ঢাকা, বাংলাদেশ   রোববার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

কওমী শিক্ষা সনদ

প্রকাশিত: ০৫:২১, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬

কওমী শিক্ষা সনদ

সরকার স্বীকৃতি দিতে চাচ্ছে, কিন্তু জামায়াত ও ধর্ম ব্যবসায়ীরা তা চাইছে না। ফলে কওমী শিক্ষা সনদ পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কওমী মাদ্রাসাগুলো যেন মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ, যেখানে পৌঁছে না ইহজাগতিকতার সামান্য আলো। যদি পৌঁছত, তাহলে দেশের পনেরো হাজারের বেশি কওমী মাদ্রাসার লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কর্মজীবন অর্থনৈতিক দিক থেকে আরও সচ্ছলতা ও সমৃদ্ধির সন্ধান পেত, চাকরি বাকরির ক্ষেত্রে তারা বড় সুযোগ পেতে পারত। কিন্তু এই শিক্ষার্থীরা দেশের মূলধারার শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মতো কোন সরকারী চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ পায় না। কারণ কওমী মাদ্রাসাগুলোতে সরকার অনুমোদিত কোন পাঠ্যপুস্তক সিলেবাসে নেই। অনুমোদিত বোর্ডও নেই। ফলে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত সতেরোটি জাতীয় ও আঞ্চলিক বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে এসব মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে যে ডিগ্রী অর্জন করে, তা সরকারী স্বীকৃতি পায় না। অভিযোগ রয়েছে, কওমী মাদ্রাসাসহ সরকারী মাদ্রাসায় পড়ানো হচ্ছে মুসলমানদের মধ্যে একমাত্র নেতা মওদুদী, একমাত্র প্রতিষ্ঠান জামায়াতে ইসলামী। সংসদেও অভিযোগ আনা হয় যে, কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘বাংলাদেশের জন্ম’ প্রবন্ধে স্বাধীনতা দিবসের কোন তথ্য নেই। বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষা বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সরকারী অনুদানপুষ্ট অধিকাংশ মাদ্রাসাতেই এখন সীমিতভাবে হলেও বাংলা, ইংরেজী এবং বিজ্ঞান শিক্ষা প্রচলিত রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা শেষে অনুমোদিত ডিপ্লোমাপ্রাপ্ত স্নাতকদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভর্তির সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, কওমী মাদ্রাসা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়ে গেছে। বিগত এক দশকে রেজিস্টার্ড কওমী মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পনেরো হাজারেরও বেশি। কিছুটা অস্বাভাবিক এই বৃদ্ধি। কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নত করতে ২০১২ সালে সরকার সতেরো সদস্যের কওমী মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করে। তাদের সুপারিশের আলোকেই কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা সনদকে সরকারী স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে সংসদে বিল আনার আগেই সরকারবিরোধী ধর্ম ব্যবসায়ী দল জামায়াত, জমিয়তে ওলামাসহ হেফাজতে ইসলাম এই বিল উত্থাপনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। জামায়াত এক্ষেত্রে অপপ্রচার চালায় সরকারের বিরুদ্ধে। কওমী মাদ্রাসাকে যারা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন তারা বলেন, স্বীকৃতি দিলে মাদ্রাসায় আলেম ওলামার নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। কওমী মাদ্রাসা জামায়াত শিবির এবং জঙ্গীবাদ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে আসছে। কওমী মাদ্রাসাগুলোর সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পরিচালনায় বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিক দলের নেতারাও। তাই তারা কওমী মাদ্রাসাকে ব্যবহার করছেন তাদের অপরাজনীতির কাজে। একমুখী বিজ্ঞানভিত্তিক গণমুখী সর্বজনীন শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কওমী শিক্ষাকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করা দরকার। সময়ের মূল স্রোতাধারায় সংযুক্ত ও সমন্বিত করা জরুরী। কোন হীন রাজনৈতিক স্বার্থে এই শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা জাতির জন্য ক্ষতিকর। দেশবাসী চায় বিপুল জনগোষ্ঠী যেন আলোকিত হতে পারে সঠিক শিক্ষার আলোয়। তাই কওমী শিক্ষার বর্তমান অবস্থা থেকে উন্নততর করা জরুরী।