শুক্রবার ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা
সর্বশেষ

ফিদেল ক্যাস্ট্রো ও তার অর্থনৈতিক সংগ্রাম

  • আকিল জামান ইনু

৮ জানুয়ারি ১৯৫৯ সালে যেদিন বিজয়ডংকা বাজিয়ে ফিদেল তার সহযোগীদের নিয়ে হাভানায় প্রবেশ করেন তখনও তার রাজনৈতিক পথটি পরিষ্কার ছিল না বিশ্বের সামনে। তার লক্ষ্য ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ সমর্থিত ফুলজেন্সি ব্যাটিস্টা সরকার উৎখাত করে স্ব-জাতিকে তার নিপীড়ন থেকে রক্ষা করা। স্বদেশের সম্পদের ওপর নাগরিকের অধিকার কায়েম ও তাদের কল্যাণ। তখনও তিনি কমিনিউনিজমকে রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেননি। বরং সহযোদ্ধাদের মধ্যে ভাই রাউল, চে গুয়েভারো ছিলেন সমাজতন্ত্রের অনুসারী। সহযোদ্ধাদের প্রভাব তার চাইতে বেশি মার্কিন সাম্র্রাজ্যবাদ বিরোধিতা তাকে বাধ্য করেছে তৎকালীন দ্বিমেরু বিশ্বে সমাজতন্ত্রকে বেছে নিতে। ইতিহাস সাক্ষী। মার্কিন সাম্র্রাজ্যবাদ বিরোধিতা যে দুজন মহান রাষ্ট্রনায়ক উপহার দিয়েছে বিশ্বকে, তাদের একজন হো চি মিন আর অপর নামটি-ফিদেল ক্যাস্ট্রো।

ইতিহাস আরও সাক্ষ্য দেয় বিজয়ের সেই দিনটিতে ফিদেল হাভানার কেন্দ্রে ১০ হাজার জনতার সামনে দীর্ঘ সময় ধরে যে অনলবর্ষী বক্তব্য রাখেন, সেই জনতারও সঠিক ধারণা ছিল না এই দীর্ঘদেহী যুবক তার জাতিকে ঠিক কি উপহার দিতে যাচ্ছেন। যদিও তারা তড়িতাহতের মতোই চিৎকার করছিলেন ফিদেল-ফিদেল। ক্যাস্ট্রো বিশ্বাস করতেন তিনি তার জাতির উদ্ধার কর্তা। তিনি জানতেন অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া তার নেতৃত্ব ব্যর্থ হতে বাধ্য।তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নিজ জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সমান দৃঢ়তায়। সাম্রাজ্যবাদ নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় তার অর্জনকে খাটো করা হয়েছে, কালিমা লেপন করা হয়েছে তার চরিত্রে। কিন্তু অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে তার শাসনামল ও তারা ছায়াধীন রাউলের সময়ে কিউবায় নাগরিকের জন্য রাষ্ট্র যা নিশ্চিত করেছে সেই চিত্রটি এমন- কিউবার প্রতিটি নাগরিক আজ মাত্র ২ ডলারের কমে রাষ্ট্র থেকে প্রায় প্রতি মাসে ১০ কেজি চাল, ৬ কেজি সাদা চিনি, ২ কেজি লাল চিনি, ২৫০ মি. লি তেল, এক ডজন ডিম, ১ প্যাকেট কফি, ৬ কেজি মাংস। ১টি করে বড় রুটি, গর্ভবতী নারী ও ৭ বছরের নিচের শিশুদের জন্য প্রতিদিন ১ বোতল দুধ। এছাড়াও প্রয়োজনে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা।

শিক্ষানীতিতে তার আর্থিক সমর্থন আজ প্রতিটি কিউবানকে দিচ্ছে প্রাথমিক থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সরকারী অর্থে শিক্ষা গ্রহণের নিশ্চয়তা। নাগরিক চিকিৎসা সেবার আর্থিক দায়িত্ব আজ রাষ্ট্রের। যেখানে অকল্পনীয় হলেও প্রতি ১৩০ জনে একজন ডাক্তার। শিশু অপুষ্টির হার শূন্য। তার আর্থিক নীতিমালা প্রতিটি নাগরিককে দিয়েছে মাথার ওপর ছাদের রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তা। পৃথিবীর একমাত্র দেশ কিউবা যেখানে মানুষের গড় আয়ু ৭৯ এবং শিল্পায়নের পরেও কিউবা আজ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় পৃথিবীর শীর্ষে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাকে নীতির সমন্বয় করতে হয়েছে। দ্বিমেরু বিশ্ব থেকে একমেরু কেন্দ্রিক পৃথিবীতে ঝড়ের মোকাবেলা করতে হয়েছে আর্থিক ব্যবস্থাপনার। কিন্তু সেই ঝড় তিনি মোকাবেলা করেছেন বুক চিতিয়ে নিজের ব্যক্তিত্বের ঢাল দিয়ে রক্ষা করেছেন তার রাষ্ট্র ও জাতিকে।

আজকের কিউবার উপরোক্ত অর্জনগুলো একদিনে আসেনি। দীর্ঘ প্রতিকূল পথ তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে আর্থিক ব্যবস্থাপনায়। কখনও সাফল্য এসেছে কখন বা ব্যর্থতা। কিন্তু ফিদেল ছিলেন নিজ লক্ষ্যে ধীর, স্থিও, অবিচল। নিজ জাতিকে যে মানবিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির বাণী তিনি শুনিয়ে ছিলেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা থেকে কোন সাম্রাজ্যবাদী বা অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র তাকে বিরত রাখতে পারেনি।

ক্যাস্ট্রোর যুদ্ধটি শুরু হয় মার্কিন সাম্র্রাজ্যবাদী পুতুল ব্যাটিস্টা উৎখাতের মধ্য দিয়ে। তারপর তিনি আঘাত হানতে শুরু করেন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আর্থিক স্বার্থে। মে ১৯৫৯ এ ব্যক্তিমালিকানার বিশেষ করেন আমেরিকানদের ভূসম্পত্তির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন। ১৯৬০-এ তিনি মার্কিন ও ব্রিটিশ রিফাইনারিগুলোর জন্য সোভিয়েত তেল গ্রহণের আদেশ জারি করেন।

তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি আইসেন হাওয়ার কিউবা থেকে নেয়া চিনির কোটা কমিয়ে দেন। এই সিদ্ধান্ত তাকে চূড়ান্তভাবে নির্ভরশীল করে তোলে সোভিয়েত আর্থিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের ওপর। শুরু হয় পরবর্তী অর্ধশতাব্দী ধরে চলা দ্বৈরথের। সোভিয়েত পতনের পরও যে যুদ্ধ থামেনি। সেই ১৯৬১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তিনি মার্কিনদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পর্যন্ত রাখেননি। বে অফ পিগস এ মার্কিন অনুপ্রবেশের ব্যর্থ চেষ্টার পর, ২ ডিসেম্বর ১৯৬১ তে ক্যাস্ট্রো প্রকাশ্য কমিউনিজমের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে দীর্ঘ বক্তৃতা শেষে বলেন, ও ধস ধ গধৎীরংঃ খবহরংঃ । এরপর থেকে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির ছোঁয়া লাগে কিউবায়। সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে উৎপাদিত সমগ্র চিনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। ৭০-এর দশকে এসে তিনি এককভাবে চিনি নির্ভরশীলতা ত্যাগ করে সুপার কাউ উৎপাদনে পদক্ষেপ নেন দুধ শিল্প বিকাশে। শিল্প জাতীয়করণসহ নাগরিক সুবিধার্থে পণ্যে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকির মতো পদক্ষেপ তিনি নিয়েছেন। সোভিয়েত পতনের পর আর্থিক সঙ্কটের মুখে তিনি ডলারকে বৈধতা দেন। পাশাপাশি কিছু কানাডীয় স্পাানিশ, ইতালীয়ান কোম্পানিকে বিনিয়োগের অনুমোদন দেন স্বদেশে। নিষেধাজ্ঞার কারণে তেল সঙ্কটে তিনি স্বদেশবাসীকে সাইকেল ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিছু ব্যক্তি মালিকানার ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানকেও ব্যবসার অনুমতি দেন। অর্থনীতিতে কিছুটা পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছিল তার সময়েই। আর তার উত্তরাধিকারী রাউল ও পরিবর্তনকে এগিয়ে নিতে চাচ্ছেন ক্যাস্ট্রোর আদর্শকে ধারণ করেই।

হাভানা বিজয়ের প্রথম দিনটি থেকে শেষদিন পর্যন্ত ১১ জন মার্কিন রাষ্ট্রপতির তরফ থেকে তিনি কেবল জীবন রক্ষার হুমকি মোকাবেলা করেননি, মোকাবেলা করেছেন তার দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র। কেবল তা নিয়েই রচিত হতে পারে আলাদা ইতিহাস, হবেও। সময়ের সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে ক্যাস্ট্রোর অর্থনীতিও আলোচিত হবে। কিন্তু এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, ১১ জন মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে তিনি মোকাবেলা করেছেন, ইতিহাস তাদের ভুলে যাওয়ার পরও ক্যাস্ট্রো বেঁচে থাকবেন হাজার বছর।

শীর্ষ সংবাদ:
১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড ॥ আমিনবাজারে ছয় ছাত্র হত্যা         যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত         এইচএসসি পরীক্ষা শুরু, ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী         ১৬ ডিসেম্বর শপথ করাবেন শেখ হাসিনা         আলেশা মার্টের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা         প্রয়োজনে ফের বন্ধ হতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ॥ দীপু মনি         কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যের বই         যানজটে বাজেটের ২০ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে         পাহাড় ও সমতলের ব্যবধান ক্রমেই কমছে         এবার বন্দুকযুদ্ধে প্রধান আসামি নিহত         খালেদাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেয়া হোক ॥ ফখরুল         একটি মহল শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে ফায়দা লুটতে চায়         ময়লার ট্রাকের ধাক্কায় এবার বৃদ্ধা আহত, চালাচ্ছিল হেলপার         ৭০ কারাকর্মকর্তা ও কর্মচারীর অর্থের খোঁজে দুদক         অভিবাসীরা বাংলাদশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে         বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শপথ পড়াবেন প্রধানমন্ত্রী         দাম কমল এলপি গ্যাসের         করোনা : গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৬১         ‘ওমিক্রন’: বিমানবন্দরে ল্যাবের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী         ঢাকার যানজটে বছরে জিডিপির ক্ষতি আড়াই শতাংশ