শনিবার ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২১ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

হাওড়বাসীর সুখ-দুঃখ

  • সালাম মশরুর

॥ এক ॥

বোরো ফসলকে ঘিরেই হাওড়বাসীর সুখ-দুঃখ। ফসল ঘরে তুলে নিলে সুখ আর না হলে দুঃখের অনলে পুড়তে হয় এক বছর। বৃহত্তর হাওড় অঞ্চলের সম্পদ ধান মাছ ছাড়াও রয়েছে প্রকৃতির অপরূপ হাতছানি। বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহের উৎস এই হাওড় এলাকা ভ্রমণপিপাসুদের মনের চাহিদা পূরণ করে থাকে। বৃহত্তম হাওড় হাকালুকি, টাঙ্গুয়াসহ অন্যান্য হাওড় এলাকা বর্ষা কিংবা শুষ্ক মৌসুমে ভিন্নরূপে পর্যটকদের কাছে আবির্ভূত হয়। কিন্তু অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় এই ক্ষেত্রটি আধারেই পড়ে রয়েছে। হাওড় অঞ্চলের মানুষের কাছে ধান ও মাছ হচ্ছে বেঁচে থাকার প্রধান ও একমাত্র সম্বল। হাওড়বাসীর সেই সুখ-দুঃখের কাহিনীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ফসলরক্ষা বাঁধ। হাওড়রক্ষা বাঁধের কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অন্ত নেই। ভাটি অঞ্চলে হাওড়রক্ষা বাঁধের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ হচ্ছে একশ্রেণীর লোকের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ। ৪ দশকে হাওড় রক্ষার নামে হাজার কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এখানে লুটপাট হয়েছে অর্ধেকের বেশি অর্থ। বোরো ফসলকে উপলক্ষ করে তৈরি হয় হাওড়বাসীর আগামীদিনের পথচলা। আচার-অনুষ্ঠান, বিয়ে, বাড়িঘরের সংস্কার কাজসহ নানান কর্ম পরিকল্পনার সঙ্গে এই ফসল প্রাপ্তির সম্পর্ক রয়েছে।

প্রতিবছর হাওড়রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও প্রতিবছর বানের পানিতে ভাটি অঞ্চলের ফসলহানির সংবাদ সমান্তরালভাবে চলছে। ফসলরক্ষা বাঁধের নামে টাকা লুটপাটের কাহিনী হাওড় এলাকায় সর্বজনস্বীকৃত। এই সমস্যা সরকারের ওপর মহলও জানে। কিন্তু এই রাহুর গলা টিপে ধরার কাজে দায়িত্বশীলরা কোনদিন এগিয়ে আসেনি। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে যথাযথ তদারকির অভাবে এই খাতে দুর্নীতির মাত্রা লাগাম ছাড়িয়ে গেছে। বছরের পর বছর চলছে দুর্নীতির বাঁধবিহীন বাঁধ নির্মাণের কাজ। আর বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে প্রতিবছরই কমবেশি ঘটছে ফসলহানি। কিন্তু আকারে ব্যাপক না হওয়ায় কৃষকের প্রাণ রক্ষা হয়ে যায়। এ বছর অকালবন্যায় সর্বস্ব হারিয়ে যাওয়ায় সরকারসহ দেশবাসীর নজরে এসেছে হাওড়রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে তেলেসমাতি খেলা। প্রতিবছর হাওড় রক্ষার জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়ে থাকে। যথাসময়ে রক্ষাবাঁধের কাজ শুরু করা হলে বানের হাত থেকে ফসলকে রক্ষা করা সম্ভব হতো। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যে নিয়মে রক্ষাবাঁধের কাজ শুরু করা হয়, সেখানেই হচ্ছে দুর্নীতির সূচনা। টেন্ডার কাজ সম্পন্ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যখন কাজ শুরু করে তখন বর্ষা মৌসুম এসে যায়। কাজ চলে মন্থর গতিতে, এরই মাঝে বানের জল আছড়ে পড়ে হাওড়ে। কাজ শেষ না হলেও নথিপত্রে সম্পন্ন হয়ে যায়। হাওড়রক্ষা বাঁধের কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বানের জলে ভেসে গিয়ে কাজের আলামত নষ্ট হয়ে যায়। আর এ কারণে কতটুকু কাজ হয়েছে, কতটুকু বিনষ্ট হয়েছে সে হিসাব নিয়ে খুব একটা বেগ হতে হয় না সংশ্লিষ্টদের। অবলীলায় বাঁধ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে সরকারের অর্থ সাঙ্গ করা হয়। বর্ষা মৌসুম আসার আগে হাওড়রক্ষা বাঁধের কাজ সম্পন্ন না করে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে কাজ শুরু করার কারণ খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওপর হাওড়রক্ষা বাঁধের দায়িত্ব রয়েছে। এজন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে। হাওড়রক্ষা বাঁধ দিলেই যে অকালবন্যা বা বন্যা ঠেকানো যাবে, তাও ঠিক নয়। অতিবৃষ্টির দরুন বন্যা হতে পারে। তবে সময়মতো হাওড়রক্ষা বাঁধ বসালে দ্রুত এত বড় আকারের বন্যা হতো না। তাতে অন্তত ৫০% ধান সংগ্রহ করা যেত। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা যেত। পাউবোর ওপর দায়িত্বে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সুনামগঞ্জ জেলার ৪২টি হাওড়ের ফসলরক্ষা বাঁধের জন্য ৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের বৃহৎ ৩৭টি হাওড়সহ মোট ৪২টি হাওড়ে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২২৫টি পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) ও ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৬টি প্যাকেজে ঠিকাদার দিয়ে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে। কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, পিআইসির কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ঠিকাদারের কাজ ৩১ মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পিআইসির ও ঠিকাদারের কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় হাওড়গুলোর বাঁধ ভেঙ্গে বোরো ধান এভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে। এ জেলার ১১টি উপজেলার ৪৬টি হাওড়ে আবাদী জমির পরিমাণ ৩৭৯২১৬ হেক্টর। এর মধ্যে ২৭৬৪৪৭ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়। তার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজারের অধিক হেক্টর জমিতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। বাকি জমিতে অন্যান্য ফসল। ৪৬টি হাওরের বাঁধ রক্ষায় ২২৫টি পিআইসি এবং ৪৮টি প্যাকেজ প্রোগ্রামের আওতায় ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ২৩০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও মাটি ভরাটের কাজ হাতে নেয়া হয়। উৎপাদিত ধানের মধ্যে রয়েছে-হাইব্রিড, স্থানীয় ও বাকি জমিতে উফশী আমন জাতীয় ধান। এসব জমিতে প্রতিবছর ৯ লাখ মেঃ টনের অধিক ফসল উৎপন্ন হয়। যার মূল্য ১৫শ’ কোটি টাকার বেশি। জেলার ২৫ লক্ষাধিক জনসাধারণের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ ঐ সব হাওড়ে চাষাবাদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে তৈরি হাওড়রক্ষা বাঁধগুলো সঠিকভাবে সঠিক সময়ে নির্মাণ না হওয়ায় বেশিরভাগ বালির বাঁধ ভেঙ্গে সমস্ত ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এই ফসল ফলাতে কৃষকরা এনজিও, ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই জেলার ৪৬টি হাওড়ের বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করার সরকারী নির্দেশ থাকলেও ৪০ভাগ কাজও শেষ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার ও পিআইসিগণ নিজেদের খেয়ালখুশিমতো বাঁধের ওপর থাকা গাছপালা কেটে পরিষ্কার না করে, বাঁধের দুই পাশ থেকে মাটি উত্তোলন করে কোন রকম দায়সারাভাবে বাঁধ নির্মাণ করে। নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে মাটি এনে, বস্তায় মাটি ভরে, বাঁশ দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ দেয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে সে নিয়মের তোয়াক্কা করেনি কেউ। অনেক হাওড়পারে বাঁধ নির্মাণ না করে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তড়িঘড়ি করে নামমাত্র মাটি দিয়ে সংশ্লিষ্টরা কাজ সেরে নেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনের বিরুদ্ধে হাওড়রক্ষা বাঁধের কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ স্থানীয় কয়েক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে হাওড়ের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হাওড় রক্ষা বাঁধের দুর্নীতির চিত্র সাধারণ কৃষকের কাছেও এতটা খোলাসা হয়েছে যে তারা এর প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসেন। তারা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচী গ্রহণ করেন। গত ১৩ এপ্রিল বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ারের সামনে ‘হাওড় বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আন্দোলনের কর্মীরা সমাবেশ করে। পরে তারা মিছিল নিয়ে পাউবো অফিস ঘেরাও করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একসময় এক ব্যক্তিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সাজিয়ে প্রতীকী ঝাড়ু পেটা করেন কৃষকরা। হাওড় রক্ষা বাঁধ নিয়ে দুর্নীতির কারণে মানুষ ক্ষুব্ধ। বছরের পর বছর একই ধারার দুর্নীতি মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এখানে কর্মকর্তারা এসে দু-চার বছর চাকরি করলেই নিজেরা বড়লোক হয়ে ফিরে যান। সমান ভাগে বিত্তশালী হতে সময় লাগে না ঠিকাদারসহ স্থানীয় সুবিধাভোগীদের। হাওড়ের দুর্দশার চিত্র দেখার যেন কেউ নেই। বিশাল সম্পদের এই ভা-ার অবহেলায় পড়ে জনসাধারণের আশীর্বাদের পরিবর্তে বিভিন্ন সময় অভিশাপে পরিণত হচ্ছে।

সিলেট শহর থেকে প্রায় ৫০ কিঃমিঃ দূরে তামাবিল সীমান্ত ঘেঁষে ডাউকি ফল্ট। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন তৎকালীন ভারতের অসম প্রদেশের সিলেট জেলায় সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেল সেই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৮.১। সরকারী হিসাবমতে সে ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা ১৫৪২ হলেও বেসরকারী হিসাবে ছিল কয়েকগুণ বেশি। তৎকালীন সিলেট জেলার ডাউকি ফল্টই ছিল সেই ভূমিকম্পের উৎসস্থল। প্রাবল্যের তুলনায় ডাউকি ফল্টের সেই ভূূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা কম হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল বিপুল। সুদূর কলকাতা ও দিল্লী এমনকি ভুটান ও বর্মা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এর ক্ষয়ক্ষতি। ভারতের বর্তমান মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং সেই ভূমিকম্পের ফলে আরও ৩০ ফুট উচ্চতায় চলে যায়। ভূমিকম্পের পূর্বে খাসিয়া, জৈয়ন্তিয়া ও গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সিলেট ছিল পূর্ববাংলা থেকে তুলনামূলক উঁচু এলাকা। ১৮৯৭ সালের সেই ভূমিকম্পে সিলেট অঞ্চলের ভূ-আকৃতিতে পরিবর্তন দেখা দেয়। মাটি দেবে গিয়ে সৃষ্টি হয় বড় বড় হাওড় ও বিলের। বদলে যায় সবকটি নদীর গতিপথ। উজানের পাহাড়ী ঢলের শিকার হয় এই অঞ্চলের বিস্তীর্র্ণ এলাকা। তখন থেকেই বন্যাপ্রবণ এলাকায় পরিণত হয় বর্তমান সিলেট বিভাগ। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অশ্বখুরাকৃতি বা বাটির মতো একটি সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলকে ভাটি অঞ্চল বা হাওড় অঞ্চল হিসেবে চেনা হয়। প্রকৌশলী এনামুল হকের মতে, ব্রহ্মপুত্র নদ তার প্রবাহপথ ১৭৮৭ সালের বন্যা ও ভূমিকম্পের পর মধুপুর গড়ের পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে পরিবর্তন করলে পলিমাটিতে ভরাট হওয়ার অভাবে এ অঞ্চল নিচু থেকে যায়। তাছাড়া মেঘালয় ও বাংলাদেশের সীমান্ত বরাবর সংঘটিত ডাউকি চ্যুতির কারণে অতি প্রাচীনকালে এলাকাটি ৩ থেকে ১০ মিটার বসে যায়। ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিলের একটি ভূমিকম্পের বিবরণে বলা হয় যে, সেই ভূমিকম্পে ২০০ মানুষ মারা যায় এবং চট্টগ্রামের ১৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়ে যায়। ভূমিকম্পটি মিয়ানমারের ব্যাপক পরিবর্তন করে এবং তৎকালে বেঙ্গলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ৮.৮ মাত্রার সেই ভূমিকম্পটির পরে সুনামিও আঘাত হানে। সেই ভূমিকম্পেই মধুপুরের গড় এবং হাওড় এলাকার জন্ম হয়। এর পরের ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র এবং তিস্তা তার গতিপথ বদলায়। ১৮৯১ সালের ভূমিকম্পে খাসিয়া পাহাড়ের ৪০ হাজার বর্গমাইল এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই এলাকাটি দেবে গিয়েই মধুপুরের গড় সৃষ্টি হয়। গারো ও খাসিয়া পাহাড়ের অববাহিকায় ছিল বলে সেই অঞ্চলটি অনাবাদী বনাঞ্চল ছিল। হাওড়ের অধিবাসীরা জানান, ১৯৩৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ভৈরবে মেঘনা নদীর ওপর রেলসেতু উদ্বোধন হওয়ার পর হাওড় এলাকায় বন্যায় বিপুল পরিমাণ পানি জমতে থাকে। এর আগে বর্ষাকালেও ওই অঞ্চলে তেমন প্লাবন হতো না। তারা মনে করেন ভৈরব সেতু নির্মাণের জন্য মেঘনার পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং সেতুটির জন্য উজানের পানি নামার পথে বাধাগ্রস্ত হয়। যদি ১৭৬২ সালকে হাওড় এলাকার জন্ম সময় হিসেবে গণ্য করা হয় তবে এই এলাকাটির বর্তমান রূপের বয়স আড়াই শ’ বছর অতিক্রম করেছে। খুব সঙ্গত কারণেই এই এলাকার আবাদী জনবসতিকে এর চাইতে প্রাচীন মনে করার কোন কারণ নেই। তবে হাওড় হিসেবে জন্ম নেয়ার আগে সেখানে বসতি থেকে থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। পুরো দেশের আর কোন অঞ্চলের সঙ্গে এর ভৌগোলিক সমতা নেই। তবে বাংলাদেশের এই অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকার বাইরেও দেশজুড়েই নানা ধরনের বিল, হাওড় বা জলাভূমি রয়েছে। দেশের যে এলাকাটিকে হাওড় বলে চেনা হয় সেটি সাতটি জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক উপজেলার পুরো বা আংশিক অঞ্চল নিয়েই গড়ে উঠেছে। চলবে...

লেখক : সাংবাদিক

শীর্ষ সংবাদ: