সোমবার ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ নভেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
প্রচ্ছদ
অনলাইন
আজকের পত্রিকা

সমালোচনা পছন্দ সি আর সেভেনের!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ তাকে নিয়ে মাতামাতি সবসময়। সেটা কারণে কিংবা অকারণে। স্বভাব অনেকটাই ফুটবল কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনার মতো। মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা। ফুটবলে নামডাকের কমতি নেই; রূপটাও আগুন ঝড়ানো। তাইতো মুহূর্তেই সুন্দরী রমণীরা তার বাহুডোরে আস্তানা গাড়তে ভিড় জমায়। হ্যাঁ, বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সুদর্শন যুবক পর্তুগীজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কথাই আলোকপাত করা হচ্ছে।

তবে রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ সুপারস্টার এই মুহূর্তে বেশ বিপাকে আছেন। কিছুতেই গোল পাচ্ছেন না। এই দুঃসময়ে এক সাক্ষাতকারে সি আর সেভেন জানিয়েছেন, সমালোচনাই তাকে সাফল্য পেতে সহায়তা করেছে। এটা সবারই জানা মাঠে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে রোনাল্ডো যেমন প্রশংসা কুড়ান, তেমনি বাজে ফর্মের জন্য সমালোচনাও সইতে হয়। পান থেকে চুন খসলেই সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হতে হয় পর্তুগাল অধিনায়ককে। মাঝে মধ্যে বেশ ক্ষেপেও যান সাংবাদিকদের ওপর। তবে নিন্দুকদের ছাড়া আবার থাকতেও পারেন না এ সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার। সমালোচনা সঙ্গী করেই নিজেকে আরও অনুপ্রাণিত করেন ভাল খেলার জন্য।

সাক্ষাতকারে এ প্রসঙ্গে রোনাল্ডো বলেন, নেতিবাচক মানুষজন আর অভিজ্ঞতাগুলো দিয়ে আমি নিজেকে অনুপ্রাণিত করি। আমার আসলে এই নিন্দুকদের দরকার। আমি যা কিছু অর্জন করেছি, তাতে এই নিন্দুক-সমালোচকদের একটা বড় ভূমিকা আছে। মাঠের লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিকে নিয়েও কথা বলেন রোনাল্ডো। তার মতে, এই দ্বৈরথটা সংবাদ মাধ্যমেই অনেক বড় আকারে দেখা যায়। ভাল বন্ধুত্ব না থাকলেও তারা একে-অপরকে শ্রদ্ধা করেন জানিয়ে সি আর সেভেন বলেন, আমাদের মধ্যে অনেক বড় একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, এমনটা গণমাধ্যমই অনেক বড় আকারে হাজির করেছে। কিন্তু ঘটনা তেমনটা নয়। আমরা খুব ভাল বন্ধু নই। কিন্তু আমাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আছে।

২০০২ সালে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরুর পর বিশ্বকাপ ছাড়া সম্ভাব্য সব শিরোপাই জিতেছেন রোনাল্ডো। তিনবার পেয়েছেন বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার। আর এর পেছনে নিন্দুক-সমালোচকদের একটা বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করেন রিয়াল তারকা। ২০০৮ সাল থেকে বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন মেসি ও রোনাল্ডো। মেসি জিতেছেন পাঁচবার। রোনাল্ডো তিনবার। ২০১৬ সালের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারটাও হয়তো উঠবে পর্তুগীজ এই তারকার হাতে। এ বছর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লীগের পাশাপাশি জিতেছেন ইউরো কাপ।

তবে স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদে আসার পর থেকে চলমান মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি গোলখরায় ভুগছেন রোনাল্ডো। চলমান ২০১৬-১৭ মৌসুমে স্প্যানিশ লা লিগার প্রথম ছয় ম্যাচ থেকে মাত্র দুই গোল করেছেন তিনি। অথচ ২০১৪-১৫ মৌসুমে এই সময়ের মধ্যেই অবিশ্বাস্যভাবে ১৩ গোল করেছিলেন ৩১ বছর বয়সী এই তারকা। এমনকি গত মৌসুমকে বিবেচনায় নিলে ইতোমধ্যেই পাঁচ পাঁচটি গোল করে ফেলেছিলেন সাবেক ম্যানইউ ফুটবলার। অথচ এবার সেই সংখ্যাটা মাত্র ২। এরচেয়ে বিস্ময়ের কথা, ঘরের মাঠ সান্টিয়াগো বার্নাব্যু থেকে সর্বশেষ চার ম্যাচেই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে রোনাল্ডোকে।

তবে দুঃসময়ের মধ্যে থাকলেও এবার ব্যালন ডি’অর রোনাল্ডোই জিতবেন বলে মনে করেন ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ফ্যাবিও ক্যানাভারো। ২০০৬ সালে ইতালিকে চতুর্থ বিশ্বকাপ এনে দেয়া ক্যানাভারো সাক্ষাতকারে বলেন, রোনাল্ডো যে ব্যালন ডি’অর খেতাব জয়ের দাবি রাখেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। বিগত কয়েকটি ম্যাচে কোন গোল আদায় না করলেও এক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা হবে না। গত মৌসুমে তিনি যা করে দেখিয়েছেন তা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।

শীর্ষ সংবাদ: