ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

প্রকাশিত: ০৫:১৩, ২৭ নভেম্বর ২০১৭

নারকীয় হত্যাযজ্ঞ

স্মরণকালের ইতিহাসে অন্যতম বড় জঙ্গী হামলার ঘটনা ঘটেছে মিসরে। দেশটির উত্তর সিনাই প্রদেশের একটি মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর বন্দুক ও বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে তিন শতাধিক নিহত ও ১০৯ জন আহত হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় এ হামলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে আইএস জঙ্গীরা এ হামলা চালিয়েছে। সুফিবাদে বিশ্বাসীরা এ মসজিদে নামাজ আদায় করেন। আর আইএস সুফিবাদবিরোধী। তাদের হামলা প্রমাণ করে, তারা ইসলাম ধর্মবিরোধীও। না হলে নামাজরতদের ওপর এ নারকীয় ও নাশকতামূলক এবং নির্মম হামলা চালানো সম্ভব হতো না। এই ঘটনা আরও স্পষ্ট করে যে, জঙ্গী সন্ত্রাসীরা হত্যাযজ্ঞের আদর্শ নিয়ে চলে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আইএস তাদের হত্যাযজ্ঞের ক্ষেত্রে মুসলমানদেরই বেশি খুন করেছে। এরা ইসলামের নামে আসলে ইসলামবিরোধী তৎপরতায়ই লিপ্ত। ইসলামের সুনাম ক্ষুণ্ন করার কাজটি তারা দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে। মিসরের এই সিনাই অঞ্চলটি মূলত সন্ত্রাসীদের লালন ভূমিতে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে আইএস সংশ্লিষ্ট জঙ্গীগোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। মূলত দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে বিদ্রোহী হামলার ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। দেশটির সেনাবাহিনী ওই এলাকায় জঙ্গীবিরোধী অভিযান চালালেও জঙ্গীদের তৎপরতা থেমে নেই। এসব হামলায় এ পর্যন্ত কয়েক শ’ পুলিশ, সেনা ও বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে। হামলাগুলোর বেশিরভাগই চালিয়েছে সিনাই প্রভিন্স নামে আইএসের একটি সহযোগী গ্রুপ। এই সংগঠনটিই ২০১৫ সালে পর্যটকবাহী রাশিয়ার একটি বিমানে বোমা হামলা চালায়। যাতে ২২৪ জন মারা যায়। আইএস ছাড়াও আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট গ্রুপও সক্রিয়। পার্শ্ববর্তী লিবিয়া থেকে আল কায়েদা মিসরে এসে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে থাকে। মিসরের সেনাবাহিনী প্রায়ই বিভিন্ন স্থানে জঙ্গীদের লড়াইয়ে হারিয়ে দেয়ার কথা জানিয়ে বিবৃতি দেয়। কিন্তু যে মাত্রায় সেখানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটছে, তাতে সেনা অভিযানের সাফল্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। সিনাইয়ের উত্তরাংশে জঙ্গীরা এতদিন মূলত সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন হামলা চালিয়ে আসছিল। এই প্রথম যেখানে মুসলমানদের কোন মসজিদে মুসল্লিরা এভাবে হামলার শিকার হলো। হতাহতের সংখ্যার দিক থেকেও এ হামলা নজিরবিহীন। মুসল্লিরা যখন নামাজ পড়ছিলেন তখন ৪০ জন জঙ্গী ৪টি গাড়িতে করে এসে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং একই সঙ্গে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। নিহতদের মধ্যে অনেকেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। মসজিদের পাশ থেকে ঘটনাস্থলে শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় প্রথমে। এতে ছোটাছুটি করে মসজিদ থেকে বেরুতে চেষ্টা করেন মুসল্লিরা। তাদের লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়। হামলার পর আহতদের যে এ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল সেই এ্যাম্বুলেন্সের দিকেও গুলি চালানো হয়। যারা প্রথমে বোমা বিস্ফোরণে মারা যায়নি, তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। মসজিদের ভেতর-বাইরে মানুষের মাথা মুখ ও পোশাক রক্তের দাগ বীভৎস্যতাকেই প্রকট করেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে এই অঞ্চলে এক চোরাগোপ্তা হামলায় সেনা নিহত হওয়ার পর এই হামলা হলো। গত অক্টোবরে কয়েকটি চেক পয়েন্টে হামলা ও সংঘর্ষে ২৪ জন জঙ্গী এবং ৬ সেনা নিহত হয়েছিল। সন্ত্রাসের লালনভূমিতে পরিণত হওয়া অঞ্চলটিকে জঙ্গীমুক্ত করতে না পারার ব্যর্থতা সেখানকার সরকারের। তাদের উচিত জঙ্গীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মতো ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ। এভাবে ধর্মপ্রাণ মানুষকে হত্যার দৃশ্যপট বিশ্ববাসী অবলোকন করতে চায় না। যেমন চায় না জঙ্গীবাদের আরও উত্থান।