মঙ্গলবার ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৭ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

সংসদ বিলুপ্তি ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানাবে বিএনপি ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপকালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সংসদ বিলুপ্তি ও সেনা মোতায়েনের দাবি জানাবে বিএনপি। শুক্রবার দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অসুস্থ তরিকুল ইসলামকে তার শান্তিনগরের বাসায় দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সেনা মোতায়েনসহ নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে বিএনপি একটি সামগ্রিক প্রস্তাবনা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরবে। এতে সংসদ বিলুপ্তি ও সেনা মোতায়েনের কথাও থাকবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বড় টিম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে যাব এবং সেখানে গিয়ে আমরা লিখিতভাবে আমাদের সব প্রস্তাব তাদের সামনে তুলে ধরব। আমি মনে করি, এ প্রস্তাবনা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। যখন তফসিল ঘোষণা হবে তখন প্রশাসনকে যে ব্যবস্থাগুলো নিতে হবে আমরা সে বিষয়েও বলব। আরপিওর (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) কোথায় সমস্যা আছে সেটা বলব এবং ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম চালু করা উচিত, অবজারভারদের (পর্যবেক্ষক) ক্ষেত্রে কী কী নিয়ম থাকা উচিত এসব বিষয়ে বিস্তারিত আমাদের প্রস্তাবনায় থাকবে।

ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার বিএনপিকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে চায়। এজন্যই বিএনপি নতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। তবে নির্বাচন কমিশনারের কথায় বা এর গঠন প্রক্রিয়ার কারণে আমাদের প্রশ্ন আছে, এ কমিশন কতটুকু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে। তবে তারা চেষ্টা করলে পুরোপুরি না হলেও কিছুটা হলেও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে।

ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার যদি ক্ষমতায় থাকে, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে সরকারপ্রধানের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের কথা বলেছি। এমন একটি অবস্থা তৈরি হয়েছে যে, এখানে একটি পরিবর্তন আসা দরকার। ক্ষমতাসীন দল সংবিধানে যেসব সংশোধন করেছে, ওই সংশোধনীর মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে সেটাও কিন্তু প্রশ্ন। যেমন, সংসদ বিলুপ্ত হবে না। সংসদ বিলুপ্ত না করলে কিভাবে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে? এছাড়া আমাদের এখানে একটি ট্র্যাডিশন হয়ে আসছে, মানুষের মধ্যে একটা সাইকি তৈরি হয়েছে যে, সেনাবাহিনী নিয়োগ না করলে নির্বাচন সুষ্ঠু আশা করা যায় না। এ বিষয়গুলো আমরা বলে আসছি, সংলাপেও বলব।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেব না। আমরা তাদের এ বিষয়ে ধারণা দেব। আমরা এটা বলব যে, সহায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আর রূপরেখাটা আমরা পরে দেব।

সরকারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ ও নানা নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়নের অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি স্পেকুলেট করতে পারি কখনই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আমাকে তো আশাবাদী হতে হবে, আমাকে তো পথ বের করতে হবে। পথ বের করার জন্যে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি- শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাব, যেন আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারি, যেন সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন হয়।

ফখরুল অভিযোগ করেন, সরকার বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনতে চায় না বলেই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সরকার জোর করে বিদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে।’ এটা গোটা জাতির কাছে পরিষ্কার যে, প্রধান বিচারপতিকে তারা জোর করেই বিদেশে পাঠানোর সমস্ত ব্যবস্থা করেছে। সরকার পুরোপুরিভাবে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তরিকুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। এখন আমরাসহ সব রাজনৈতিক দলই এটা দেখতে চায়। বৃহস্পতিবার সিপিবি বলেছে, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে, একই কথা অন্য দলও বলছে। এখন বিষয়টি নির্ভর করছে সরকার এটা কিভাবে নেবে তার ওপর। নির্বাচন কমিশনের সংলাপ চলাকালে বিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের সমালোচনা করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অসুস্থ তরিকুল ইসলামের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। এ সময়ে তরিকুল ইসলামের স্ত্রী অধ্যাপিকা নার্গিস বেগম, ছেলে অনিন্দ ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

শীর্ষ সংবাদ: