ঢাকা, বাংলাদেশ   মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১৯ আশ্বিন ১৪২৯

কেশবপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় কৃষকসহ আহত ১৫

প্রকাশিত: ২১:০৬, ৩১ মার্চ ২০১৭

কেশবপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় কৃষকসহ আহত ১৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর ॥ কেশবপুরের প্রশাসনের বন্ধ করে দেয়া অবৈধ ইট ভাঁটির পক্ষের লোকজন গ্রামবাসি কৃষকদের ওপর হামলা করে এলোপাতাড়ি পিটিয়েছে। প্রশাসনের বেঁধে দেয়া ১৫ দিনের ভেতর ভাঁটি স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার সময় শেষ হবার পরও গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা কৃষি অফিসার মালিকের আবেদনে ওই ইট ভাঁটি তদন্ত করতে গেলে মালিক পক্ষ কৃষকদের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় দশজন কৃষকসহ উভয় পক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা এলাকাবাসি জানান, চলতি বছর জানুয়ারি মাসে উপজেলার কাস্তা-বারুইহাটি চৌরাস্তা মোড়ে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ৩ ফসলী ও ফলজ বৃক্ষের জমি গ্রাস করে সিদ্দিকুর রহমান রোমান ব্রিকস নামের একটি ইট ভাঁটির নির্মান কাজ শুরু করেন। রাস্তাঘাট, পরিবেশের বিপর্যয়সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কায় প্রথম থেকেই গ্রামবাসি কৃষকরা ওই স্থানে ইটভাঁটি স্থাপনের বিরুদ্ধে মানব বন্ধনসহ মিছিল-সমাবেশ করে আসছেন। ইটভাঁটি বন্ধের জন্য এলাকার দেড়শতাধিক কৃষকের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ কেশবপুরের সাংসদ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের করেন। দৈনিক জনকণ্ঠসহ ফসলী জমিতে ইটভাঁটি নির্মানে খবর বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় প্রতিকায় প্রকাশিত হয়। সেকারনে গত ৭ মার্চ জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কবীর হোসেন এক ভ্রাম্যমান আদলতের মাধ্যমে অনুমতিহীন রোমান ব্রিক্সসহ আরও ৫টি অবৈধ ইটভাঁটি বন্ধ করে দেন। কিন্তু রোমান ব্রিক্সের মালিক ওই স্থানে ইটভাঁটি করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করতে থাকেন। এলাকাবাসি গত ১০ মার্চ কাস্তা বাজারে এক জনসভায় উপস্থিত জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর ইসমাত আরা সাদেকের কাছে আবারও লিখিতভাবে ইটভাঁটি বন্ধ করার দাবি জানান। ওই জনসভায় প্রশাসন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মালিককে ইটভাঁটি সরিয়ে নিতে বলেন। সকল নির্দেশ উপেক্ষা করে ইটভাঁটি না সরিয়ে মালিক সিদ্দিকুর রহমান ক্ষমতার দাপটে উপজেলা কৃষি অফিসারের নিকট এক ফসলি জমিতে ইটভাঁটি নির্মানের অনুমতি প্রদানের জন্য আবেদন করেন। কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার একটু আগে রোমান ব্রিক্স তদন্ত করতে যান। এলাকাবাসি এ সময় তাদের দায়ের করা অভিযোগের কাগজপত্র কৃষি অফিসারের নিকট দেয়ার সাথে সাথে মালিক পক্ষের লোকজন এলাকার কৃষকদের ওপর হামলা করে মারপিট শুরু করে। এতে ১৫ জন আহত হয় । কেশবপুর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম জানান, মারপিটে আহতরা হাসপাতালে আছে। কোন পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।