শুধু করেননি সমর্থিত দলের পক্ষে প্রচারণায়ও নেমেছিল। এমনকি ভোটকেন্দ্রেও কিশোরী পূর্ণিমা মহিলা এজেন্টের দায়িত্ব পালন করে। সেখান থেকেই বিরোধী পক্ষের সমস্ত রোষানল গিয়ে পড়ে এই ছোট মেয়েটির ওপর। নির্বাচনে জয়লাভের পরপরই সেই উন্মত্ততায় ক্ষেপে ওঠে হামলাকারীরা। ১০/১২ জনের একটি শক্তিশালী ক্যাডার নিয়ে বিএনপির সশস্ত্র কর্মীরা পূর্ণিমাসহ তার পরিবারের ওপর যে পরিমাণ নির্যাতন করে তা গণমাধ্যমে উঠে আসতেও সময় লাগেনি। বাড়িঘর লুট করা থেকে শুরু করে ভাংচুর এমনকি পূর্ণিমাকে বাইরে মাঠে নিয়ে গিয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি এসব নরপশুরা। পরবর্তীতে স্থানীয় কিছু সহৃদয় মানুষের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে শুধু সংবাদ মাধ্যমের সামনে হাজির করাই নয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং শুশ্রƒষারও ব্যবস্থা করা হয়। যেসব মানবিক মানুষ পরবর্তীতে তার জীবন সংগ্রামের প্রতিটি পর্বে একান্ত সহযোগীর ভূমিকায় ছিলেন। দৃঢ়প্রত্যয়ী এবং আত্মবিশ্বাসী পূর্ণিমা দীপ্ত মনোবলে শিক্ষার কর্মে যেভাবে নিজেকে তৈরি করেছেন। তা শুধু দৃষ্টান্তই নয় অনুকরণীয় হিসেবে বর্তমান প্রজন্মকে প্রেরণাও দিয়ে যাবে। এমন দুঃসহ ঘটনার বোঝা কাঁধে নিয়েও নতুন করে বাঁচার তাগিদে সে কখনও পেছন ফিরে তাকায়নি।

নতুন জনম লাভ করার স্বপ্নে বিভোর হয়ে নিজেকে শুধু শাণিতই করেছে শিক্ষায়, রুচিতে এমনকি মনুষ্যত্বের মাপকাঠিতেও। তার চলমান জীবনই তাকে সে পুরস্কার দিতে বিন্দুমাত্র বিচলিত হয়নি। জোর কদমে সামনে এগিয়ে চলা পূর্ণিমা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অকৃত্রিম সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত ছিল না। সর্বশেষ উপহার তাকে দিলেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। জীবনের টানাপোড়নে বেসামাল না হয়ে লক্ষ্যে স্থির থেকে নিজেকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছে সেখানেই আচ্ছন্ন হয়ে আছে তার সমস্ত প্রাপ্তি। যা অর্জন করে পূর্ণিমা আজ নিজেকে আলোয় আলোয় পূর্ণ করলো। এভাবে নিজের নামের যথার্থতাও প্রমাণ করে দিল। তার নতুন জীবনের এই আলো আরও বিচ্ছুরিত হবে অন্ধকারকে মুছে দেয়ার লক্ষ্যে। সেই প্রত্যয়ী ধারণাই ব্যক্ত করেছে এই লড়াকু নারী। এখন থেকে তাকে বসতে হবে তারানা হালিমের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ভবনে। সেখান থেকে শুরু হবে জীবনের আর এক নতুন পথ-পরিক্রমা। যে পথ-চলায় থাকবে অসহায়, নির্যাতিত আর নিপীড়িত অংশের জন্য তার আঙিনা উন্মুক্ত। তথ্য প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক পুরস্কৃত পূর্ণিমা শুরুতেই এমনটা অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে। ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এই সংগ্রামী নারী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছে যারা অতি দুঃসময়ে তার পাশে থেকেছেনÑ যাদের সাহায্য সহযোগিতা না পেলে কোনভাবেই এতদূর পর্যন্ত নির্বিঘেœ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। সেই অসম্ভবকে যারা সহজভাবে হাতের মুঠোয় এনে দিলেন তাদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দনও।

২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর কালে ঘটে যাওয়া এই অমানবিক নৃশংসতার সুষ্ঠু বিচার এতো সহজও ছিল না। যারা নিপীড়ক, ধর্ষক তারাই বিজয়ী। কারণ তাদের দল তখন ক্ষমতায়। নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হলেও অনেক টালবাহানা করে বিচারিক প্রক্রিয়াকে নানাভাবে বিলম্বিত করা হচ্ছিল। ফলে প্রায় ৯ বছর পর অর্থাৎ ২০১০ সালে সমস্ত আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে মামলার রায় বের হয়। সংশ্লিষ্টদের যাবজ্জীবন কারাদ-ও দেয়া হয়।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম পূর্ণিমাকে একেবারে নিজের কাছে বসানোর যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তা শুধু প্রশংসারই দাবি রাখে না, অত্যাচারিত আর নিপীড়িতদের জন্য এমন অসম সাহসিক উদাহরণ আরও তৈরি হওয়ার নজির যেন ঘটতে থাকে। কারণ অপরাধীরা শাস্তি পেলেও সব ঘটনার রেশ শেষ হয়ে যায় না। ভুক্তভোগীকে সে দায়ভাগ জীবনভর বহন করতে হয়। রক্ষণশীল সমাজ চেতনার স্থবিরতার কারণে অসহায় মানুষের ওপর ঘটে যাওয়া অপরাধকে কোনভাবেই মুছে ফেলতে দেয় না। আর মেয়েদের বেলায় তো সেই ক্ষত চিহ্ন চিরস্থায়ী হয়ে যায়। নিঃসঙ্কোচে, নিঃসংশয়ে তার সমাজে টেকাও অসম্ভব পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে। অকারণে, অপ্রয়োজনে, শুধু দাপট আর জবরদখলের জোরে যাদের জীবন এমন বিপন্ন আর বিপর্যস্ত হয় তারা যেন দুর্বল হয়ে কোনভাবেই থেমে না যায়Ñ সে দৃষ্টান্ত পূর্ণিমা সবারই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। আবারও প্রমাণ করল নিজেকে নিজেই বাঁচানো যায়।

অপরাজিতা প্রতিবেদক

শীর্ষ সংবাদ:
সৌদি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ভারতসহ তিন দেশের নাগরিকদের         অবশেষে জার্মানে আজানের অনুমতি পেলেন মুসলিমরা         করোনায় ভারতের রেল প্রতিমন্ত্রী সুরেশ আঙ্গাদির মৃত্যু         সংসদ ভবন উন্নয়ন কার্যক্রমের উপস্থাপনা প্রত্যক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী         সৌদিতে আকামার মেয়াদ বাড়ল ২৪ দিন         ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত ॥ জেদ্দায় বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে গোপন বৈঠক         দেশে রাস্তা নির্মাণে মাস্টারপ্ল্যান করা হবে ॥ অর্থমন্ত্রী         সঠিক উচ্চতা বজায় রেখেই পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগের সুপারিশ         সহকর্মীকে ধর্ষণ ॥ ভিপি নূরসহ অপরাধীদের গুমর ফাঁস         চট্টগ্রামে পর্যটন ঘিরে ৪ মহাপরিকল্পনা         ১৮.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারবে         দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত বেড়েছে         ’৩০ সালে ছয় মেট্রোরেল রুট, ৬৭ কিমি উড়াল ও ৬১ কিমি পাতাল পথ         করোনার সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবেলায় দেশ প্রস্তুত ॥ স্বাস্থ্যমন্ত্রী         কৃষির যান্ত্রিকীকরণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার         ড্রাইভার মালেককাণ্ডের সঙ্গে ডিজি সংশ্লিষ্ট নন-স্বাস্থ্য শিক্ষা দফতর         রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ভোগান্তি         ২৪ দিন ইকামার মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি সরকার : পররাষ্ট্রমন্ত্রী         দেশব্যাপী পরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণে মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী         সংসদ ভবন উন্নয়ন সম্পর্কিত উপস্থাপনা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী