বৃহস্পতিবার ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৬ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

শিউলি ঝরানো সকাল

  • পপি দেবী থাপা

শারদীয় পূজার এই সময়ে আমার বন্ধুদের সঙ্গে ছেলেবেলার পাঁচ বন্ধুর গল্প শোনাব। ওরা হলো শিপু, সুমনা, লিটন, দীপ্ত ও রনক। তাদের যেমন ছিল বুদ্ধি তেমনি পড়ালেখা ও সহযোগিতার মনোভাব। পাঁচ বন্ধুর বন্ধুত্বের প্রশংসার চর্চা চলত আশপাশের গ্রামজুড়ে। তাদের কথায় কাজে ছিল মিল। একবার কি হলো জানো, ওরা স্কুলে যাওয়ার পথে দেখতে পেল ওদের বয়সী একটি ছেলে চা এর দোকানে কাজ করছে। এটা দেখে শিপু বলল দেখ, আমাদের একটা কিছু করা উচিত। রনক বলল- কি করব, আর কিভাবেই করব সেটা না ভেবেই কি তাকে কিছু বলা ঠিক? চল্ আজ আমরা স্কুল ছুটির পর একত্রে বসে ঠিক করি, কি করা যায়।

সেদিন স্কুল ছুটির পর শুরু হলো পাঁচজনের সভা। সভা শেষে যে যার বাসায় গেল। কিন্তু বিকেল বেলা ওরা কেউ খেলতে বের হলো না। ওরা তখন গোচ্ছাছিল ওদের কাছে টিফিনখরচ থেকে কত টাকা বাড়তি আছে। পরদিন সকাল বেলা স্কুলে যাওয়ার পথে ওরা ওই ছেলেটার কাছে গিয়ে ওর নাম জানতে চাইল। ছেলেটি বলল ওর নাম ‘লিটন’। সুমনা জিজ্ঞেস করল- ‘তোমার কি পড়তে ইচ্ছে করে না?’ ছেলেটি মুখে কোন উত্তর না দিয়ে শুধুই মাথা নাড়াল। স্কুলের ঘণ্টা বেজে উঠল তাই তখন আর কিছু না বলে ওরা ক্লাসে চলে গেল। ছুটির পর বন্ধুরা মিলে ওদের সকলের জমানো টাকা একত্র করে খাতা-কলম কিনল। তারপর গেল সেই চায়ের দোকানের মালিকের কাছে। তারা দোকানের মালিককে ছোট ছোট সব বুদ্ধি আর জোরালো যুক্তি দিয়ে এক পর্যায়ে বোঝাতে সক্ষম হলো যে, এই বয়সে লিটনের স্কুলে যাওয়া উচিত, তার পড়ালেখা করা উচিত। আর যখন মালিক রাজি হলেন, বন্ধুরা লিটনকে জড়িয়ে ধরে যে কি খুশি!

এবার তার হাতে খাতা-কলম তুলে দিয়ে সেদিনের মতো তারা বাসায় গেল। পরদিন স্কুলে এসে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলল। শিক্ষকরাও তাদের বন্ধুদের উদ্যোগে খুশি হলেন, প্রশংসা করলেন। শিক্ষকরা তাঁদের স্কুলে লিটনকে ভর্তি করার জন্য রাজি হলেন। লিটন স্কুল থেকে পড়ার জন্য বই পেল আর পড়ালেখা বোঝার জন্য বন্ধুরা তাকে সাহায্য করল। সেই থেকে লিটন হয়ে গেল তাদের আরেক বন্ধু। তারপর থেকে লিটনের তাদের একসঙ্গে পড়ালেখা, খেলাধুলা।

একবার দুর্গাপূজায়, ঠিক করল বন্ধুরা মিলে মেলায় যাবে, পূজাম-বে গিয়ে পূজা দেখবে। ওরা সকলে মিলে দীপ্তের বাড়িতে গেল। ওদের ওখানে মন্দিরে পূজা হয়। বন্ধুদের একত্রে দেখতে পেয়ে দীপ্তের বাবা-মা খুশি হলেন। বন্ধুরা সবাই মিলে দীপ্তদের বাড়িতে গিয়ে অনেক মজা করল। নাড়–, সন্দেশ, মা-া, মিঠাই, মোয়া, লুচি, খই, মুড়ি, মুড়কি, ক্ষির আরও কত রকমের খাবার খেল। শিপু বললÑ আমি সন্দেশ খেতে খুব পছন্দ করি। আর মাসিমার বানানো সন্দেশ খেতে আরও বেশি মজা। দীপ্ত শিপুকে বললÑ এবার ঈদের সময় তোদের বাড়িতে খালামণি যে সেমাই জর্দা রেঁধেছিল তার স্বাদ আমি এখনও ভুলতে পারিনি। আর সুমনার বাড়িতে আমরা কত মজা করেছিলাম, খালাম্মার হাতের বিরিয়ানির স্বাদই আলাদা। এত আনন্দ হাসি, গল্পের মাঝেও ওদের মনটা খারাপ ছিল। কেননা লিটনের তখন জ্বর হয়েছিল। দীপ্তের মা লিটনের জ্বরের কথা শুনে খুব চিন্তিত হলেন। তিনি বললেন ‘আমি লিটনের জন্য কিছু খাবার তৈরি করেছি তোমরা ওর জন্য নিয়ে যেও’।

বন্ধুরা মিলে ঠিক করল পূজার মেলায় যাওয়ার আগে লিটনের বাসায় ওকে দেখতে যাবে। যেমন কথা তেমন কাজ। লিটনের বাসায় গিয়ে দেখে, ওর অনেক জ্বর। কিন্তু ওর মা ডাক্তার দেখালেও ওনার কাছে টাকা না থাকায় ওষুধ কিনতে পারেননি। পূজার মেলায় গিয়ে খেলনা কেনার জন্য যে টাকা ওদের বাবা-মা ওদের দিয়েছিল তা একত্র করে লিটনের জন্য ওষুধ কিনল। আর দীপ্তের মায়ের দেয়া খাবার লিটনকে খেতে দিল। বন্ধুর মিলে লিটনকে বলল ‘চিন্তা করিস না। এই ওষুধ খেলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাবি। আমরা সবাই মিলে আবার একত্রে স্কুলে যাব, খেলাধুলা করব। রনক বলল পূজা দেখতে যেতে পারিসনি তাই মন খারাপ করিস না। সামনেই তো বড়দিন। ডিসেম্বর মাস এলো এলো বলে। আমরা সবাই মিলে একত্রে চার্চে যাব। ফাদারের কাছ থেকে গিফট নিব। সান্টার সঙ্গে মজা করব অনেক অনেক চকোলেট পাব, কেক খাব, খুব মজা হবে। এবার তাড়াতাড়ি ওষুধ খেয়ে সুস্থ হও।

এভাবেই তাদের বন্ধুত্ব দিনের পর দিন মজবুত হতে থাকল। সুখে-দুখে আনন্দ বেদনায়, উৎসবে একে অপরের সাথী হলো।

শীর্ষ সংবাদ:
ঢাকা টেস্টে লিড পেয়েছে শ্রীলঙ্কা         ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ         আজ সারা দেশে বৃষ্টি হতে পারে         বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ভিত্তি রচনা করেন বঙ্গবন্ধু         খিলগাঁওয়ে গাড়ির ধাক্কায় তরুণী নিহত         সিরাজগঞ্জে ট্রাক-লেগুনার সংঘর্ষে ৫ কৃষি শ্রমিক নিহত         রেকর্ড দামে ১৭ পণ্য ॥ নাভিশ্বাস নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের         জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশকে প্রতিশ্রুত অর্থ দিন         দিনে ফল-সবজি বিক্রেতা, রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাত         ইভিএমকে চমৎকার মেশিন বললেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা         দুই মামলার মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার         চতুর্থ দিনে নাটকীয়তার অপেক্ষা মিরপুরে         পরিবেশ রক্ষা করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে         মধ্য জ্যৈষ্ঠেই এবার দেশে ঢুকবে বর্ষার বাতাস         সততা ও দক্ষতার মূল্যায়ন, অসৎদের শাস্তির ব্যবস্থা         সিলেটে বন্যার উন্নতি ॥ এখন প্রধান সমস্যা ময়লা আবর্জনা         গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার আদায়ে সবাই জেগে উঠুন         টেক্সাসে স্কুলে বন্দুকধারীর গুলি, ১৯ শিশুসহ নিহত ২১         অসাম্প্রদায়িক স্বদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নজরুলজয়ন্তী উদ্যাপিত         শহর ছাপিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়াবে সংস্কৃতির আলো